১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

জেনারেটিভ এআই ‘ভয়ংকর’: জেমস ক্যামেরন

উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরেও জেনারেটিভ এআইয়ের পক্ষে নন বলে জানিয়ে দিলেন হলিউডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নির্মাতা ক্যামেরন।

জেনারেটিভ এআই ‘ভয়ংকর’: জেমস ক্যামেরন
অ্যাভাটার সিনেমার সেটে জেমস ক্যামেরন। ছবি: টোয়েন্টিয়েথ সেঞ্চুরি ফক্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 01 Dec 2025, 05:15 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:14 PM

ভিজুয়াল ইফেক্ট প্রযুক্তির দুনিয়ায় নতুন দুয়ার খুলে দিয়েছেন জেমস ক্যামেরন, বিশেষ করে পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তির জাদুতে অ্যাভাটার সিরিজের সিনেমার নীলাভ বিভিন্ন চরিত্র যেন কল্পনার আঁচড়ে জীবন্ত হয়ে উঠেছে আমাদের কাছে।

সবচেয়ে আধুনিক ভিজুয়াল ইফেক্টসের ব্যবহার ক্যামেরনের সিনেমায় একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য, যেখানে অ্যাভাটার সিরিজের কথা আসবেই। আর একটু বেশিদিন ধরে যারা এই পৃথিবীতে আছেন, তারা বলবেন টার্মিনেটরের কথা।

তবে এত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহারের পরও জেনারেটিভ এআইয়ের পক্ষে নন বলে জানিয়ে দিলেন হলিউডে একের পর এক ‘ব্লকবাস্টার হিট’ সিনেমা উপহার দেওয়া এই নির্মাতা।

তার আসন্ন সিনেমা ‘অ্যাভাটার: ফায়ার অ্যান্ড অ্যাশ’-এর মুক্তির আগে আমেরিকান সংবাদ মাধ্যম সিবিএস-এর ‘সানডে মর্নিং’-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এআই নিয়ে কথা বলেছেন সিনেমাটির নির্মাতা, যেখানে এআইয়ের কাজকে ‘ভয়ংকর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।

‘টাইটানিক’ ও ‘অ্যাভাটার’সহ সর্বকালের সবোর্চ্চ আয় করা চারটি চলচ্চিত্রের মধ্যে তিনটিরই পরিচালক ক্যামেরন। তিনি বলেছেন, ‘পারফরম্যান্স ক্যাপচার’ মানে, যেখানে একজন অভিনেতার অভিনয় রেকর্ড করে ডিজিটাল শিল্পীদের জন্য একটি ছাঁচ তৈরি করা হয়, যা শুনতে জেনারেটিভ এআইয়ের মতোই লাগতে পারে। তবে বাস্তবে বিষয়টি ‘একেবারে ভিন্ন’।

“কয়েক বছর ধরে মানুষের মনে ধারণা ছিল, কম্পিউটার দিয়ে আমরা অদ্ভুত কিছু করছি, যেখানে অভিনেতাদের প্রয়োজন ফুরিয়ে যাচ্ছে। তবে, আপনি যদি গভীরভাবে চিন্তা করেন তাহলে দেখবেন, আমরা আসলে কী করছি।

“কারণ পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তি অভিনেতাদের বদলে দিচ্ছে না, বরং অভিনেতার দক্ষতা ও পরিচালকের ভাবনাকে একত্র করে নতুন এক শিল্প তৈরি করছে, যা আসলে অভিনেতা ও পরিচালকের যৌথ সৃজনশীল মুহূর্তেরই উদযাপন।”

সিবিএস-এর অনুষ্ঠানে ‘অ্যাভাটার’ সিনেমা তৈরির কিছু অংশও দেখানো হয়েছে। যাতে দেখা গিয়েছে, পানির নিচের বিভিন্ন দৃশ্য ধারণ করতে আড়াই লাখ গ্যালনের এক বিশাল পানির ট্যাংকে অভিনয় করেছেন অভিনেতারা।

ক্যামেরন বলেছেন, “পারফরম্যান্স ক্যাপচার প্রযুক্তির একদম উল্টো দিকে রয়েছে জেনারেটিভ এআই, যা একটি টেক্সট প্রম্পট বা লেখার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে শূন্য থেকে একটি চরিত্র, অভিনেতা বা সম্পূর্ণ অভিনয় তৈরি করে ফেলতে পারে, যা ভয়ংকর একটি কাজ… আমরা ঠিক এমন কাজ করছি না।”

এআই নিয়ে এবারই প্রথম নয়, এর আগেও কথা বলেছেন ক্যামেরন। এআই ‘অস্ত্র’ ব্যবহার করলে বিশ্বে ‘টার্মিনেটর-স্টাইলের সর্বনাশ’ ঘটবে বলেও সতর্ক করেছিলেন তিনি।

ক্যামেরন বলেছিলেন, গোটা বিশ্বে অস্ত্র প্রতিযোগিতায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের ব্যবহার যদি নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে থাকে তবে তা এমন এক বিপর্যয়কর ভবিষ্যতের দিকে আমাদের নিয়ে যেতে পারে যেমনটি তিনি তার ‘টার্মিনেটর’ সিরিজে কল্পনা করেছিলেন।

পেশাগতভাবে এআইয়ের ওপর নির্ভর করলেও ধ্বংসাত্মক বা নেতিবাচক উদ্দেশ্যে এর ব্যবহারের সম্ভাব্য ফল নিয়ে বরাবারই উদ্বিগ্ন এই নির্মাতা।

আরও পড়ুন…

আমি আগেই সাবধান করেছিলামএআই প্রসঙ্গে জেমস ক্যামেরন