ক্রিপ্টোর জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা চায় জার্মানি
“স্বনিয়ন্ত্রিত জগৎটা আমাদের দেখা হয়ে গেছে। এটা কাজ করবে না,” মঙ্গলবারেই ফ্র্যাঙ্কফুর্টে সংবাদকর্মীদের কাছে এই বক্তব্য দিয়েছেন জার্মানির বাজারনিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রধান।
বৈশ্বিক ক্রিপ্টো মুদ্রা শিল্পের জন্য আন্তর্জাতিক নীতিমালা গঠনের ডাক দিয়েছে জার্মানি। এ শিল্পখাতটিকে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাঘরের মত’ বাড়তে দেওয়া ভুল সিদ্ধান্ত ছিল বলে আক্ষেপ করেছেন এক জার্মান কর্মকর্তা।
বছর জুড়ে ক্রিপ্টো বাজারে মন্দা এবং এফটিএক্সের মতো একাধিক ক্রিপ্টো এক্সেচেঞ্জ ধসের পর সেবাগ্রাহকদের রক্ষা করতে, অর্থ পাচার ঠেকাতে এবং আর্থিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করতে এক জার্মান কর্মকর্তার আন্তর্জাতিক বিধিমালা গঠনের ডাক উঠে এসেছে বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে।
ক্রিপ্টো বাজারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে জার্মানির বাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাফিনের প্রেসিডেন্ট মার্ক ব্র্যানসনের মত, এ উদীয়মান শিল্প খাতে হস্তক্ষেপ না করে ‘প্রাপ্তবয়স্কদের খেলাঘর’ হিসেবে বেড়ে উঠতে দেওয়ার কৌশল শুরু থেকেই ভুল ছিল।
“স্বনিয়ন্ত্রিত জগৎটা আমাদের দেখা হয়ে গেছে। এটা কাজ করবে না,” মঙ্গলবারেই ফ্র্যাঙ্কফুর্টে সংবাদকর্মীদের কাছে এই বক্তব্য দিয়েছেন ব্র্যানসন।
মার্কিন আইনজীবীরা ক্রিপ্টো এক্সচেঞ্জ এফটিএক্সের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ব্যাঙ্কম্যান-ফ্রিডের বিরুদ্ধে সেবাগ্রাহকদের তহবিল তসরুপের অভিযোগ তোলার পরপরই এ বক্তব্য দিলেন ব্যানসন। ব্যাঙ্কম্যান-ফ্রিড কেবল আর্থিক লেনদেনের আইনই ভঙ্গ করেননি; এফটিএক্স ধসকে যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের বৃহত্তম আর্থিক জালিয়াতির ঘটনা বলেও আখ্যা দিচ্ছেন অনেকে।
এ শিল্পখাতের চলতি বছরের দুরবস্থাকে ‘ক্রিপ্টো উইন্টার’ বলে বর্ণনা করছেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর ‘ক্রিপ্টো স্প্রিং’ বা শিল্পখাতে বসন্তের হাওয়ার বইলেও তার সঙ্গে প্রচলিত আর্থিক ব্যবস্থার সংশ্লিষ্টতা বাড়বে বলে মত ব্র্যানসনের; তাই এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বিধিমালার প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে বলে মনে করেন তিনি।
“কঠোর ক্রিপ্টো মুদ্রা নীতিমালা গঠনের এটাই সময়।”
“সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, এতে কেবল ইউরোপিয়ান অংশগ্রহণ যথেষ্ট নয়। এর আন্তর্জাতিক সমাধান প্রয়োজন,” সংবাদকর্মীদের বলেছেন তিনি।
ক্রিপ্টো খাত নিয়ে নীতিমালা বরাবরই ঢিলেঢালা এবং জোড়াতালি দেওয়া ছিল বলে লিখেছে রয়টার্স।
জার্মানিতে ক্রিপ্টো মুদ্রা লেনদেনের জন্য বিশেষ লাইসেন্স লাগে ব্যাংকগুলোর। অন্যদিকে, নতুন ‘মার্কেটস ইন ক্রিপ্টো অ্যাসেটস রেগুলেশন (মিকা)’ নীতিমালা নিয়ে কাজ করছে ইউরোপিয়ার ইউনিয়ন। ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রেসিডেন্ট ক্রিস্টিন লাগার্ডের মতে, ভবিষ্যতে এই নীতিমালার পরিধিও বাড়াতে হবে।
রয়টার্স লিখেছে, ক্রিপ্টো খাত নিয়ে আগে থেকেই সন্দেহপ্রবণ ব্র্যানসন; গত মাসেই এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “ক্রিপ্টো খাতের সকল ব্যবসা কাঠামো গুরুত্ববহ কিছু নয়।”
“উদ্ভাবনী শক্তির ঢেউয়ের সঙ্গে অসাধু ব্যক্তি আর মুফতে খাওয়া লোকজনের উপস্থিতিও যে বাড়ে, তা তো আমরা জানিই।”
