Published : 19 Jul 2025, 01:05 PM
বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে শত শত কোটি ডলারের মামলা নিষ্পত্তিতে রাজি হয়েছেন মেটার সিইও মার্ক জুকারবার্গ। কোম্পানিটির শীর্ষ নির্বাহী ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে মামলাটি করেছিলেন খোদ মেটারই বিনিয়োগকারীরা।
মামলায় অভিযোগ উঠেছিল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকের বিরুদ্ধে বারবার প্রাইভেসি লঙ্ঘনের ঘটনা ঠিকভাবে সামলাননি ও গুরুত্ব দেননি মেটা প্রধান ও কোম্পানিটির শীর্ষ কর্মকর্তারা।
এ মামলায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে আটশ কোটি ডলার চাইছিলেন বিনিয়োগকারীরা। তবে শেষ পর্যন্ত কত ডলারে এ মামলার মীমাংসা হয়েছে তা এখনও স্পষ্ট নয় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
বৃহস্পতিবার মামলার দ্বিতীয় দিন শুরু হওয়ার ঠিক আগে যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়ারের এক আদালতে এ মামলার মীমাংসার বিষয়টি ঘোষণা করেছেন বিনিয়োগকারীদের পক্ষের একজন আইনজীবী। তবে এ নিষ্পত্তির বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মেটা।
বিনিয়োগকারীদের অভিযোগ ছিল, জাকারবার্গের কর্মকাণ্ডের ফলেই কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা কেলেঙ্কারির ঘটনা ঘটেছিল, যেখানে কোটি কোটি ফেইসবুক ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত তথ্য ফাঁস হয়েছিল।
রয়টার্স লিখেছে, মামলার সূচনা ২০১৮ সালে। ওই সময় ব্যবহারকারীদের ফাঁস হওয়া তথ্যে প্রবেশ করেছিল ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’ নামের এক রাজনৈতিক পরামর্শক কোম্পানি, যেটি পরে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ২০১৬ সালে ডনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার জন্য কাজ করেছিল কোম্পানিটি।
বিনিয়োগকারীরা বিচারককে অনুরোধ করেছিলেন, ক্ষতিপূরণ হিসেবে মেটাকে যেন আটশ কোটি ডলারের বেশি অর্থ ফেরত দিতে নির্দেশ দেন মামলায় নাম থাকা ১১ জনকে। যার মধ্যে রয়েছে ‘কেমব্রিজ অ্যানালিটিকা’ কেলেঙ্কারি প্রকাশের পর মেটার দেওয়া জরিমানা ও অন্যান্য খরচ। আরও রয়েছে ২০১৯ সালে এফটিসি’র মাধ্যমে করা ২০১২ সালের চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগে ফেইসবুককে দেওয়া রেকর্ড পাঁচশো কোটি ডলারের জরিমানাও।
মামলার আসামিদের মধ্যে ছিলেন মেটার সাবেক চিফ অপারেটিং অফিসার শেরিল স্যান্ডবার্গ, বিনিয়োগকারী ও বোর্ড সদস্য মার্ক অ্যান্ড্রিসেন, সাবেক বোর্ড সদস্য ও ‘প্যালান্টির টেকনোলজিস’-এর সহ-প্রতিষ্ঠাতা পিটার থিল এবং নেটফ্লিক্সের সহপ্রতিষ্ঠাতা রিড হ্যাস্টিংস।
আদালতে দাখিল করা নথিতে এসব অভিযোগকে ‘চরম আবদার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছিলেন জাকারবার্গ ও অন্যান্য কর্ককর্তারা। মেটা নিজে এই মামলার আসামি নয়।
জুরি ছাড়াই এ সপ্তাহে মামলাটি শুরু হয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের ডেলাওয়্যার অঙ্গরাজ্যের উইলমিংটনে, যার নিষ্পত্তি হল বৃহস্পতিবার।
মামলাটি পুরানো নীতিমালার ওপর ভিত্তি করে হলেও এমন সময়ে এটি শুরু হয়েছিল যে সময় প্রাইভেসি নিয়ে উদ্বেগ এখনও মেটার পিছু ছাড়েনি বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
বর্তমানে এআই মডেল প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে কড়া নজরদারির মুখে রয়েছে মেটা। মার্কিন যোগাযোগ মাধ্যম জায়ান্টটি বলেছে, ২০১৯ সাল থেকে ব্যবহারকারীদের প্রাইভেসি রক্ষায় শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে তারা।
দুই বছর আগে, মামলাটি বিচার শুরুর আগেই খারিজ করার আবেদন করেছিলেন মামলার আসামিরা। তবে বিচারক তাদের এ আবেদন মঞ্জুর করেননি।
সে সময় মামলার বিচারক ট্র্যাভিস ল্যাস্টার বলেছিলেন, “এটি এমন এক মামলা, যেখানে অনেক বড় মাত্রার ভুল কাজের অভিযোগ উঠেছে।”