Published : 08 Dec 2025, 03:09 PM
সময়ের সঙ্গে দ্রুত বদলাচ্ছে প্রযুক্তি, আর ততই যেন একদল তরুণ পাল্টা স্রোতে ফিরে যাচ্ছে আগের যুগের ডিভাইসের কাছে। কিশোর থেকে কুড়ির কোঠার তরুণদের মধ্যে এই রেট্রো টেকের প্রতি নতুন আগ্রহ তৈরি হয়েছে, আর এর পেছনে আছে নস্টালজিয়া, মালিকানা অনুভূতি আর একটু অপরিকল্পিত গতির খোঁজ।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, অ্যামাজন ইউকে’র ব্ল্যাক ফ্রাইডে সেলে রেট্রো স্টাইলের ডিভাইসের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে গিয়েছে। পোর্টেবল ভিনাইল প্লেয়ার, তামাগোচি আর ডিসপোজেবল ক্যামেরা ছিল তাদের সেরা বিক্রির মধ্যে। যুক্তরাজ্যের খুচরা বিক্রেতা ‘কারিজ আর জন লুইস’ও বলছে, রেডিও, ইনস্ট্যান্ট ক্যামেরা, এমনকি সাধারণ অ্যালার্ম ক্লকের বিক্রি অনেক গুণ বেড়েছে।
ডিভিডির বক্স দেয় বাস্তব মালিকানা
অনেকেই যেখানে নেটফ্লিক্স ঘেঁটে দেখার মতো কিছু না পেয়ে স্ক্রল করে, সেখানে ১৭ বছর বয়সী ডেকলান ডিভিডি বাক্স হাতে না নিলে তৃপ্ত হন না। নানির (বা দাদীর) সংগ্রহ দেখে বড় হওয়া ডেকলান বন্ধু নিয়ে একদিন দোকানে গিয়ে নিজের ডিভিডি কেনা শুরু করেন।
তিনি বলেন, “আমার কাছে কেসটাই বড় ব্যাপার। খুব পরিষ্কার চকচকে কেস আমার খুব পছন্দ।”
নেটফ্লিক্স আর ডিজনি+ বাজারে আধিপত্য করলেও ডেকলান মনে করেন বাস্তব জিসিনের মালিকানা থাকার আনন্দ ‘অন্যরকম’।
"নিজের কিছু থাকা ভালো লাগে, সবসময় সাবস্ক্রিপশন দেওয়ার চেয়ে এটা আলাদা। কাল যদি স্ট্রিমিং অ্যাক্সেস হারাই, আমার পছন্দের সিনেমা তবুও থাকবে।"
ডিভিডি এখন ‘পুরোনো পদ্ধতি’। কিন্তু এগুলো এখন সস্তা হয়ে এসেছে। “আমার মনে হয় এগুলো দারুণ, ডিভিডিতে একটা আসল অনুভূতি আছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম পেরিয়ে এসেছে এটা, হাতে পাওয়া ভালো লাগে।”
এলপিতে হাত ছোঁয়ালেই মনে হয় আসল
২০ বছর বয়সী সল ২০১৬ সাল থেকে ভিনাইল বা এলপি সংগ্রহ করছেন। নতুন ভিনাইলের দাম গড়ে ৩৫ পাউন্ড হলেও তিনি মনে করেন এই মূল্য সার্থক।
“শব্দটা অনেক বেশি বাস্তব লাগে,” তিনি বলেন।
“রেকর্ডের খাঁজ শুনলে বোঝা যায়, ফোনে স্ক্রল করার মতো নয়। একটা বাস্তব জিনিস হাতে থাকে।”
সলের কাছে আকর্ষণ শুধু শব্দ নয়।
“কভার আর্টটা হাতে পাওয়া, নিজে ডিস্ক বসানো সব মিলিয়ে আলাদা অভিজ্ঞতা।”
