১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

ভোটে কোশি নদীতে ফের বন্যার প্রবল ঝুঁকি, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ

উত্তর নেপালের পাহাড়ি ভোটেকোশি নদীতে বুধবার আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়। এর জেরে তিব্বত সীমান্তের কাছে রসুয়া জেলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

ভোটে কোশি নদীতে ফের বন্যার প্রবল ঝুঁকি, বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশ
ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 27 Aug 2026, 09:22 PM

Updated : 16 Sep 2026, 05:11 PM

নেপাল-তিব্বত সীমান্তের ভোটে কোশি নদীতে গতিপথ বাধাগ্রস্ত হয়ে একটি হ্রদ তৈরি হওয়ায় ভাটির অঞ্চলে আবার প্রবল বন্যার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে যে, এই তথ্য নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে চীনের পক্ষ থেকে পাওয়া গেছে।

বুধবার তিব্বত সীমান্ত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং ভূমিধসের কারণে ভোটে কোশি নদীর উজানে হ্রদ তৈরি হয়। স্যাটেলাইট ছবি এবং প্রাথমিক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এই জমা হওয়া পানির হ্রদ আকারে ক্রমাগত বড় হচ্ছে।

হ্রদটি যে কোনও মুহূর্তে সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে নদীর নিম্নাঞ্চলে আবার তীব্র হড়পা বান নেমে আসতে পারে। এই ঝুঁকির মুখে ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদেরকে নদীর তীর ও অন্যান্য বিপজ্জনক এলাকা থেকে সরে যেতে বলা হয়েছে।

বৃহস্পতিবার স্থানীয় সময় বিকাল ৪:৪৬ মিনিটে জারি করা এক বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে নেপালের বন্যা পূর্বাভাস বিভাগ ভোটে কোশি নদীর ভাটি অঞ্চলের বাসিন্দাদের সরে যেতে বলার পাশাপাশি জরুরি উদ্ধার অভিযান এবং অন্যান্য জরুরি কার্যক্রমে জড়িত কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং ভ্রমণকারীদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে বলেছে।

একদিন আগেই ভোটে কোশি নদীতে প্রথম হড়পা বানে নেপালের রসুয়া ও নুয়াকোট জেলার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং বহু মানুষ নিহত ও নিখোঁজ হয়েছেন।

তিব্বত অংশে ভূমিধস বা তুষারধসের কারণে ভোটে কোশি নদীর প্রবাহ বন্ধ হয়ে অস্থায়ী হ্রদের সৃষ্টি হয়েছিল। সেই বাঁধের একটি অংশ ভেঙে বুধবার নেপালের রাসুয়া, নুওয়াকোট ও ধাদিং জেলায় প্রলয়ঙ্কারী হড়পা বানে এই ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

চীনের জলসম্পদ মন্ত্রণালয় প্রাথমিকভাবে চোছেন নদী এবং পুরেপু সাংপো নদীর সংযোগস্থলের কাছে একটি বড় ব্যারিয়ার লেক (প্রাকৃতিক বাঁধের ফলে সৃষ্ট হ্রদ) তৈরি হওয়ার কথা জানিয়েছিল।

চীনা গণমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে হ্রদটিতে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি জমা হয়েছিল।

যদিও হ্রদ থেকে পানি প্রবাহ শুরু হয়েছে, তবুও ধারণা করা হচ্ছে যে, আগামী তিনদিনে আরও ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এই হ্রদে প্রবেশ করবে। ফলে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধটি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা আছে।

পুরেপু সাংপো নদী তিব্বতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে এবং এটি ভোটে কোশি-ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার একটি গুরুত্বপূর্ণ উজানের উৎস। এই নদী রসুয়া হয়ে নেপালে প্রবেশ করেছে, যেখানে এটি ভোটে কোশি নদী নামে পরিচিত।

ওদিকে, চোছেন নদী নেপাল-চীন সীমান্ত বরাবর প্রবাহিত হয় এবং এটি ভোটে কোশি-ত্রিশূলী নদী ব্যবস্থার আরেক গুরুত্বপূর্ণ উপরিভাগের উপনদী।

বুধবার চীন-নেপাল সীমান্ত এলাকায় বিশাল ভূমিধসের ফলে নদীটি অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে এবং প্রাকৃতিক হ্রদ তৈরি হয় চোছেন ও পুরেপু সাংপো নদীর সংগমস্থলের কাছে।

কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং যসব জায়গা ক্ষতির মুখে পড়তে পারে সেসব এলাকার মানুষকে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছে।