প্রতারণা বাড়ছে, স্থগিত এনএফটি লেনদেন

এনএফটি নিয়ে অনলাইনে প্রতারণা আর জালিয়াতি এতোটাই বেড়েছে যে, এনএফটি’র কেনাবেচা স্থগিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ‘সেন্ট’ । টুইটার প্রতিষ্ঠাতা জ্যাক ডরসি’র প্রথম টুইটের এনএফটি ২৯ লাখ ডলারে বেচে আলোচনায় এসেছিল প্রতিষ্ঠানটি।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Feb 2022, 12:26 PM
Updated : 14 Feb 2022, 12:26 PM

২০২১ সালে প্রায় আড়াই হাজার কোটি ডলারের এনএফটি লেনদেন হয়েছে বিশ্বব্যাপী। কিন্তু এই খাতের লেনদেনের একটা বড় অংশ হচ্ছে হয় ভুয়া এনএফটি নিয়ে, অথবা মিথ্যা প্রচারণা চালিয়ে কৃত্রিমভাবে পণ্যের দাম বাড়িয়ে মুনাফা লুটেছেন প্রতারকরা।

এমন পরিস্থিতিতে সেন্ট বলছে, মানুষ এমন সবটোকেন বেচছে যা প্রতিষ্ঠানটির পণ্য নয়। উদীয়মান ডিজিটাল সম্পদ বাজারটির জন্য এটি একটি ‘মৌলিক সমস্যা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন সেন্ট-এর প্রতিষ্ঠাতা ক্যামেরন হেজাজি।

সোজা কথায় বললে, এনএফটি হচ্ছে এমন এক ডিজিটাল সম্পদ যা ছবি, ভিডিও বা টেক্সট-এর মতো ডিজিটাল ফাইলের মালিকানা টুকে রাখে। এনএফটি বানাতে পারবেন যে কেউ, আর টোকেনের মালিকানা হাত বদল হলেও তার সঙ্গে সঙ্গে পাল্টে যায় না মূল বস্তুটির মালিকানার তথ্য।

কিন্তু ব্লকচেইন ও এনএফটি প্রযুক্তি যতো বেশি গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে ততোই অনলাইনে এই প্রযুক্তি নিয়ে জালিয়াতি ও প্রতারণা বাড়ছে। এমনকি বিক্রেতারা এনএফটি’র দাম বাড়াতে নিজের পণ্য নিজের কাছে বারবার ভিন্ন নামে বেচাকেনা করে দাম বাড়াচ্ছেন বলে জানিয়েছে রয়টার্স।

প্রযুক্তি ইতিহাসে প্রথমবারের মতো মিলিয়ন ডলার দামে কোনো এনএফটি বেচে খবরের শিরোনাম হয়েছিল সেন্ট। কিন্তু ৬ ফেব্রুয়ারি থেকে প্রতিষ্ঠানটি এনএফটি লেনদেন স্থগিত রেখেছে বলে রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছেন প্রতিষ্ঠানটির সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী হেজাজি। 

“এমন কিছু কর্মকাণ্ড হচ্ছে যা আসলে বৈধভাবে হওয়া উচিত নয়।”-- রয়টার্সকে বলেন হেজাজি।

রয়টার্স বলছে, সেন্ট এনএফটি বিকিকিনির বাজার ‘beta.cent.co’ বন্ধ রাখলেও চালু আছে প্রতিষ্ঠানটির ‘ভ্যালুয়েবলস’ সেবা। এই সেবাটির মাধ্যমেই টুইটের এনএফটি বেচে প্রতিষ্ঠানটি।

তিনটি মূল সমস্যার কথা বলেছেন হেজাজি– এনএফটি’র অনুনোমোদিত কপি বিক্রি করছে মানুষ, মানুষ এমন সব জিনিসের এনএফটি বানাচ্ছেন যার মালিকানা আদতে তার নয় এবং প্রতিষ্ঠানের আর্থিক দলিলের এনএফটি বানিয়ে বিক্রি করছেন প্রতারকরা।

এই সমস্যাগুলো ক্রমশঃ বড় আকার ধারণ করেছে বলে জানিয়েছেন হেজাজি। “আমরা যতোবারই কোনো অ্যাকাউন্ট নিষিদ্ধ করি, আরেকটা তৈরি হয়ে যায়, অথবা একবারে তিনটা তৈরি হয়ে যায়।”

পুরো এনএফটি বাজারের তুলনায় প্রতিষ্ঠান হিসেবে সেন্ট ছোট হলেও হেজাজি বলছেন পুরো শিল্পখাতেই সমস্যাগুলো রয়েছে।  বর্তমান এনএফটি বাজারের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান ওপেনসি বলছে, তাদের প্ল্যাটফর্মে বিনা খরচে প্রস্তুতকৃত ৮০ শতাংশ এনএফটি নকল করে বানানো অথবা স্প্যাম।

এ প্রসঙ্গে প্রতিষ্ঠানটির এক মুখপাত্র বলেছেন, “নকল করে বানানো এনএফটি’র বিক্রি আমাদের নীতিমালা বিরোধী।”

তবে, হেজাজি বলছেন, কনটেন্ট নির্মাতাদের পক্ষে কাজ করতে চায় তার প্রতিষ্ঠান। নিজস্ব এনএফটি বাজার আবার চালু করতে একটি অস্থায়ী কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা চালু করা হতে পারে বলেও জানিয়েছেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক