২১ অক্টোবর ২০২৬, ০৬ কার্তিক ১৪৩৩

ডেটা সেন্টার জনপ্রিয় করতে চাইলে স্থানীয়দের লভ্যাংশ দিতে হবে: ট্রাম্প

“আমি পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো একটি এলাকায় ডেটা সেন্টার নিয়ে তীব্র সমালোচনা থাকলেও আর্থিক সমঝোতা হলে সেটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।”

ডেটা সেন্টার জনপ্রিয় করতে চাইলে স্থানীয়দের লভ্যাংশ দিতে হবে: ট্রাম্প

ডেটা সেন্টার পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 21 Oct 2026, 06:05 PM

Updated : 21 Oct 2026, 06:05 PM

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসারে ডেটা সেন্টারের চাহিদা বাড়ছে। তবে এসব কেন্দ্রের বিপুল বিদ্যুৎ ও পানির চাহিদা নিয়ে স্থানীয় পর্যায়ে অসন্তোষ তৈরি হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে ডেটা সেন্টার নির্মাতা কোম্পানিগুলোকে সংশ্লিষ্ট এলাকার বাসিন্দাদের আর্থিক সুবিধা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।

বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, কোনো এলাকায় ডেটা সেন্টার নির্মাণ নিয়ে তীব্র বিরোধিতা থাকলেও আর্থিক সমঝোতা হলে সেটি স্থানীয়দের কাছে জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারে। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

ট্রাম্প লেখেন, “আমি পুরো প্রক্রিয়াটি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছি। কোনো একটি এলাকায় ডেটা সেন্টার নিয়ে তীব্র সমালোচনা থাকলেও আর্থিক সমঝোতা হলে সেটি অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।”

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে ডেটা সেন্টার। তবে এসব কেন্দ্র পরিচালনায় বিপুল পরিমাণ পানি ও বিদ্যুৎ প্রয়োজন হয়। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন এলাকায় বিরোধিতা বাড়ছে। রাজনৈতিক মতাদর্শে ভিন্ন অবস্থানে থাকা ভোটাররাও এ বিরোধিতায় অনেকটাই জোটবদ্ধ।

চীনের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন। তবে ডেটা সেন্টার নিয়ে ভোটারদের মনোভাব বদলে যাওয়ার বিষয়টিও প্রশাসনের নজরে এসেছে।

ট্রাম্পের ভাষ্য, নতুন ও বড়, এমনকি কিছু ক্ষেত্রে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টারকে নিজেদের বিদ্যুতের ব্যবস্থা করতে হবে। এসব কেন্দ্রের উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্থানীয় জনগোষ্ঠী বা বিদ্যুৎ গ্রিডে সরবরাহ কিংবা বিক্রি করতে হবে।

তিনি লেখেন, “নতুন ও বড়, কিছু ক্ষেত্রে বিশাল আকারের ডেটা সেন্টারগুলোকে নিজেদের বিদ্যুৎ উৎপাদনের ব্যবস্থা করতে হবে বলে আমি নির্দেশ দিয়েছি। উৎপাদিত অতিরিক্ত বিদ্যুৎ স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে দিতে হবে অথবা তাদের কাছে কিংবা বিদ্যুৎ গ্রিডে বিক্রি করতে হবে।”

এর আগে গত ফেব্রুয়ারিতে ট্রাম্প বলেছিলেন, বড় প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে ডেটা সেন্টারের জন্য নিজস্ব বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করতে হবে। এর উদ্দেশ্য ছিল বিদ্যুতের বাড়তি বিল থেকে সাধারণ গ্রাহকদের সুরক্ষা দেওয়া।

এদিকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের আয় ও সম্পদের একটি অংশ জনকল্যাণে ব্যবহারের পরিকল্পনা সামনে এনেছে এ খাতের দুই বড় নাম অ্যানথ্রপিক ও ইলন মাস্ক।

ক্লড মডেলের নির্মাতা অ্যানথ্রপিক গত সপ্তাহান্তে বলেছে, জনকল্যাণে গঠিত নতুন একটি তহবিলে তারা কোম্পানির শেয়ারের পাঁচ শতাংশ দেবে।

অন্যদিকে, সোমবার ইলন মাস্ক যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি শিশুকে একটি করে স্পেসএক্সের শেয়ার দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। দ্রুত সম্প্রসারিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতের কার্যক্রম নিয়ে জনসাধারণের নজরদারি বাড়ার মধ্যে এ ধরনের সরাসরি সম্পদ বণ্টনের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন তিনি।