১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার মুখে তেল ট্যাঙ্কার পাহারায় রাশিয়ার নৌবাহিনী

তেলবাহী ট্যাংকারটি বর্তমানে আইসল্যান্ড ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছে। এই ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইরানি তেল চালানের অভিযোগ রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের তৎপরতার মুখে তেল ট্যাঙ্কার পাহারায় রাশিয়ার নৌবাহিনী
বেলা১ ট্যাংকার। ছবি: রয়টার্স

নিউজ ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Jan 2026, 06:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:31 PM

আটলান্টিক মহাসাগরে একটি তেলবাহী ট্যাংকারকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে দেখা দিয়েছে উত্তেজনা। যুক্তরাষ্ট্রের তাড়া খাওয়া ওই তেল ট্যাংকার পাহারা দিতে সাবমেরিন ও নৌবাহিনীর অন্যান্য জাহাজ পাঠিয়েছে রাশিয়া।

তেলবাহী ট্যাংকারটি বর্তমানে আইসল্যান্ড ও ব্রিটিশ দ্বীপপুঞ্জের মাঝামাঝি এলাকায় অবস্থান করছে। এই ট্যাংকারে যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা ভেঙে ইরানি তেল চালান করার অভিযোগ রয়েছে। 

অতীতে এই ট্যাংকারে ভেনেজুয়েলার তেল বহন করা হত। তবে এ মুহূর্তে ট্যাংকারটি খালি বলে খবর পাওয়া গেছে। ট্যাংকারটির নাম আগে ছিল বেলা ১। পরে এর নাম বদলে মারিনেরা রাখা হয়। গায়ানার পতাকাবাহী ট্যাংকারটি পরে রুশ ট্যাংকারেও রূপান্তরিত হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প গতমাসে ভেনেজুয়েলা থেকে ছেড়ে আসা এবং ভেনেজুয়েলায় ঢোকা তল ট্যাংকারগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। এই পদক্ষেপকে চুরি আখ্যা দিয়েছিল ভেনেজুয়েলা সরকার।

এবার রাশিয়া তাদের তেল ট্যাংকাররকে পাহারায় রাখতে সাবমেরিন ও অন্যান্য নৌ জাহাজ পাঠিয়েঠে বলে সিবিএস নিউজকে জানিয়েছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা।

গত মাসে ক্যারিবীয় সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্ট গার্ড ট্যাংকারটিতে ওঠার চেষ্টা করেছিল। তাদের ধারণা ছিল, ট্যাংকারটি ভেনেজুয়েলার দিকে যাচ্ছে। তেল অবরোধ ভেঙে ভেনেজুয়েলার দিকে কোনও তেলবাহী জাহাজ এগুলে সেটি জব্দ করার জন্য ওয়ারেন্ট ছিল মার্কিন কোস্ট গার্ডের।

ওই সময় থেক তেল ট্যাংকারটি নাটকীয়ভাবে গতিপথ বদলেছে। ইউরোপের দিকে ট্যাংকারটি এগিয়ে চলার একই সময়ে অঞ্চলটিতে প্রায় ১০টি মার্কিন সামরিক পরিবহন বিমান ও হেলিকপ্টার উপস্থিত থাকার তথ্য মিলেছে।

 পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে রাশিয়া জানিয়েছে, তারা বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করছে। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলেছে, “আমাদের জাহাজ উত্তর আটলান্টিকের আন্তর্জাতিক জলসীমায় রুশ পতাকা নিয়ে আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক আইন মেনেই চলাচল করছে। 

“এই শান্তিপূর্ণ আগ্রযাত্রার পরও যুক্তরাষ্ট্র ও নেটো বাহিনী জাহাজটিকে এত বেশি গুরুত্ব কেন দিচ্ছে তা আমাদের কাছে স্পষ্ট না।”

 মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, পশ্চিমা দেশগুলো যদি সত্যিই সমুদ্রে চলাচলের স্বাধীনতায় বিশ্বাস করে, তবে তাদের সেই নীতির প্রতিফলন ঘটানো উচিত।