গুজব ছড়িয়ে গণতন্ত্রের ক্ষতি করছে সামাজিক মাধ্যম: জরিপ
২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ‘খারাপ দিক’ হিসেবে দেখা বা মনে করা মানুষের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে।
গণতন্ত্রের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বড় হুমকি হয়ে উঠছে, বিশেষ করে উন্নত দেশগুলোর মানুষের মধ্যে এই সংশয় ও অনাস্থা বেশি তীব্র বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে।
বিশ্বজুড়ে ক্রমাগত উদ্বেগ ও কঠোর নজরদারির রেশ ধরে ‘পিউ রিসার্চ সেন্টার’ বলেছে, বেশিরভাগ মানুষ মনে করেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে নিয়ন্ত্রণ ও বিভক্ত করছে এবং গণতন্ত্রের ক্ষতি করছে।
মেটা, স্ন্যাপ ও টিকটকের মতো জনপ্রিয় সামাজিক মাধ্যম কোম্পানিগুলো ব্যবহারকারীদের ক্ষতি করার অভিযোগে হাজার হাজার মামলার মুখে পড়েছে এবং মামলা নিষ্পত্তির জন্য মোটা অংকের দণ্ডও দিচ্ছে।
পাশাপাশি, বিভিন্ন দেশের সরকারও নাগরিকদের প্রাইভেসি সুরক্ষার জন্য সুনির্দিষ্ট ও কার্যকর উপায় খুঁজছে।
১৬ বছরের কম বয়সিদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিষিদ্ধ করা প্রথম দেশ হওয়ার পর এবার ব্যবহারকারীদের ‘অ্যালগরিদমিকালি রেকমেন্ডেশন ফিডস’ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সুযোগ দিতে নতুন নিয়ম প্রস্তাব করেছে অস্ট্রেলিয়া।
এদিকে, পিউ-এর সাম্প্রতিক জরিপে উঠে এসেছে, শিশুদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রবেশ সীমিত করার সরকারি এ পদক্ষেপের পক্ষে রয়েছে ৮২ শতাংশ অস্ট্রেলীয় প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক।
জরিপে বলা হয়েছে, অধিকাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম মানুষকে তথ্য ও রাজনীতিতে তাদের মতামত প্রকাশের সুযোগ করে দিয়েছে।
তবে, ২০২২ সালের তুলনায় বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে ‘খারাপ দিক’ হিসেবে দেখা বা মনে করা মানুষের সংখ্যা ব্যাপকহারে বেড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও যুক্তরাজ্যের মতো ধনী দেশগুলোর মানুষের মধ্যে ধারণাটি প্রবল যে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গণতন্ত্রের ক্ষতি করছে।
বিপরীতে, ঘানা, কেনিয়া ও নাইজেরিয়ার মতো তুলনামূলক কম মাথাপিছু জিডিপিওয়ালা অর্থনীতির মানুষের মধ্যে এই সংশয় অনেকটাই কম।
এ বিষয়ে সবচেয়ে বেশি সংশয়বাদী দেশগুলোর একটি যুক্তরাষ্ট্র।
দেশটির প্রাপ্তবয়স্ক উত্তরদাতাদের ৬৪ শতাংশই মনে করেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর।
পুরনো ডেটা পাওয়া গেছে এমন ২৬টি দেশের মধ্যে ১৬টিতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে গণতন্ত্রের জন্য ক্ষতিকর বলে মনে করা মানুষের হার বেড়েছে।
পিউ রিসার্চ সেন্টার বলেছে, তারা ৩৭টি দেশের ৪৫ হাজারেরও বেশি মানুষের ওপর এ জরিপ পরিচালনা করেছে।
পাশাপাশি, আমেরিকার সামাজিক মাধ্যমের ব্যবহার নিয়ে আলাদাভাবে আরও ৫ হাজার ৫১১ জন প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিকের মতামত নিয়েছে।
