১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ইউক্রেইনে মস্কোর সব পদক্ষেপে ‘নিঃশর্ত সমর্থন’: ল্যাভরভকে কিম

ইউক্রেইন যুদ্ধের শেষ দুই বছরে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে।

ইউক্রেইনে মস্কোর সব পদক্ষেপে ‘নিঃশর্ত সমর্থন’: ল্যাভরভকে কিম
উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন ও রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভ। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 13 Jul 2025, 02:17 PM

Updated : 26 Aug 2026, 01:22 PM

উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উন রাশিয়ার শীর্ষ কূটনীতিক সের্গেই ল্যাভরভকে বলেছেন, ইউক্রেইন সংঘাত নিরসনে মস্কোর নেওয়া সব পদক্ষেপে ‘নিঃশর্ত সমর্থন’ দিতে তার দেশ প্রস্তুত। 

রোববার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম কিমের এই আশ্বাসের খবর দিয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।  

দুই দেশের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের কৌশলগত আলোচনা করতে তিন দিনের সফরে প্রতিবেশী দেশটিতে গিয়েছেন ল্যাভরভ। ইউক্রেইন যুদ্ধে রাশিয়াকে সহযোগিতায় পিয়ংইয়ং এরই মধ্যে সেনা ও অস্ত্র পাঠিয়েছে। তারা মস্কোকে আরও সামরিক সহায়তা দেওয়ারও আশ্বাস দিয়ে রেখেছে। 

উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চলীয় উপকূলীয় শহর ওনসানে ল্যাভরভের সঙ্গে দেখা করেন কিম। এখানেই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা তাদের দ্বিতীয় কৌশলগত আলোচনা সারেন এবং গত বছর স্বাক্ষরিত অংশীদারিত্ব চুক্তির আওতায় একে অপরকে আরও সহায়তার অঙ্গীকার করেন। ওই অংশীদারিত্বের মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তিও আছে। 

বৈশ্বিক ভূরাজনীতির বদলে যাওয়া প্রেক্ষাপটে মিত্রদের নেওয়া পদক্ষেপ বিশ্বজুড়ে শান্তি ও নিরাপত্তা রক্ষায় বড় অবদান রাখবে, কিম ল্যাভরভকে এ কথা বলেছেন বলে জানিয়েছে উত্তরের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কেসিএনএ। 

“ইউক্রেইন সংকটের মূলে থাকা সমস্যাগুলো নিরসনে রুশ নেতৃত্ব যেসব পদক্ষেপ নিচ্ছে, উত্তর কোরিয়া সেগুলোর প্রতি নিঃশর্ত সমর্থন ও উৎসাহ দিতে প্রস্তুত বলে কিম জং উন পুনরায় জোর দিয়ে বলেছেন,” বলেছে কেসিএনএ।

এর আগে ল্যাভরভ ওনসানে উত্তর কোরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী চোয়ে সন হুইয়ের সঙ্গে বৈঠক করেন এবং তাদের দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে উভয় দেশ একে অপরের জাতীয় সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতা রক্ষায় জোরাল সমর্থন দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে, জানিয়েছে উত্তরের সংবাদমাধ্যম। 

কিমের সঙ্গে বৈঠকে ল্যাভরভ দুই দেশের সম্পর্ককে ‘অপরাজেয় লড়াকু ভ্রাতৃত্ব’ হিসেবে অ্যাখ্যা দেওয়ার পাশাপাশি রাশিয়ায় সেনা পাঠানোয় উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতাকে ধন্যবাদ দিয়েছেন বলে শনিবার রুশ গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছিল। 

২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেইন যুদ্ধের শেষ দুই বছরে মস্কো ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে সম্পর্ক গাঢ় হয়েছে। রাশিয়ার সামরিক অভিযানে সহযোগিতার অংশ হিসেবে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও গোলাবারুদ পাঠানোর পাশাপাশি কুর্স্কে উত্তর কোরিয়ার ১০ হাজারের বেশি সেনা মোতায়েনের খবরও একাধিক পশ্চিমা গণমাধ্যমে এসেছে। 

কিমের সরকার রাশিয়ার ওই যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলটি পুনর্গঠনে ৬ হাজারের মতো সামরিক প্রকৌশলী ও নির্মাণকর্মী পাঠানোরও আশ্বাস দিয়েছে।