১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

‘নিষিদ্ধ’ চীনা এআই ট্রাম্পের ক্রিপ্টো প্রজেক্টে, বাড়ছে বিতর্ক ও প্রশ্ন

এ ধরনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সেখান থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ তার প্রশাসনের ঘোষিত চীনা প্রযুক্তিবিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

‘নিষিদ্ধ’ চীনা এআই ট্রাম্পের ক্রিপ্টো প্রজেক্টে, বাড়ছে বিতর্ক ও প্রশ্ন
এ ট্রানজেকশন ও টোকেনের ব্যবহার থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ সরাসরি ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ফান্ডে যায়। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 18 Aug 2026, 02:19 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:51 PM

ব্ল্যাকলিস্টেড ও মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকিপূর্ণ চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির তৈরি এআই মডেল থেকে সুবিধা নিচ্ছে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সমর্থিত এক ক্রিপ্টোকারেন্সি ভেঞ্চার।

আইনগত বাধা না থাকলেও ওয়াশিংটনের ঘোষিত চীন-বিরোধী অবস্থানের বিপরীতে ট্রাম্প পরিবারের এই অর্থনৈতিক লাভ নতুন বিতর্ক ও নীতিগত প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।

ট্রাম্প সমর্থিত ক্রিপ্টোকারেন্সি ভেঞ্চার ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ফাইনান্সিয়াল’ কাজ করছে হংকংভিত্তিক ওই এআই কোম্পানির সঙ্গে, যারা এমন কিছু চীনা কোম্পানির এআই মডেল সুবিধা হিসেবে দিচ্ছে যাদের বিরুদ্ধে খোদ মার্কিন প্রশাসনই জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির অভিযোগ তুলেছিল।

এ বছরের শুরুতে যাত্রা শুরু করা ‘ওয়ার্ল্ডক্ল’ নামের প্ল্যাটফর্মটি তাদের বিভিন্ন এআই মডেল ব্যবহারের বিনিময়ে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি’র ক্রিপ্টো টোকেন পেমেন্ট হিসেবে গ্রহণ করে। এ ট্রানজেকশন ও টোকেনের ব্যবহার থেকে পাওয়া আয়ের একটি অংশ সরাসরি ট্রাম্প পরিবারের মালিকানাধীন ফান্ডে যায়।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, ওয়ার্ল্ডক্ল-এর প্ল্যাটফর্মে থাকা ৯০টি এআই মডেলের মধ্যে ৪৩টি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই তৈরি করেছে আলিবাবা, বাইদু ও জেডডটআই-এর মতো চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি।

ট্রাম্প প্রশাসন শুরু থেকেই দাবি করে আসছে, এসব কোম্পানির তৈরি প্রযুক্তি মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও মেধা সম্পদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি। তবে এ প্ল্যাটফর্মে ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিকের মতো শীর্ষ মার্কিন কোম্পানির মডেলও রয়েছে।

আইনগত দিক থেকে ওয়ার্ল্ড লিবার্টির সঙ্গে ওয়ার্ল্ডক্ল-এর এ পার্টনারশিপ বা চীনা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে তাদের সম্পর্কের মধ্যে অবৈধ কিছু নেই। কম খরচের হওয়ায় চীনা এআই মডেলগুলো মার্কিন বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিসহ বিশ্বজুড়ে বেশ জনপ্রিয়তাও পাচ্ছে।

তবে চীন-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও সরকারি নীতিশাস্ত্র বিষয়ক সাতজন বিশেষজ্ঞ বলেছেন, এ ধরনের বাণিজ্যিক যোগাযোগ ও সেখান থেকে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আর্থিক সুবিধা লাভের সুযোগ তার প্রশাসনের ঘোষিত চীনা প্রযুক্তিবিরোধী অবস্থানের সম্পূর্ণ পরিপন্থী।

‘জর্জেটাউন ইউনিভার্সিটি’র ‘সেন্টার ফর সিকিউরিটি অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজি’র ফেলো স্যাম ব্রেসনিক বলেছেন, “মার্কিন সরকার যখন চীনা এআই প্রযুক্তির উত্থান ও হুমকি ঠেকাতে কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে তখন ওয়ার্ল্ডক্ল-এর মাধ্যমে চীন থেকে নেওয়া সেসব টুল ব্যবহার করে অর্থ আয়ের চেষ্টা করাটা স্পষ্টতই এক ধরনের দ্বিমুখী নীতি।”

