০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পুরনো লোগো বদলে নতুন রূপে হাজির জাগুয়ারের প্রথম ইভি

এর নিচু ছাদ, লম্বা হুড ও বক্রাকৃতির ফাস্টব্যাক ডিজাইন গাড়িটিকে ১৯৪০-এর দশকের এক ক্লাসিক ও অভিজাত গ্যাংস্টার চেহারা ফুটিয়ে তুলেছে।

পুরনো লোগো বদলে নতুন রূপে  হাজির জাগুয়ারের প্রথম ইভি

অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত গাড়িটি ‘টাইপ ০১’ নামে হাজির হয়েছে। ছবি: জাগুয়ার

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 08 Oct 2026, 04:43 PM

Updated : 08 Oct 2026, 04:43 PM

২০২৪ সালে নিজেদের ক্লাসিক লোগো বদলে এবং লম্বা ও নিচু গড়নের একটি বিতর্কিত টাইপ জিরো জিরো কনসেপ্ট গাড়ি এনে সবাইকে চমকে দিয়েছিল ব্রিটিশ বিলাসবহুল গাড়ি নির্মাতা কোম্পানি জাগুয়ার।

অবশেষে সেই বহুল প্রতীক্ষিত গাড়িটি ‘টাইপ ০১’ নামে বাজারের জন্য প্রস্তুত হয়ে হাজির হয়েছে। মূল কনসেপ্টটিকে সে সময় যা বেশ আকর্ষণীয় ও কিছুটা অদ্ভুত করে তুলেছিল, এর চূড়ান্ত রূপেও সেই একই ডিজাইন ধরে রেখেছে জাগুয়ার।

কোম্পানিটি বলেছে, নতুন ও আধুনিক চিন্তাধারার বিত্তশালী তরুণ ক্রেতাদের আকর্ষণ করার জন্য জেনেশুনেই এই বিতর্ক তৈরি করা হয়েছিল।

কনসেপ্ট গাড়িটির মতো ‘টাইপ ০১’ দেখতে অতটা দীর্ঘ না হলেও এটা এখনও ১৭.১ ফুট লম্বা, যা ‘রোলস রয়েস স্পেকটার’-এর চেয়ে সামান্য কম।

এর নিচু ছাদ, লম্বা হুড ও বক্রাকৃতির ফাস্টব্যাক ডিজাইন গাড়িটিকে ১৯৪০-এর দশকের ‘মার্কারি কুপ’-এর মতো এক ক্লাসিক ও অভিজাত গ্যাংস্টার চেহারা ফুটিয়ে তুলেছে।

এর সামনের ও পেছনের দিকটাও বেশ ব্যতিক্রমী। চ্যাপ্টা প্রোফাইলের সামনের অংশে রয়েছে এলইডি প্রজেক্টর হেডলাইট ও পেছনের জালের মতো কাঠামোয় পুরো অংশজুড়ে লুকিয়ে রাখা থাকা টেলিক্লাইট।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানের তথ্য অনুসারে, গাড়িটিতে পেছনের কোনো জানালা নেই ও এটা যুক্তরাজ্যের পার্কিং স্পেসের জন্য কিছুটা বেশিই দীর্ঘ।

তবে পেছনের জানালা না থাকায় সামনের উইন্ডশিল্ডের ঠিক নিচে থাকা স্ক্রিনে ফিড পাঠানোর জন্য এতে বিশেষ ক্যামেরা ব্যবহৃত হয়েছে।

এ ছাড়া, পেছনের চাকাগুলো ছয় ডিগ্রি পর্যন্ত ঘুরতে পারায় ৩৭ দশমিক ৭ ফুট টার্নিং সার্কেলের গাড়িটিকে যতটা ভাবা যায় তার চেয়ে সহজে নিয়ন্ত্রণ বা ম্যানুভার করা সম্ভব।

অপশনাল বা ঐচ্ছিক ২১ ইঞ্চি চাকাওয়ালা গাড়িটির ‘অ্যারোডায়নামিক ড্র্যাগ’ বা বায়ুর বাধা কেবল ০ দশমিক ২৩ সিডি।

জাগুয়ারের নতুন ডিজাইন হয়ত কিছু মানুষের ক্ষোভের গাড়ি হয়েছিল। তবে কোম্পানিটি শুরু থেকেই এটাকে সম্পূর্ণ মৌলিক ও তাক লাগানোর মতো একটি রূপ দিতে চেয়েছে।

নিউ ইয়র্কে গাড়ির উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে জাগুয়ারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাউডন গ্লোভার বলেছেন, “যিনি গাড়িটি কিনবেন, তিনি সাহসিকতার পরিচয় দিয়েই এই গাড়িটি বেছে নেবেন।

