Published : 22 Dec 2022, 06:46 PM
ফুরিয়ে এসেছে ব্যাটারি , লাল গ্রহ মঙ্গলে একাকী অবসর জীবন শুরু করেছে নাসার ইনসাইট ল্যান্ডার।
মঙ্গল পৃষ্ঠের কম্পন চিহ্নিত করে সে তথ্য নাসার বিজ্ঞানীদের পাঠিয়েছে রোভারটি, ছবি তুলেছে মঙ্গলের ধূলিময় জগতের। সেই দায়িত্ব শেষে মঙ্গলে বুকেই অবসরে যাচ্ছে ইনসাইট; সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এর সোলার প্যানেলসহ বাকি সব যন্ত্রাংশ লাল ধুলায় ঢাকা পড়ে যাবে বলে জানিয়েছে নাসা।
ইনসাইটের এই শেষ পরিণতি সম্পর্কে জানা ছিল নাসার গবেষকদের। ইনসাইটকে সচল রাখার জন্য প্রয়োজনীয় বিদ্যুৎ শক্তি সরবরাহ করতো এর সোলার প্যানেল। কিন্তু মঙ্গলে পৌঁছে সোলার প্যানেলগুলো খুলে ধরার পর থেকেই তার ওপর ধুলো জমা শুরু করে।
সে পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে নাসা ধরেই নিয়েছিল যে এ বছরের গ্রীষ্মেই কার্যক্ষমতা হারিয়ে নিস্তজ হয়ে পড়বে ‘ইন্টেরিয়র এক্সপ্লোরেশন ইউজিং সাইসমিক ইনভেস্টিগেশন, জিওডাসি অ্যান্ড হিট ট্রান্সপোর্ট (ইনসাইট)’ ল্যান্ডার।
হঠাৎ অনুকূল আবহাওয়ার জেরে জীবনকাল কয়েক মাস বেড়েছিল মার্স ল্যান্ডারটির। কিন্তু সেই বাড়তি সময়টাও শেষ হয়ে এসেছে এখন। আর ইনসাইট যে জীবনকালের শেষ পর্যায়ে চলে এসছে সেই উপলব্ধির সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের প্রথম ল্যান্ডারটির টুইটার পেইজ থেকে নাসার পোস্টগুলোও আবেগঘন হতে থাকে বলে মন্তব্য করেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জ।
এক বিবৃতিতে নাসা জানিয়েছে, ইনসাইট ল্যান্ডার শেষবার পৃথিবীর সঙ্গে যোগাযোগ করেছে ১৫ ডিসেম্বর। তারপরেও ইনসাইটের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করেছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাটির প্রকৌশলীরা। কিন্তু ইনসাইটের কাছ থেকে কোনো সাড়া না আসায় ল্যান্ডারের ব্যাটারি ফুরিয়ে এসেছে বলে ধরে নিয়েছেন তারা।
ইনসাইটের অবসরের সঙ্গে সঙ্গে মঙ্গলের বুকে নাসার সবচেয়ে সফল অভিযানের সমাপ্তি হল বলে লিখেছে ভার্জ। ২০১৮ সালের মে মাসে উৎক্ষেপণের পর নভেম্বর মাসে মঙ্গলের বুকে অবতরণ করে ইনসাইট। মঙ্গল পৃষ্ঠের এক হাজারের বেশি কম্পন চিহ্নিত করেছে ল্যান্ডারটির সিসমোমিটার।
এর বেশিরভাগ খুবই দুর্বল হলেও এ বছরের শুরুতে রিখকার স্কেলে একটি ৫ মাত্রার কম্পন চিহ্নিত করেছিল ইনসাইট। ইনসাইটের পাঠানো তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে মঙ্গলের গঠন আরও ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করছেন মহাকাশ বিজ্ঞানীরা।
সিসমোমিটার থেকে অপ্রত্যাশিত সাফল্য পেলেও ভিন্ন একটি যন্ত্রাংশ নিয়ে বিপাকে পড়েছিল ইনসাইট। মঙ্গল পৃষ্ঠে গেঁথে যাওয়ার কথা ছিল হাতুড়ির মতো ‘মোল’-এর’; কিন্তু ইনসাইট যেখানে অবতরণ করেছে, সেখানকার মাটি নাসার বিজ্ঞানীদের প্রত্যাশার চেয়েও শক্ত হওয়ায় চেষ্টা করেও ‘মোল’ ব্যবহার করতে পারেনি ইনসাইট।
তারপরও, ইনসাইটের সার্বিক সাফল্য বিবেচনায় নিয়ে এ বছরের এপ্রিল মাসে মিশনের সময়সীমা বছরের শেষ নাগাদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয় নাসা।
ইনসাইটের অবসর প্রসঙ্গে মিশনের শীর্ষ কর্মকর্তা ব্রুস বেনার্ড বলেন, “গত চার বছরে ধরে আমরা ইনসাইটকে মঙ্গলে আমাদের বন্ধু ও সহকর্মী ভেবেছি, তাই বিদায় দেওয়াটাও কঠিন কাজ। কিন্তু অবসরের পুরোটাই অর্জন করে নিয়েছে ইনসাইট।”