Published : 16 Aug 2026, 05:24 PM
এসএসডি ও হার্ডড্রাইভের আকাশচুম্বী দামের কারণে দৈনন্দিন জীবনের বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল তথ্য সংরক্ষণে এখন ক্লাউড স্টোরেজের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন অনেকেই।
এ সেবাও কিন্তু খুব একটা সাশ্রয়ী নয়। একটু অসাবধান হলেই ক্লাউডের সীমিত জায়গা নিমেষেই ফুরিয়ে যেতে পারে। যতই গোছানো বা হিসাব করে ফাইল রাখা মানুষ হন না কেন অলক্ষ্যে অনেক ফাইলই জায়গা দখল করে রাখতে পারে, যা সহজে চোখে পড়ে না বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট।
অ্যান্ড্রয়েড ফোনে ক্লাউড ব্যাকআপের ক্ষেত্রে প্রথম ও সহজ পছন্দ হচ্ছে গুগল ড্রাইভ। অপারেটিং সিস্টেমটির মালিক হওয়ায় গুগল তাদের ড্রাইভের সঙ্গে ফোনের নিজস্ব ব্যাকআপ সুবিধা যোগ করেছে।
ব্যবহারকারীদের জন্য বিনামূল্যের নির্ধারিত জায়গাটি বেশ সীমিত, কেবল ১৫ জিবি। এই ১৫ জিবি জায়গা পুরো গুগল অ্যাকাউন্ট জুড়ে শেয়ার করা হয়; যা জিমেইল, ড্রাইভ ও ফোনের ব্যাকআপ মেমোরির ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
অর্থ খরচ করে চাইলেই হয়ত বেশ বড় স্টোরেজ প্যাকেজ কেনা সম্ভব। তবে প্রতিটি অপচয় করা বাইটের কারণে ব্যবহারকারীকে অচিরেই আরও বেশি দামি প্যাকেজের দিকে এগোতে হবে, যেখানে তার ধারণার চেয়েও হয়ত বেশি জায়গা নষ্ট হচ্ছে।
এখানে মূল বিষয়টি হচ্ছে, অ্যান্ড্রয়েডে ছবি ও ভিডিও সংরক্ষণের সবচেয়ে জনপ্রিয় মাধ্যম ‘গুগল ফটোস’ও ব্যবহারকারীর এ অ্যাকাউন্টের নির্দিষ্ট জায়গার হিসাবের আওতাভুক্ত।
অন্য কিছু অ্যাপ যেভাবে ডেটা ব্যাকআপ নেয় তাতে নিজের অজান্তেই একই ফাইলের একাধিক কপি জমে ড্রাইভের জায়গা দখল করে হয়ে যেতে পারে। আবার অনেক অপ্রয়োজনীয় অ্যাপের ডেটা, যা আসলে কোনো কাজেই আসে না, সেগুলোর ব্যাকআপ বন্ধ করেও অনেকটা জায়গা বাঁচানো সম্ভব।
একই ফাইলের একাধিক ব্যাকআপ
ব্যবহারকারী হয়ত ঘুণাক্ষরেও টের পাচ্ছেন না যে তার ক্লাউড স্টোরেজে একই তথ্যের একাধিক ব্যাকআপ তৈরি হয়ে জায়গা নষ্ট করছে।
অধিকাংশ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহারকারী গুগল ড্রাইভে ডেটা জমা রাখার ফিচারটি ব্যবহার করেন। আবার অনেক অ্যান্ড্রয়েড ব্যবহারকারী নিজের ছবি ও ভিডিও ব্যাকআপ রাখার জন্য ব্যবহার করেন গুগল ফটোস।
এ দুটি সেবাই তাদের গুগল ওয়ান প্ল্যানের স্টোরেজ সীমার অংশ। তবে গুগল ফটোসে মোবাইল ফোনের সব ফোল্ডারের ব্যাকআপ নেওয়ার কারণে ব্যবহারকারীর হোয়াটসঅ্যাপ ফোল্ডারটিরও আবার ব্যাকআপ হচ্ছে!
অথচ এ হোয়াটসঅ্যাপের তথ্য তো এরইমধ্যেই আলাদাভাবে গুগল ড্রাইভে ব্যাকআপ নেওয়া রয়েছে। এর মানে দাঁড়াচ্ছে, একই ছবি ও ভিডিও দুটি ভিন্ন জায়গায় ব্যাকআপ হচ্ছিল, যা গুগল স্টোরেজের দ্বিগুণ জায়গা নষ্ট করে।
গুগল ফটোস ছাড়া অন্য কোথাও ফাইল ব্যাকআপ করে এমন যে কোনো অ্যাপের ক্ষেত্রেই এ ঘটনা ঘটতে পারে তা সিগনাল, টেলিগ্রাম বা ডিসকর্ড যা-ই হোক না কেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য রয়েছে, বিভিন্ন মেসেজিং অ্যাপের মাধ্যমে ফোনে যে তথ্য জমা হয় তার বেশিরভাগই অপ্রয়োজনীয় জঞ্জাল। মেসেঞ্জার গ্রুপে বন্ধুদের পাঠানো ২০১০ সালের পুরানো জিআইএফ বা পারিবারিক চ্যাটিং গ্রুপে স্বজনদের পাঠানো অসংখ্য শিশুর ছবি সব কি আসলেই সংরক্ষণ করার মতো?