“বর্তমানে কোম্পানির বাজার পঞ্চাশোর্ধ্ব পুরুষদের নিয়ে তৈরি হলেও গাড়িটি অপেক্ষাকৃত তরুণ ও বিত্তশালী ক্রেতাদের আকর্ষণ করবে।”

গাড়ির ডিজাইন নিয়ে সবার মাতামাতি না থাকলে এর শক্তিশালী ইঞ্জিন বা পাওয়ারট্রেইন হয়ত আরও বেশি মনোযোগ কাড়ত।

৮৫০-ভোল্ট আর্কিটেকচার ও ১১৮ কিলোওয়াট-আওয়ার ব্যাটারির ‘টাইপ ০১’ গাড়িটি ডব্লিউএলটিপি স্ট্যান্ডার্ড অনুসারে, এক চার্জে ৭২৪ কিলোমিটার পর্যন্ত পথ চলতে পারে।

Image

এর সবকিছুই পরিচালিত হয় একটি ৭ ইঞ্চি কেন্দ্রীয় কনসোল ও ২৪ ইঞ্চির একটি বিশাল টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে। ছবি: জাগুয়ার

জাগুয়ারের দাবি, হাইওয়ের গতি ধরে রেখেও এটা এক চার্জে ৫১৪ কিলোমিটার পর্যন্ত চলবে। কেউ চাইলে এর চেয়েও দ্রুত গতিতে ছুটতে পারবেন।

গাড়িটির এর তিনটি ইলেকট্রিক মোটর (সামনে একটি ও পেছনে দুটি) ১ হাজার ১৬ হর্সপাওয়ার ও ১ হাজার ৭ পাউন্ড-ফিট টর্ক উৎপন্ন করতে পারে।

এ ব্যাপক শক্তি গাড়িটিকে কেবল ৩ দশমিক ২ সেকেন্ডে প্রতি ঘণ্টায় ০ থেকে ৯৭ কিলোমিটার গতি তুলতে সাহায্য করে।

টাইপ ০১-এ রয়েছে ডাবল-উইশবোন ফ্রন্ট ও ইন্টিগ্রাল-লিংক রেয়ার সাসপেনশন সিস্টেমের সঙ্গে ডায়নামিক এয়ার সাসপেনশন।

গাড়িটিতে জাগুয়ার, ডায়নামিক, এফিশিয়েন্ট, আইস অ্যান্ড স্নো ও কিউরেটেড নামের মোট পাঁচটি ড্রাইভ মোড রয়েছে, যার মধ্যে ডায়নামিক মোডটি সবচেয়ে স্পোর্টি।

এ ছাড়া গাড়িটিতে বায়ুপ্রবাহ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পাওয়ারট্রেইন ও ব্রেক ঠান্ডা করার জন্য সামনের অংশে অ্যাক্টিভ ভেন ও একটি তিন-পর্যায়ের অ্যাক্টিভ রিয়ার স্পয়লার, যা ১৬৫.৩ পাউন্ড ডাউনফোর্স তৈরি করতে এবং গাড়িটিকে ০.৫৯ ইঞ্চি নিচে নামাতে পারে।

গাড়ির ভেতরটা বড় হলেও এর ভেতরের জায়গা খুব বেশি প্রশস্ত নয়। কনসেপ্ট গাড়িটির মতো এর অভ্যন্তরীণ অংশেও একই ধরনের সাদামাটা ডিজাইন রেখেছে জাগুয়ার, যেখানে চালক ও যাত্রীকে আলাদা করে রেখেছে বড় এক কেন্দ্রীয় কম্পার্টমেন্ট।

স্টিয়ারিং হুইলের কিছু বাটন ছাড়া ফিজিক্যাল বা হাতের ছোঁয়া দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করার কোনো সুযোগ এখানে নেই বললেই চলে। এর সবকিছুই চলে একটি ৭ ইঞ্চি কেন্দ্রীয় কনসোল ও ২৪ ইঞ্চির একটি বিশাল টাচস্ক্রিনের মাধ্যমে।

নতুন জাগুয়ারের দাম ১ লাখ থেকে ১ লাখ ৫০ হাজার ডলারের কাছাকাছি হতে পারে। তবে গাড়িটি কবে নাগাদ বাজারে আসবে সে বিষয়ে কোম্পানিটি এখনও কিছু জানায়নি।

ফেরারি তাদের প্রথম ইভি ‘লুসে’র ক্ষেত্রে যেমনটি দেখেছে নতুন গাড়িটিও ক্রেতাদের আকর্ষণ ও বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে সমানে সমান অবস্থান করতে পারে।