২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩

নিরাপত্তা বলয় বারবার ভেঙে ফেলছে ওপেনএআইয়ের এআই

ওপেনএআইয়ের পরীক্ষামূলক টুলের মাধ্যমে অন্য এক এআই প্ল্যাটফর্মে নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের ঘটনার পর কোম্পানিটির কাজের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়ে এ তথ্য বেরিয়ে আসে।

নিরাপত্তা বলয় বারবার ভেঙে ফেলছে ওপেনএআইয়ের এআই
হাগিং ফেইসের ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে এআই মডেলের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার আরও কিছু নজির খুঁজে পেয়েছে ওপেনএআই। ছবি: রয়টার্স

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 04 Aug 2026, 02:18 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:47 PM

ওপেনএআইয়ের একাধিক পরীক্ষামূলক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সিস্টেম বারবার এদের জন্য নির্ধারিত নিরাপত্তা বেষ্টনী ও সুরক্ষাবলয় ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসছে বলে দাবি করা হয়েছে নতুন এক প্রতিবেদনে।

রয়টার্স লিখেছে, নিজেদের বিভিন্ন এআই টুলের নিরাপত্তা বা নিয়ন্ত্রণের সীমা ভেঙে ফেলার আরও কয়েকটি ঘটনা শনাক্ত করেছে ওপেনএআই।

সম্প্রতি ওপেনএআইয়ের এক পরীক্ষামূলক টুলের মাধ্যমে অন্য এক এআই প্ল্যাটফর্মে নজিরবিহীন সাইবার আক্রমণের ঘটনার পর কোম্পানিটির নিজস্ব কাজের হিসাব পর্যালোচনা করতে গিয়েই এসব তথ্য বেরিয়ে এসেছে।

গেল মাসে ওপেনএআই বলেছিল, সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যে তাদের একটি অপ্রকাশিত পরীক্ষামূলক এআই মডেলের সক্ষমতা যাচাই করা হচ্ছিল। এ সময় নিরাপত্তার স্বার্থে মডেলটির ইন্টারনেট সংযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন রাখা হলেও সেটি বিকল্প উপায়ে অনলাইনে যোগ হওয়ার পথ খুঁজে নেয়।

পরবর্তীতে মডেলটিকে যে ধাঁধার সমাধান করতে দেওয়া হয়েছিল তার উত্তর খুঁজতে মডেলটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনলাইন এআই প্ল্যাটফর্ম ‘হাগিং ফেইস’-এ অনুপ্রবেশ করে।

এ ঘটনা পুরো এআই শিল্পক্ষেত্র তো বটেই, বিশ্বজুড়েই তীব্র উদ্বেগ তৈরি করেছে। প্রশ্ন উঠেছে এ ধরনের শক্তিশালী মডেলগুলোর দৌরাত্ম্য ও সেগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে যথেষ্ট নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে কি না।

ঘটনাটিকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখা হচ্ছে কারণ, ওপেনএআইয়ের সিস্টেমটি পুরো সাইবার হামলাটি সম্পূর্ণ নিজে নিজেই পরিচালনা করেছিল, অর্থাৎ কেবল নির্ধারিত সুরক্ষাবলয় ভেঙে বের হওয়া নয়, বরং নিজস্ব সিদ্ধান্তেই এই অনুপ্রবেশ ঘটিয়েছিল এআই।

নতুন প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, ওই হামলার ঘটনার তদন্ত করতে গিয়ে ওপেনএআই তাদের বিভিন্ন সিস্টেমের নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেঙে বেরিয়ে যাওয়ার আরও বেশ কিছু নজির খুঁজে পেয়েছে।

হাগিং ফেইস-এর ঘটনার পর গেল সপ্তাহের এক বিজ্ঞপ্তির কথা উল্লেখ করে ওপেনএআই বলেছে, নিজেদের বিভিন্ন মডেলের ‘সার্বিক কর্মকাণ্ড ও আচরণের পরিধি’ তারা গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও পুনরায় তদন্ত করে দেখছে।

