‘জুয়ার কলঙ্ক’ মুছতে যুক্তরাজ্য ও ইইউ দুয়ারে পলিমার্কেট
ইইউর বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রে জুয়া সংক্রান্ত আইন আলাদা হওয়ায় এককভাবে পুরো অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করা পলিমার্কেটের জন্য জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
জুয়া আইনের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হয়ে নিজেদের আনুষ্ঠানিক আর্থিক সেবা দানকারী কোম্পানি হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বা ইইউ ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থার সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পলিমার্কেট।
ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস প্রতিবেদনে লিখেছে, পলিমার্কেটের এ কূটনৈতিক ও আইনি প্রচেষ্টা সফল হলে স্পেন ও ফ্রান্সে প্ল্যাটফর্মটির ওপর বহাল থাকা বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা সম্ভব হবে বলে ধারণা সংশ্লিষ্টদের।
পলিমার্কেট হচ্ছে ‘প্রেডিকশন মার্কেট’ বা ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজার ওয়েবসাইট।
প্ল্যাটফর্মটি ব্যবহারকারীদের নির্বাচন, বিভিন্ন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা ও টুর্নামেন্ট, চলচ্চিত্রের বক্স অফিস রিলিজ এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের মতো বাস্তব বিশ্বের ভবিষ্যতের বিভিন্ন ঘটনার ফলাফলের ওপর অর্থ বাজি ধরার সুযোগ দেয়।
এফটি’র প্রতিবেদন অনুসারে, ইউরোপীয় কমিশন ও ‘ইউরোপিয়ান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি’ বা ইএসএমএ-এর সঙ্গে নিবিড় আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে পলিমার্কেট।
তাদের উদ্দেশ্য হল, সংস্থাগুলো যেন প্ল্যাটফর্মটিকে প্রচলিত জুয়া আইনের পরিবর্তে ‘মার্কেটস ইন ফিন্যান্সিয়াল ইনস্ট্রুমেন্টস ডিরেক্টিভ’ আইনের অধীনে নিয়ন্ত্রণ করতে রাজি হয়। আইনটি বিনিয়োগ সেবার জন্য নির্ধারিত মানসম্মত অভিন্ন বিধিমালা, যা ইইউভুক্ত দেশগুলোতে কার্যকর রয়েছে। ইইউর বিভিন্ন সদস্য রাষ্ট্রে জুয়া সংক্রান্ত বিভিন্ন আইন ভিন্ন ভিন্ন হওয়ায় এককভাবে পুরো অঞ্চলে ব্যবসা পরিচালনা করা পলিমার্কেটের জন্য জটিল হয়ে দাঁড়িয়েছে। আর্থিক সেবার লাইসেন্স পেলে এ আইনি জটিলতা অনেকটাই কাটতে পারে।
কেবল ইউরোপীয় ইউনিয়নই নয়, যুক্তরাজ্যের আর্থিক সেবা খাত ও বাজারের প্রধান নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি’ বা এফসিএ-এর প্রধান নির্বাহী নিখিল রাঠির সঙ্গেও পলিমার্কেটের প্রতিনিধিরা বৈঠক করেছেন। যুক্তরাজ্য ও ইউরোপের বাজারে নিজেদের অবস্থান শক্ত করতে ও আইনি বৈধতা পেতে কোম্পানিটির এ তৎপরতা নতুন মাত্রা যোগ করেছে। জুয়া খেলার লাইসেন্স ছাড়াই কার্যক্রম পরিচালনার আইনি বৈধতা নিয়ে তদন্তের অংশ হিসেবে মে মাসে স্পেন পলিমার্কেট ও কালশি উভয় প্ল্যাটফর্মকেই দেশটিতে ব্লক করেছে। এর ধারাবাহিকতায় জুলাইয়ে ফ্রান্সের পক্ষ থেকেও স্থানীয় ‘ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার’ বা আইএসপিগুলোকে তাদের দেশে পলিমার্কেটের অ্যাক্সেস ব্লক করার নির্দেশ দেওয়া হয়। বর্তমান নিয়ম অনুসারে, ইউরোপীয় ইউনিয়নের দেশগুলোতে কার্যক্রম চালাতে হলে পলিমার্কেটের জন্য জুয়ার লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক। অন্যদিকে, এর আগে যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা এফসিএ বলেছিল, ‘আর্থিক বা নির্দিষ্ট কিছু জলবায়ু সংক্রান্ত ইভেন্ট’ নিয়ে ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজার তদারকি করার সক্ষমতা তাদের থাকলেও রাজনৈতিক ফলাফল ও খেলাধুলা নিয়ে ট্রেডিংয়ের সুযোগ দেওয়া প্ল্যাটফর্মগুলো জুয়া কমিশনের এখতিয়ারের মধ্যেই পড়বে। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদন অনুসারে, ভবিষ্যদ্বাণীমূলক বাজারের ক্ষেত্রে ইইউ-এর নিয়ম শিথিল করার বিষয়ে ‘ইউরোপিয়ান সিকিউরিটিজ অ্যান্ড মার্কেটস অথরিটি’ বা ইএসএমএ-এর তেমন কোনো আগ্রহ দেখা যাচ্ছে না। সম্প্রতি সংস্থাটি এক সতর্কতা জারি করে বলেছে, এসব বাজার ‘ইনসাইডার ট্রেডিং বা ভেতরের তথ্য পাচারের ঝুঁকিতে ভরপুর’। গেল কয়েক মাসের মধ্যেই একজন গুগল কর্মী, তিনজন রাজনৈতিক প্রার্থী ও একজন হোয়াইট হাউস কর্মীকে এসব প্ল্যাটফর্মে ইনসাইডার তথ্যের ভিত্তিতে ট্রেডিংয়ের সময় হাতেনাতে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি, পলিমার্কেটের বিরুদ্ধে সামাজিক মাধ্যম ইনফ্লুয়েন্সারদের অর্থ দিয়ে ভুয়া বেটিং বা বাজির ভিডিও বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রচার করানোর অভিযোগও রয়েছে। এর আগে, মার্কিন বাণিজ্য প্রকাশনা ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রতিবেদন লিখেছিল, ওইসব ভুয়া ভিডিওতে যেসব ‘জয়ী’ বাজির কথা দেখানো হয়েছিল তার অর্ধেকই বাস্তবে হেরে যেত।