ওয়ার্ল্ডক্ল-এর সঙ্গে ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি’র আর্থিক চুক্তির বিশদ বিবরণ বা এ প্ল্যাটফর্মের ক্রিপ্টো পেমেন্ট থেকে ট্রাম্প পরিবার ঠিক কত অর্থ আয় করেছে তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

তবে ট্রাম্পের বড় দুই ছেলে একাধিকবার প্রকাশ্যে ওয়ার্ল্ডক্ল-এর প্রচারণা চালিয়েছেন ও ওয়ার্ল্ড লিবার্টির এক উর্ধ্বতন কর্মকর্তা কোম্পানিটির উপদেষ্টা হিসেবেও কাজ করেছেন।

‘ইউএসডিওয়ান’ নামের এক স্টেবলকয়েন থেকে আয় করে ওয়ার্ল্ড লিবার্টি। ওয়ার্ল্ডক্ল ব্যবহারকারীরা যখন পেমেন্ট হিসেবে এ ক্রিপ্টো টোকেন বেছে নেন তখন এ আয় হয়। অন্যান্য ডলারভিত্তিক স্টেবলকয়েনের মতো ইউএসডিওয়ানের বিপরীতে সমান দামের মার্কিন ট্র্রেজারি বন্ড জমা রাখা হয় এবং সেখান থেকে পাওয়া সুদের একটি বড় অংশ পেয়ে থাকে ট্রাম্প পরিবার।

বিবৃতিতে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র অ্যানা কেলি দাবি করেছেন, ওয়ার্ল্ড লিবার্টি ও ওয়ার্ল্ডক্ল-এর সম্পর্কের মধ্যে ‘স্বার্থের কোনো সংঘাত নেই’ এবং ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সবসময় আমেরিকান জনগণের স্বার্থকেই অগ্রাধিকার দেন’।

অন্যদিকে, ইমেইল বার্তায় ওয়ার্ল্ড লিবার্টির মুখপাত্র ডেভিড ওয়াচসম্যান বলেছেন, ওয়ার্ল্ডক্ল স্বাধীন কোম্পানি এবং আমেরিকার অনেক বড় বড় প্রযুক্তি কোম্পানিও এখন চীনা এআই মডেল সুবিধা দিচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক বাজারে সাধারণ ও সর্বজনগৃহীত চর্চা।

বিষয়টি নিয়ে ওয়ার্ল্ডক্ল-এর একজন মুখপাত্রের ভাষ্য, “তাদের প্ল্যাটফর্ম মার্কিন বিভিন্ন এআই কোম্পানিকে বিশ্বজুড়ে ব্যবহারকারীদের কাছে পৌঁছাতে সাহায্য করে এবং কোনো মডেল সুবিধা হিসেবে দেওয়ার অর্থ এই নয় যে, তারা ওই কোম্পানির সব নীতিমালা সমর্থন করছে।”

ওয়ার্ল্ডক্ল-এর প্ল্যাটফর্মে থাকা ৯০টি এআই মডেলের মধ্যে ৪৩টি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই তৈরি করেছে আলিবাবা, বাইদু ও জেডডটআই-এর মতো চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি। ছবি: রয়টার্স

ওয়ার্ল্ডক্ল-এর প্ল্যাটফর্মে থাকা ৯০টি এআই মডেলের মধ্যে ৪৩টি, অর্থাৎ প্রায় অর্ধেকই তৈরি করেছে আলিবাবা, বাইদু ও জেডডটআই-এর মতো চীনা প্রযুক্তি কোম্পানি

এআই প্রতিযোগিতা ও নিরাপত্তা ঝুঁকি

ওয়ার্ল্ডক্ল-এর সরবরাহ করা চীনা এআই মডেলগুলো যুক্তরাষ্ট্রে ব্যক্তি বা ব্যবসা কোম্পানির ব্যবহারের জন্য দৃশ্যত বৈধ হলেও এর কয়েকটি নির্মাতা কোম্পানির ওপর জাতীয় নিরাপত্তার অজুহাতে নিষেধাজ্ঞা ধরে রেখেছে মার্কিন সরকার।

প্ল্যাটফর্মটিতে স্থান পাওয়া চীনের অন্যতম প্রযুক্তি জায়ান্ট আলিবাবা ও বাইদুর বিভিন্ন এআই মডেলকে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগ ‘চীনা সামরিক বাহিনীর সঙ্গে জড়িত কোম্পানি’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে। এ তালিকার কারণে পেন্টাগন বা মার্কিন প্রতিরক্ষা খাতের জন্য এসব কোম্পানির সঙ্গে বাণিজ্যিক চুক্তি করা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।

