স্পেসএক্স রকেটে প্রথম অরবিটাল স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে ভারত
এ স্যাটেলাইটের মূল লক্ষ্য পৃথিবীতে ডেটা না পাঠিয়ে সরাসরি মহাকাশেই তা প্রক্রিয়াকরণ করা।
মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে চলেছে ভারত। দেশের প্রথম অরবিটাল কম্পিউটিং স্যাটেলাইট মহাকাশে উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা নিয়েছে ভারতের মহাকাশভিত্তিক এক স্টার্টআপ।
আগামী ১ অক্টোবর ইলন মাস্কের মহাকাশ গবেষণা কোম্পানি স্পেসএক্সের একটি রকেটের মাধ্যমে স্যাটেলাইটটি উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের প্রযুক্তি কোম্পানি ‘টেকমিটুস্পেস’-এর।
এ স্যাটেলাইটের মূল লক্ষ্য পৃথিবীতে ডেটা না পাঠিয়ে সরাসরি মহাকাশেই তা প্রক্রিয়াকরণ করা বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
কোম্পানিটির তৈরি ‘এমওআই-১এ’ মহাকাশযানটি ৫০ কেজির কম ওজনের একটি স্যাটেলাইট। এতে সংযোগ রয়েছে উচ্চসক্ষমতাওয়ালার ‘এনভিডিয়া অরিজিন এনএক্স’ এজ-কম্পিউটিং প্রসেসর।
স্পেসএক্সের ‘ট্রান্সপোর্টার-১৮’ রাইডশেয়ার মিশনের মাধ্যমেই স্যাটেলাইটটি মহাকাশে উৎক্ষেপিত হবে।
সোমবার টেকমিটুস্পেস এক ঘোষণায় বলেছে, এ ঐতিহাসিক মিশনের জন্য তারা এরইমধ্যে ২৩ জন গ্রাহকের সঙ্গে চুক্তি করেছে। গ্রাহক তালিকার মধ্যে রয়েছে ভারতের বিভিন্ন ভৌগোলিক তথ্য ব্যবস্থা পরিচালনাকারী কোম্পানি ও স্বনামধন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।
‘টেকমিটুস্পেস’-এর প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী রোনাক সামানত্রয় বলেছেন, তাদের বাণিজ্যিক ব্যবহারকারীদের পরিধি বেশ বিস্তৃত। যার মধ্যে কৃষি, খনিজ সম্পদ বা মাইনিং, সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট ও বীমা খাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ শিল্প রয়েছে।
তাদের অন্যতম গ্রাহক হিসেবে এ পরিকল্পনায় যোগ হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মহাকাশ ডেটা অ্যানালিটিক্স ফার্ম ‘লিটল প্লেস ল্যাবস’ও।
এ স্যাটেলাইটের কার্যপদ্ধতি সম্পর্কে সামানত্রয় বলেছেন, গ্রাহকরা চাইলেই স্যাটেলাইটে কনটেইনারাইজড কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই মডেল আপলোড করতে পারবেন।
নির্দিষ্ট কোনো এলাকার ওপর দিয়ে পেরনোর সময় স্যাটেলাইটটি তাৎক্ষণিকভাবে ডেটা প্রসেস করতে পারবে। এরপর পুরো ডেটাসেট পৃথিবীতে পাঠানোর পরিবর্তে কেবল প্রয়োজনীয় বিশ্লেষণ বা ফলাফল পাঠাবে।
“যেসব গ্রাহক আমাদের প্রথম প্রজন্মের স্যাটেলাইটে সুফল দেখছেন তারাই ডেটা ডাউনলোডের পর তা প্রসেস করার পেছনে অর্থ খরচ করছিলেন। ডেটা ডাউনলোড না করার কারণে যে খরচ বাঁচে তা মহাকাশে কম্পিউটিংয়ের জন্য তাদের দেওয়া অতিরিক্ত খরচ পুষিয়ে দেয়।”
মহাকাশযানটি প্রচলিত কোনো ডেটা সেন্টারের মতো নয়, বরং এটা ‘অনবোর্ড এজ-কম্পিউটিং স্যাটেলাইট’। যার মানে, এ স্যাটেলাইটের ভেতরেই শক্তিশালী কম্পিউটার প্রসেসর বা চিপ লাগানো থাকে।
সামানত্রয় বলেছেন, মহাকাশযানটির শক্তি প্রায় ১৫০ ওয়াট। এর বিপরীতে, স্পেসএক্স ও স্টারক্লাউডের মতো কোম্পানিগুলো পৃথিবীর বুকে ব্যবহৃত ডেটা সেন্টারে ব্যবহৃত আরও উন্নত এনভিডিয়া চিপ মহাকাশে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে।”
টেকমিটুস্পেসের সুদূরপ্রসারী পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে বড় আকারের ও নেটওয়ার্কওয়ালা স্যাটেলাইট তৈরি করা, যা একসঙ্গে একাধিক গ্রাহককে সেবা দিতে পারবে।
এর আগে, ২০২৪ সালের শেষদিকে স্টার্টআপটির এক প্রযুক্তি-প্রদর্শন মিশনে অ্যাপ্লিকেশনে ডেটা আপলোড, মহাকাশেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ইনফারেন্স বা অনুমিত ফল তৈরি ও ফলাফল ডাউনলোড করার সক্ষমতা তারা সফলভাবে যাচাই করেছিল।
তবে রকেটের তৃতীয় ধাপের ত্রুটির কারণে এর পরবর্তী স্যাটেলাইট ‘এমওআই-১’ হারিয়ে যায়।
টেকমিটুস্পেস আর্থিক সেবা ও প্রতিরক্ষা খাতের গ্রাহকদের টার্গেট করে গুরুত্বপূর্ণ ডেটার জন্য মহাকাশে কোল্ড স্টোরেজ বা নিরাপদ সংরক্ষণ ব্যবস্থা চালুর লক্ষ্যও নির্ধারণ করেছে।
প্রচলিত ক্লাউড সরবরাহকারীদের বাইরে এসব গ্রাহকরা অতিরিক্ত ব্যাকআপ বা নিরাপদ সংরক্ষণের স্থান খুঁজছেন।
কোম্পানিটি বলেছে, তারা ভারতের ভেতরেই বেশিরভাগ স্যাটেলাইট সাবসিস্টেম বা উপ-ব্যবস্থা নকশা ও তৈরি করে থাকে। তবে চিপ, সোলার সেল ও প্রপালশন ব্যবস্থা বাইরে থেকে সংগ্রহ করে।
কম্পিউটিং ক্ষমতা বৃদ্ধি ও খরচ কমানোর লক্ষ্য নিয়ে তারা ২০২৭ সাল থেকে আরও বড় আকারের স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণের পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।
