১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

লন্ডনে খুলছে যুক্তরাজ্যের প্রথম ‘শিক্ষকবিহীন’ এআই ক্লাসরুম

কেউ যদি সত্যিই জানতে চান একজন শিশু ঠিক কি শিখছে না, সে ক্ষেত্রে এআই ব্যবস্থাগুলোই এটিকে আরও কার্যকরভাবে চিহ্নিত করতে পারে বলে মত এসেছে।

লন্ডনে খুলছে যুক্তরাজ্যের প্রথম ‘শিক্ষকবিহীন’ এআই ক্লাসরুম
ছবি: ফ্রিপিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 02 Sep 2024, 04:49 PM

Updated : 26 Aug 2026, 10:23 AM

চালু হচ্ছে যুক্তরাজ্যের প্রথম শিক্ষকবিহীন জিসিএসই ক্লাস। এখানে মানব শিক্ষকের পরিবর্তে শিক্ষার্থীদের পড়াবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রযুক্তি।

সেপ্টেম্বরে ২০ জন জিসিএসই (বাংলাদেশে এইচএসসি সমমান সার্টিফিকেট) শিক্ষার্থীর জন্য নতুন শিক্ষকবিহীন এ কোর্স চালু করছে লন্ডনের এক বেসরকারি স্কুল ডেভিড গেইম কলেজ।

এ ক্লাসে শিক্ষার্থীরা তাদের কম্পিউটার, ভার্চুয়াল রিয়ালিটি হেডসেটে বিভিন্ন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিখবে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা স্কাই নিউজ।

এআই প্ল্যাটফর্মগুলো বুঝতে পারে শিক্ষার্থীরা কোন বিষয়ে পারদর্শী ও কোন বিষয়ে তাদের বাড়তি সাহায্যের প্রয়োজন, এবং এর ভিত্তিতেই নির্দিষ্ট টার্মের জন্য তাদের পাঠ পরিকল্পনা সাজানো হয়।

শিক্ষার্থীরা যে বিষয়ে পারদর্শী সেগুলো টার্মের শেষের দিকে নেওয়া হয়, আর দুর্বল বিষয়গুলো আগেই শেখানো হয়। এ ব্যবস্থায় প্রতিটি শিক্ষার্থীর জন্য আলাদা আলাদা ও উপযুক্ত পাঠ পরিকল্পনা করা হয় বলে উল্লেখ রয়েছে প্রতিবেদনে।

“এখানে অনেক দুর্দান্ত শিক্ষক রয়েছেন। কিন্তু আমাদের সবারই ভুল হতে পারে।” – বলেছেন স্কুলের সহকারী প্রিন্সিপ্যাল জন ডেলটন।

“আমি মনে করি এআইয়ের মতো নির্ভুলতার স্তর অর্জন করা ও ধারাবাহিক মূল্যায়ন করা খুবই কঠিন।”

এ ছাড়া, কেউ যদি সত্যিই জানতে চান একজন শিশু ঠিক কি শিখছে না, সে ক্ষেত্রে এআই ব্যবস্থাগুলোই এটিকে আরও কার্যকরভাবে চিহ্নিত করতে পারে বলে মত প্রকাশ করেছেন ডেলটন।

এ ক্লাসে অংশ নেওয়া ২০ জন শিক্ষার্থীর প্রতিবছরের কোর্স ফি ২৭ হাজার পাউন্ড বা ৩৫ হাজার ডলার বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে স্কাই।

"একজন শিক্ষক নির্দিষ্ট করে আপনার দুর্বলতাগুলো হয়ত জানেন না, কারণ তার আরও অনেক ছাত্র আছে।” – বলেছেন জোসেফ নামের একজন জিসিএসই ছাত্র, যিনি ডেভিড গেইম কলেজের ব্যবস্থাটি পরীক্ষা করছেন৷

“অন্যদিকে এআই নির্দিষ্ট ত্রুটি খুঁজে বের করবে এবং আপনাকে উন্নতি করতেও সাহায্য করবে।”

ক্লাসরুমে শুধু ছাত্ররাই থাকবে বিষয়টি এমন নয়। তাদের আচরণ দেখতে ও সমর্থন দিতে তিনজন ‘লার্নিং কোচ’ উপস্থিত থাকবেন। পাশাপাশি, ‘আর্ট’ বা কলা এবং সেক্স এডুকেশনের মতো যে সব বিষয়ে এআই এখনও দক্ষ নয় সেগুলো শেখাতেও সাহায্য করবেন তারা।

তবে, শিশুদের শিক্ষা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে তুলে দেওয়ার ধারণা এখনও বিতর্কিত।

ক্লাসরুমে এআইয়ের ভূমিকা থাকলেও এ বিষয়টি একটু বাড়াবাড়ি পর্যায়ে চলে গেছে, বলেছেন অবসরপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও যুক্তরাজ্যে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক পলিসি উপদেষ্টা ক্রিস ম্যাকগভর্ন।

"এআই এবং কম্পিউটার স্ক্রিনের সমস্যা হল এটি মেশিন ও জড়বস্তু। এর মাধ্যমে আসলে আপনি সরাসরি শেখার প্রক্রিয়াকে অমানবিক করে তুলছেন। এর মাধ্যমে যোগাযোগে মানবীয় দক্ষতা এবং ছাত্র-শিক্ষকদের মধ্যে সংযোগ কেড়ে নিচ্ছেন।” –  যোগ করেছেন তিনি।

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এরইমধ্যে যুক্তরাজ্যজুড়ে শ্রেণিকক্ষে ব্যবহৃত হচ্ছে। এটি বিভিন্ন বিষয়কে প্রাণবন্ত করতে সাহায্য করে। তবে, এ কলেজের ক্ষেত্রে এআই শুধু সাহায্যই করছে না, নেতৃত্ব দিচ্ছে।