তালিকায় থাকা অন্য কোম্পানি ‘জেডডটআই’কে মার্কিন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ‘এন্টিটি লিস্ট’-এ অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যার মাধ্যমে তাদের মার্কিন প্রযুক্তির ব্যবহারের ওপর কঠোর কড়াকড়ি আরোপ করেছে।

এ তালিকায় থাকা কোনো কোম্পানির কাছে পণ্য বা সেবা বিক্রি করতে হলে মার্কিন কোম্পানিকে বিশেষ রপ্তানি লাইসেন্সের আবেদন করতে হয়, যা সাধারণত নাকচ হওয়ার ঝুঁকিই বেশি থাকে।

মার্কিন সরকারের নথিতে উল্লেখ রয়েছে, এআইয়ের আধুনিক গবেষণা যোগ করার মাধ্যমে চীনের ‘সামরিক আধুনিকায়নে ভূমিকা রাখছে’ জেডডটআই, যা মার্কিন জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির চরম পরিপন্থী।

এ ছাড়াও প্ল্যাটফর্মটিতে রয়েছে ‘ডিপসিক’ ও ‘মুনশট’-এর মতো চীনা প্রযুক্তি কোম্পানির তৈরি এআই মডেল। এদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি মার্কিন মেধাসত্ত্ব চুরির অভিযোগ এনেছেন ট্রাম্প প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ কর্মকর্তা।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আলিবাবার একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আলিবাবা কোনো সামরিক কোম্পানি নয় এবং চীনের কোনো সামরিক-বেসামরিক একত্রীকরণ কৌশলের অংশও নয়।”

পেন্টাগনের এ পদক্ষেপকে ‘অযৌক্তিক’ বর্ণনা করে তালিকা থেকে নাম সরানোর জন্য আদালতে যাওয়ার কথা জানিয়েছে চীনা কোম্পানিটি। অন্যান্য চীনা কোম্পানিও অতীতে মার্কিন সামরিক সংযোগ ও প্রযুক্তি চুরির দাবি বাতিল করেছে।

চীনা প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি নিয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদের নীতির রূপরেখা এখনও স্পষ্ট নয়। মেয়াদের শুরুতে চীনের সঙ্গে এআই প্রতিযোগিতায় যুক্তরাষ্ট্রকে জেতানোর কথা বললেও সম্প্রতি দুই দেশের সম্ভাব্য এআই অস্ত্র প্রতিযোগিতা নিয়ে উদ্বেগ দেখা গেছে।

আগামী মাসে ট্রাম্প ও চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে উত্তেজনা কমানোর চেষ্টা চলছে।

ওয়াশিংটনভিত্তিক আইন বিষয়ক কোম্পানি ‘ট্রাউটম্যান পেপার লক’-এর আন্তর্জাতিক বাণিজ্য আইন বিশেষজ্ঞ পিটার জেইডেলে বলেছেন, “একদিক থেকে মনে হতে পারে এমনটা চীন-বিরোধী এক প্রশাসন। ফলে এ বাণিজ্যিক সম্পর্কের সঙ্গে নীতিগত দ্বন্দ্ব রয়েছে।

“তবে অন্যভাবে দেখলে, এই ট্রাম্প প্রশাসন ব্যবসা-বান্ধব নীতিকে গুরুত্ব দিয়ে চীনা বিভিন্ন কোম্পানির প্রতি কিছুটা নমনীয় আচরণ দেখাচ্ছে। সেই হিসেবে এই সহযোগিতা তাদের ব্যবসাবান্ধব অবস্থানের সঙ্গেই মেলে।”

এ বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি মার্কিন বাণিজ্য বিভাগ ও প্রতিরক্ষা বিভাগ।

এক্স-এ ট্রাম্পপুত্রদের প্রচারণা

অনলাইন দুনিয়ায় ‘ওয়ার্ল্ডক্ল’ কোম্পানিটি সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। এক মুখপাত্রের মাধ্যমে কোম্পানিটি নিজেদের ‘ব্যক্তি মালিকানাধীন ও স্বাধীনভাবে পরিচালিত এআই কোম্পানি’ বলে দাবি করেছে। তাদের ওয়েবসাইটে লেখা আছে, ক্রিপ্টো প্রজেক্ট ‘ওয়ার্ল্ড লিবার্টি’ বা এর সহযোগী কোম্পানিগুলোর সঙ্গে তাদের কোনো প্রত্যক্ষ নিয়ন্ত্রণ বা পরিচালনাগত সম্পর্ক নেই।

