চীনে যন্ত্রাংশ আর প্রযুক্তি রপ্তানিতে আরও কঠোর হচ্ছেন বাইডেন

আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কোম্পানিগুলোকে চিঠি পাঠিয়ে বিধিনিষেধ আরোপের কৌশল অবলম্বন করছে।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 12 Sept 2022, 02:16 PM
Updated : 12 Sept 2022, 02:16 PM

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে চীনে এআই চিপ এবং চিপ উৎপাদনের যন্ত্রাংশ রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞার পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা করেছে বাইডেন প্রশাসন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে রয়টার্স জানিয়েছে, সামনের মাসেই এ সংক্রান্ত নতুন ঘোষণা আসতে পারে। বছরের শুরুতেই তিনটি মার্কিন কোম্পানিকে আনুষ্ঠানিকভাবে চিঠি পাঠিয়ে চীনের সঙ্গে ব্যবসা করার ওপর বিধিনিষেধ দিয়েছে বাইডেন প্রশাসন।

ওই বিধিনিষেধের ভিত্তিতে নতুন নীতিমালা গঠনের পরিকল্পনা করেছে দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কেএলএ কর্পোরেশন, ল্যাম রিসার্চ গ্রুপ এবং অ্যাপ্লাইড ম্যাটিরিয়ালস ইনকর্পোরেটেড-এর ওপর আরোপিত বিধি-নিষেধের ভিত্তিতে নতুন নিয়ম তৈরির পরিকল্পনা আগে প্রকাশ করা হয়নি বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

সরকারী চিঠি পাওয়ার বিষয়ে কোনো লুকোছাপা করেনি কোম্পানিগুলো। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের লাইসেন্স ছাড়া চীনে চিপ উৎপাদনে ব্যবহৃত যন্ত্রাংশ রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞার কথা রয়েছে ওই চিঠিতে।

রয়টার্স জানিয়েছে, গত মাসে চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া এবং এএমডির ওপর আরোপিত বিধিনিষেধও নীতিমালার চেহারা নেবে।

একাধিক সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছে, চীন পণ্য ও প্রযুক্তি রপ্তানির ক্ষেত্রে বাইডেন প্রশাসন আরও বিধিনিষেধ দিতে পারে নতুন নীতিমালার মাধ্যমে। বিধিনিষেধের পরিধি আরও বড় হতে পারে এবং নতুন নীতিমালা প্রকাশের দিন তারিখ আরও পিছিয়ে যেতে পারে।

আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন নীতিমালা প্রণয়নের প্রক্রিয়া জটিল ও দীর্ঘ হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয় চিঠি পাঠিয়ে বিধিনিষেধ আরোপের কৌশল অবলম্বন করছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। কিন্তু এ কৌশলের সীমাবদ্ধতা হচ্ছে, যে কোম্পানিগুলো ওই চিঠি পাচ্ছে, বিধিনিষেধগুলো কেবল তাদের ওপরই প্রযোজ্য, জাতীয় পর্যায়ে নয়।

বিধিনিষেধগুলোকে আনুষ্ঠানিক নীতিমালার রূপ দিতে পারলে তা জাতীয় পর্যায়ে প্রযোজ্য হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের যে সকল প্রতিষ্ঠান একই ধরনের পণ্য ও প্রযুক্তি উৎপাদন করছে তাদের সবার ওপরই প্রযোজ্য হবে।

‘সেরেব্রাস’-এর মতো স্টার্টআপ এবং ইনটেল কর্পোরেশন একই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বাজারকে টার্গেট করছিল। ইনটেল বলছে, বর্তমান পরিস্থিতির ওপর কাছ থেকে নজর রাখছে তারা; আর আসন্ন নীতিমালা নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি সেরেব্রাস।

রয়টার্সকে এক সূত্র জানিয়েছে, যেসব পণ্যে বিধিনিষেধের অধীনে থাকা অত্যাধুনিক চিপ রয়েছে, সেসব পণ্য চীনে রপ্তানির ক্ষেত্রে লাইসেন্সের বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হতে পারে।

আসন্ন নীতিমালা প্রসঙ্গে রয়টার্সের কাছে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছে চিঠি পাঠিয়ে যে বিধিনিষেধ দেওয়া হয়েছে তার সবগুলোই নীতিমালা আকারে প্রকাশ করাই প্রচলিত রেওয়াজ বলে জানিয়েছেন তিনি।

প্রযুক্তি শিল্পের যে খাতগুলোয় যুক্তরাষ্ট্রের অধিপত্য রয়েছে, সে আধিপত্য ধরে রাখতে এবং চীনের অগ্রগতি থামাতেই বাইডেন প্রশাসন পরিকল্পিত পদক্ষেপগুলো নিচ্ছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

বাইডেন প্রশাসনের সাম্প্রতিক পদক্ষেপগুলো নিয়ে ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ জিম লিউইস বলেছেন, “কৌশলটি হচ্ছে চীনকে চাপে ফেলার এবং চিপ খাতকে একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে আবিষ্কার করেছেন তারা (যুক্তরাষ্ট্র)। তারা (চীন) এই জিনিসগুলো (এআই চিপ) বানাতে পারে না এবং উৎপাদন যন্ত্রাংশও বানাতে পারে না।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক