Published : 14 Aug 2025, 05:26 PM
তথ্য শেয়ারিংয়ের ক্ষেত্রে মেসেজিং অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের ওপর কড়া নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে রাশিয়া।
দেশটি ঘোষণা করেছে, মেটা মালিকানাধীন হোয়াটসঅ্যাপ ও টেলিগ্রামের ওপর ‘কিছু সীমাবদ্ধতা’ আরোপ করছে তারা। রাশিয়ার অভিযোগ, জালিয়াতি ও সন্ত্রাসবাদের মামলায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করতে ব্যর্থ হয়েছে বিদেশি মালিকানাধীন এসব প্ল্যাটফর্ম।
কয়েক বছর ধরে বিদেশি বিভিন্ন প্রযুক্তি প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে পড়েছে মস্কো, বিশেষ করে কনটেন্ট ও ডেটা সংরক্ষণ নিয়ে। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে রাশিয়ার ইউক্রেইন আক্রমণের পর এই বিরোধ আরও বেড়ে যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান।
সমালোচকরা বলছেন, রাশিয়া তাদের দেশের ইন্টারনেট ব্যবস্থার ওপর নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর চেষ্টা করছে।
নতুন এক মেসেজিং অ্যাপ তৈরির অনুমোদন দিয়েছেন ভ্লদিমির পুতিন, যেটি সরকারি সেবার সঙ্গে যুক্ত থাকবে। এভাবে নিজস্ব প্রযুক্তিকে উৎসাহ দিয়ে ও বিদেশি মালিকানাধীন প্ল্যাটফর্মের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে এনে ‘ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব’ প্রতিষ্ঠা করতে চাইছে মস্কো।
রুশ সংবাদ সংস্থা ‘ইন্টারফ্যাক্স’ দেশটির যোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা রসকোমনাদজরের উদ্ধৃতি দিয়ে প্রতিবেদনে লিখেছে, “অপরাধীদের ঠেকাতে এসব বিদেশি মেসেঞ্জারের মাধ্যমে কল করার সুবিধা আংশিকভাবে সীমিত করার পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তবে, তাদের অন্যান্য কার্যকারিতার ওপর এখন পর্যন্ত কোনও বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়নি।”
রাশিয়ার ডিজিটাল মন্ত্রণালয় বলেছে, “বিদেশি বিভিন্ন মেসেজিং প্লাটফর্ম যখন রুশ আইন মেনে চলা শুরু করবে তখন আবার তাদের কল করার সুবিধা ফিরিয়ে দেওয়া হবে।”
এক বিবৃতিতে হোয়াটসঅ্যাপের মুল কোম্পানি মেটা বলেছে, “ব্যক্তিগত পর্যায়ে এন্ড-টু-এন্ড এনক্রিপশন পরিষেবা দেয় হোয়াটসঅ্যাপ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপদ যোগাযোগের অধিকার লঙ্ঘন করে এমন যে কোনও সরকারি প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করে। এ কারণেই রাশিয়া চেষ্টা করছে ১০ কোটিরও বেশি রুশ নাগরিকের কাছে প্লাটফর্মটি বন্ধ করে দিতে। আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাব, যেন রাশিয়াসহ গোটা বিশ্বের মানুষ নিরাপদ ও এনক্রিপ্ট করা যোগাযোগ ব্যবস্থার সুবিধা পেতে পারেন।”
টেলিগ্রাম বলেছে, “আমাদের প্ল্যাটফর্মে কেউ যদি নাশকতা বা সহিংসতার মতো খারাপ কাজ করে তাহলে তা বন্ধে আমরা যথাযথ ব্যবস্থা নিই। কেউ যাতে প্ল্যাটফর্মটির অপব্যবহার করতে না পারে এজন্য প্রতিদিন লাখ লাখ ক্ষতিকর কনটেন্ট মুছে ফেলি আামরা।”
রয়টার্স লিখেছে, ১১ আগস্ট থেকে টেলিগ্রামে ভয়েস কলিং প্রায় একেবারেই কাজ করছে না এবং হোয়াটসঅ্যাপে কল করা একদমই সম্ভব হচ্ছে না। কারণ কলের মধ্যে কখনও কখনও আওয়াজ আসে, আবার মাঝে মাঝে কানে লাগার মতো এক ধরনের গুঞ্জনও শোনা যাচ্ছে।
রাশিয়ার ডিজিটাল উন্নয়ন মন্ত্রণালয় বলেছে, বারবার অনুরোধ করার পরও নিজেদের বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে জালিয়াতি ও সন্ত্রাসবাদসহ অবৈধ কাজের ব্যবহার বন্ধে পদক্ষেপ নেয়নি টেলিগ্রাম ও হোয়াটসঅ্যাপ।
দেশটির সংসদের নিম্নকক্ষের তথ্য প্রযুক্তি কমিটির উপ-প্রধান আন্তন গোরেলকিন বলেছেন, এসব প্ল্যাটফর্মকে রাশিয়ায় নিজেদের নিবন্ধিত কোম্পানি গড়ে তুলতে হবে এবং রাশিয়ান আইন মেনে চলার অংশ হিসাবে রসকোমনাদজর ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতা করতে হবে। রুশ আইন মেনে চলার প্রমাণ দিলে তাদের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়া হবে।
২০২২ সালে মেটাকে উগ্রবাদী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করেছিল মস্কো। তবে রাশিয়ায় ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত হোয়াটসঅ্যাপকে এতদিন চালু রেখেছিল দেশটি। রাশিয়ার নিষিদ্ধ তথ্য মুছে ফেলতে ব্যর্থ হওয়ার কারণে হোয়াটসঅ্যাপকে কয়েকবার জরিমানা করেছে রাশিয়া।
গত মাসে গোরেলকিন বলেছিলেন, হোয়াটসঅ্যাপকে ‘রাশিয়ার বাজার ছাড়ার জন্য প্রস্তুতি নিতে হবে’।
দেশটির আরেকজন আইনপ্রণেতা বলেছিলেন, রাশিয়ার বাজারে হোয়াটসঅ্যাপের উপস্থিতি দেশটির জাতীয় নিরাপত্তার জন্য হুমকি।