তবে পর্দার আড়ালে দুটি কোম্পানিই যৌথভাবে লাভবান হচ্ছে। ট্রাম্প পরিবারের কাছে ওয়ার্ল্ড লিবার্টির ৩৮ শতাংশ মালিকানা রয়েছে এবং তাদের নিজস্ব ক্রিপ্টো টোকেন ‘ডব্লিউএলএফআই’ ও ‘ইউএসডিওয়ান’ স্টেবলকয়েন লেনদেনের মাধ্যমে তারা বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আয় করে।

ওয়ার্ল্ডক্ল তাদের প্ল্যাটফর্মে এআই সার্ভিসের পেমেন্ট হিসেবে ইউএসডিওয়ান স্টেবলকয়েন নেয়।

ওয়ার্ল্ডক্ল-এর মুখপাত্র বলেছেন, ওয়ার্ল্ড লিবার্টির হেড অফ গ্রোথ রায়ান ফেং একজন ‘বাইরের উপদেষ্টা ও সাহায্যকারী’ হিসেবে তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। বিশ্বজুড়ে ইউএসডিওয়ানের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ানো ও এআই পরিষেবার প্রসারে ভূমিকা রাখছেন তিনি।

এদিকে, সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের দুই ছেলে প্রতিনিয়ত ওয়ার্ল্ডক্ল-এর প্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। মে মাসে ট্রাম্প জুনিয়র ঘোষণা দিয়েছিলেন, ফ্লরিডায় পরিবারের রিসোর্ট ‘মার-এ-লাগো’তে ওয়ার্ল্ডক্ল প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি।

অন্যদিকে এরিক ট্রাম্প এক পোস্টে এ যৌথ উদ্যোগকে ‘অর্থনীতির ভবিষ্যৎ’ বলে বর্ণনা করেছেন।

রয়টার্সের জুন মাসের প্রতিবেদন বলছে, ট্রাম্প পরিবার ক্রিপ্টো খাত থেকে পাওয়া মোট ২৩০ কোটি ডলারের মধ্যে কেবল ওয়ার্ল্ড লিবার্টির টোকেন বিক্রি ও ব্যবহার থেকেই আয় করেছে ১৪০ কোটি ডলারের বেশি।

প্রেসিডেন্টের দুই ছেলে মূল পারিবারিক ব্যবসা ‘ট্রাম্প অর্গানাইজেশন’ পরিচালনা করলেও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ট্রাস্টের মাধ্যমে এখনও এর চূড়ান্ত মালিকানা ধরে রেখেছেন।

ব্যবহারকারীদের তথ্যে চীনা নজরদারির ঝুঁকি

ওয়ার্ল্ডক্ল-এর ওয়েবসাইট বলছে, তাদের ‘ওয়ার্ল্ডরাউটার’ টুলের মাধ্যমে ১০ হাজারের বেশি ব্যবহারকারী প্রতিদিন প্রায় ৫ কোটি এআই টাস্ক বা কাজ পরিচালনা করছেন। খাবার অর্ডার করা বা ইমেইল সামারাইজ করার মতো ব্যক্তিগত কাজের জন্য কোম্পানিটি আলাদা এআই এজেন্ট অ্যাপ্লিকেশন তৈরি করছে।

তবে ‘সেন্টার ফর এ নিউ আমেরিকান সিকিউরিটি’র সিনিয়র ফেলো ও মার্কিন স্টেট ডিপার্টমেন্টের সাবেক নীতি উপদেষ্টা ড্যানিয়েল রেমনার বলেছেন, ওয়ার্ল্ডক্ল-এ ব্যবহৃত চীনা এআই মডেলগুলো ব্যবহারকারীদের মারাত্মক ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।

এর মধ্যে রয়েছে চীনা সরকারের প্রত্যক্ষ নজরদারি, কনটেন্ট সেন্সরশিপ ও এআই এজেন্ট হ্যাকিংয়ের উপযোগী ক্ষতিকর কোডের অনুপ্রবেশ ঘটানো।

কোম্পানিটি তাদের ওয়েবসাইটে বলেছে, ব্যবহারকারীদের ইনপুট বা তথ্য এআই মডেল প্রদানকারী চীনা বিভিন্ন কোম্পানির সঙ্গে শেয়ার করা হতে পারে।

নিরাপত্তার বিষয়ে ওয়ার্ল্ডক্ল-এর মুখপাত্রের দাবি, তারা ব্যবহারকারীদের সুরক্ষাকে সবোর্চ্চ গুরুত্ব দেয় এবং প্ল্যাটফর্মে প্রয়োজনীয় সব ধরনের প্রাইভেসি ও সিকিউরিটি মেজারস চালু রেখেছে।