হাগিং ফেইসে সাইবার হামলার ঘটনার সময় ওই পরীক্ষামূলক মডেলটি আরও বেশ কিছু কোম্পানিতে অনুপ্রবেশের চেষ্টা করেছিল। তবে অনুসন্ধানে ওপেনএআই ঠিক কতগুলো এমন উদাহরণ খুঁজে পেয়েছে এবং এসব আক্রমণে কোন কোন কোম্পানি লক্ষ্যবস্তু হয়েছে তা জানতে পারেনি রয়টার্স।

বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলছেন, একের পর এক এমন ঘটনা থেকে ইঙ্গিত মেলে, এআই মডেলগুলোকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে আটকে রাখার বর্তমান নিরাপত্তা ব্যবস্থা হয়ত যথেষ্ট শক্তিশালী নয়। ফলে ভবিষ্যতে এআই মডেলগুলো স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিজেদের উদ্যোগে এ ধরনের আরও সাইবার হামলা চালাতে পারে।

হাগিং ফেইসে হামলার বিষয়টি প্রথম সামনে আসার পর ‘লাফবরো ইউনিভার্সিটি’র সাইবার নিরাপত্তা বিষয়ক অধ্যাপক অলিভার বাকলি বলেছেন, “সায়েন্স ফিকশন সিনেমার মতো করে একেবারে ‘নিয়ন্ত্রণহীন বা বেপরোয়া’ হয়ে ওঠেনি এআই, বরং দক্ষ ও অপ্টিমাইজড একটি সিস্টেমের যেভাবে কাজ করার কথা সেটাই করেছে মডেলটি, যেখানে কেউ ধারণাও করতে পারেনি তেমনই পথ খুঁজে বের করেছে এআই।

“এ থেকে শেখার বিষয় এটা নয় যে স্কাইনেট চলে এসেছে, বরং মূল বার্তা হচ্ছে, মডেল আমাদের কথা মেনে চলবে এমন ধারণার চেয়ে একে আটকে বা নিয়ন্ত্রণে রাখার বিভিন্ন কৌশল বেশি শক্তিশালী হতে হবে।

“সাইবার নিরাপত্তার ভবিষ্যৎ কেবল মানুষের বনাম এআইয়ের লড়াই হবে না, বরং হবে অন্য এআই থেকে আমাদের রক্ষার জন্য এআইয়েরই লড়াই।”

ওপেনএআইয়ের এ ঘটনার পর প্রতিদ্বন্দ্বী এআই কোম্পানি অ্যানথ্রপিক বলেছে, তারাও নিজেদের তৈরি সিস্টেমে নিরাপত্তার সীমা ভেঙে বের হয়ে যাওয়ার কয়েকটি প্রমাণ পেয়েছে। 

পরীক্ষার অংশ হিসেবে কোম্পানিটির এআই মডেল ক্লড অন্তত তিনবার অন্যান্য কোম্পানির আইটি অবকাঠামো ও সিস্টেমে সফলভাবে অনুপ্রবেশ করতে পেরেছিল।

ওপেনএআইয়ের তথ্য ফাঁসের পরপরই অ্যানথ্রপিক নিজস্ব নিরাপত্তা পর্যালোচনার উদ্যোগ নিলে এসব তথ্য সামনে আসে।

এক বিবৃতিতে ক্লড চ্যাটবটের নির্মাতা কোম্পানিটি বলেছে, “অন্যান্য এআই ল্যাবগুলোরও এমন পর্যালোচনা চালানো উচিত। এতে করে তারাও নিজেদের এআই মডেলের এমন অনিয়ন্ত্রিত আচরণের উদাহরণ খুঁজে পেতে পারে।”

বারবার এ ধরনের চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে আসায় নজরদারি সংস্থা ও নীতি নির্ধারকদের মধ্যেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের কেউ কেউ পরামর্শ দিচ্ছেন, এআই মডেলগুলোকে নিরাপদ ও সুরক্ষাবলয়ের মধ্যে রাখতে বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে শিগগিরই নতুন ও কঠোর নিয়মকানুন মানতে বাধ্য করা হতে পারে।

আরও পড়ুন…

এবার অনুমতি ছাড়া ৩ কোম্পানির সিস্টেমে অ্যানথ্রপিকের এআই

সাইবার হামলা করল এআই, নির্মাতা বলছে 'পরীক্ষা ছিল'