শিশুটি যত মিষ্টিই হোক না কেন এত বিপুল জায়গা নষ্ট করার কোনো যুক্তি নেই। সেরা কয়েকটি ছবি রেখে বাকি অপ্রয়োজনীয় ছবি-ভিডিও ব্যাকআপ হওয়ার আগেই মুছে ফেলুন। এতে ফোনে ও ক্লাউডে দ্বিগুণ জায়গা বেঁচে যাবে।
সবশেষে, ব্যাকআপ বন্ধের পাশাপাশি গুগল ফটোস থেকেও আগে ব্যাকআপ হওয়া ওইসব ফাইল ম্যানুয়ালি মুছে দিতে ভুলবেন না। ব্যবহারকারীর স্টোরেজ যেন দ্রুত পূর্ণ হয়ে যায় এবং তিনি বাধ্য হয়ে বড় প্যাকেজে আপগ্রেড করেন সেই ব্যবসায়িক কৌশল গুগলের থাকে। ফলে সেগুলো আলাদাভাবে মুছে ফেলাই বুদ্ধিমানের কাজ।
অ্যাপের অতিরিক্ত ব্যাকআপ নিয়ন্ত্রণ
ছবি ও ভিডিওর মতো বেশি জায়গা দখলকারী ব্যাকআপগুলো মুছে ফেলার পর, ফোন থেকে নিয়মিত ব্যাকআপ নেওয়া অ্যাপের সংখ্যা কমানোর মাধ্যমে ক্লাউড স্টোরেজ আরও খালি করতে পারেন।
অ্যান্ড্রয়েডের সেটিংসের ‘গুগল’ সেকশন থেকে বা ‘গুগল ওয়ান’ অ্যাপের মাধ্যমে ব্যাকআপ সেটিং পরিবর্তন করা সম্ভব। ব্যাকআপ অপশনে গিয়ে ‘আদার ডিভাইস ডেটা’ ও এরপর ‘অ্যাপ ডেটা’র নিচে ‘শো মোর’-এ ক্লিক করলেই দেখতে পাবেন কোন কোন অ্যাপ ব্যাকআপ নিচ্ছে।
তালিকাটি দেখলে ব্যবহারকারী অবাক হতে পারেন যে, কত অপ্রয়োজনীয় অ্যাপ আপনার অজান্তেই ক্লাউডের জায়গা নষ্ট করে চলেছে!
প্রথমত, হোয়াটসঅ্যাপের মতো এমন কিছু অ্যাপ রয়েছে যেগুলোর ভেতরেই স্বয়ংক্রিয় ব্যাকআপ ব্যবস্থা রয়েছে, যা গুগল ক্লাউডের জায়গা দখল করে।
এ ছাড়া, ব্যক্তিগত নোট বা হেডফোনের সেটিংয়ের মতো অনেক ফাইলই আলাদা কোনো ড্রাইভে বা সংশ্লিষ্ট কোম্পানির নিজস্ব সার্ভারে সংরক্ষিত থাকে। ফলে গুগল ক্লাউডে এগুলোর বাড়তি ব্যাকআপ নেওয়ার কোনো প্রয়োজন নেই।
ব্যাকআপ সেটিং ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করলে এমন ডজন ডজন অ্যাপের ডেটা জমা পাওয়া যাবে, যেগুলোর ব্যাকআপ রাখা একেবারেই অর্থহীন।
যেমন, ফোনের পারফরম্যান্স দেখার অ্যাপ, গিটার টিউনের অ্যাপ বা কোনো ভিডিও প্লেয়ার অ্যাপের কেন গুগলে ব্যাকআপ নিতে হবে? একইভাবে ব্লুস্কাই বা রেডিটের মতো বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মের ডেটা সরাসরি অ্যাকাউন্টেই সংরক্ষিত থাকে, যা নতুন ফোনে কেবল লগইন করলেই ফের চলে আসে।
এসব ক্ষেত্রে ক্লাউড ব্যাকআপ পুরোপুরি অপ্রয়োজনীয়। আপনি ব্যবহার করেন না এমন অ্যাপ বা আইকন প্যাকের ডেটাও অলক্ষ্যে ব্যাকআপ হয়ে জায়গা নষ্ট করে!
বেশিরভাগ অ্যাপ কেবল কয়েক মেগাবাইট কনফিগারেশন ফাইল বা লগইন টোকেন ব্যাকআপ রাখলেও নতুন কোনো ফোনে এগুলো নতুন করে সেটআপ করাই ভালো।
পুরানো অ্যান্ড্রয়েড ডিভাইসের এসব জমে থাকা ডেটা নতুন ডিভাইসে নিয়ে এলে অনেক সময় অযাচিত নানা কারিগরি সমস্যা তৈরি হয়।