তবে তিনি মানেন, ভিনাইলের জনপ্রিয়তা সবসময় একই থাকবে না।
“অনেকের কাছে এটা ট্রেন্ড। সোশাল মিডিয়ার ট্রেন্ডের মতো আসে যায়। দাম বেশি হলে অনেকে সরেও যাবে।”
তবু তিনি সংগ্রহ চালিয়ে যাবেন। “কারণ আমি শুনতে চাইলে যেন ওই বিকল্পটা হাতে থাকে।”
ফিল্ম ক্যামেরা যেন অমর
২১ বছর বয়সী এভিনের কাছে ফোন নয়, পুরোনো ফিল্ম ক্যামেরাই ছবি তোলার আনন্দ এনে দেয়।
তিনি বলেন, “এর মান আর ছবির যে স্টাইল, ফোনে তার তুলনা হয় না।”
ফিল্ম ব্যবহার মানে ধৈর্য। ছবিটা কেমন হলো তা জানতে অপেক্ষা করতে হয়, আর এটাই তার কাছে মজার।
জন্মদিন, ছুটি, হাঁটাহাঁটি সব জায়গায় তিনি ক্যামেরা নিয়ে যান।
এভিনের মনে হয় এই আগ্রহ তৈরি হয় নস্টালজিয়া থেকে।
“অনেকেই ছোটবেলায় বাবা-মাকে ক্যামেরা ব্যবহার করতে দেখেছে। সেটা মনে আছে বলেই আগ্রহ তৈরি হয়। ফোনে সবকিছু তৎক্ষণাৎ পাওয়া যায় না, তাই এটা আলাদা অভিজ্ঞতা।”
তার ভাষায়, “ফিজিক্যাল ক্যামেরা অমর। আগের প্রজন্ম এগুলো দিয়ে স্মৃতি ধরে রেখেছে, তাই এগুলো কখনো হারিয়ে যাবে না।”
পিএস৫ গেইমের আকর্ষণ
২১ বছর বয়সী কাইল নিজের শৈশবের স্মৃতি ফেরাতে কিনেছেন পিএসপি। দুই হাজার পাঁচ সালে যে কনসোল যুক্তরাজ্যে ঝড় তুলেছিল, সেটাই আজ তার কাছে আরামের জায়গা।
তিনি বলেন, “এটা ছিল আমার প্রথম গেইম কনসোল। অদ্ভুত এক স্বস্তি দেয়, ঘরোয়া অনুভূতি। তাই রেট্রোই লাগে।”
স্ক্রিন বা বাটন ভালো নয়, নির্ভরযোগ্যতাও কম, কিন্তু কাইলের মতে এগুলোই সবকিছু নয়।
“এখনকার কনসোল দিলে আপডেট ডাউনলোড ছাড়া খেলা যায় না। পিএসপি দিলে গেম ঢোকাও আর খেলা শুরু করো।”
তিনি বলেন, “নিড ফর স্পিড খেলছি প্রতিদিন। আমার পিএস৫ এর যেকোনো গেমের চেয়ে এটা বেশি টানে।”
প্রাথমিকভাবে এটাকে অনেকে ট্রেন্ড বললেও কাইলের মতো ব্যবহারকারীদের কাছে বিষয়টা শুধু ট্রেন্ড নয়।
“অনেকেই এটা ফ্যাশনের মতো ব্যবহার করে, এক ধরনের অ্যাক্সেসরি। বেশিরভাগের কাছে এটা ট্রেন্ড। কিন্তু আমার মতো যারা আছে, তারা এটা চালাতে থাকবে যতদিন চলে।”
জেন জি’রা আগের যুগের এসব প্রযুক্তিতে কেন ফিরছে, তা পরিষ্কার বলেই লিখেছে বিবিসি।
তাৎক্ষণিক ডিজিটাল সুবিধার ভিড়ে এরা খুঁজছে ধীর গতির স্বাদ, হাতে থাকার আনন্দ আর এমন অভিজ্ঞতা যা অ্যালগরিদম নিয়ন্ত্রণ করে না। পুরোনো প্রযুক্তি তাই তাদের কাছে নতুন বিকল্প।