ওয়েবসাইটে ‘স্ক্রিপ্ট চালিয়ে’ হাপিস ১২ কোটি ডলারের ক্রিপ্টো

বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক লেনদেন প্ল্যাটফর্ম ব্যাজারডিএও-এর সঙ্গে সংযুক্ত একাধিক ক্রিপ্টোকারেন্সি ওয়ালেট থেকে ‘কে বা কাহারা’ তহবিল সরিয়েছে। তদন্ত প্রতিষ্ঠানের হিসাব অনুসারে, আক্রমণে চুরি হওয়া বিভিন্ন টোকেনের মূল্য প্রায় ১২ কোটি ডলার।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2021, 11:47 AM
Updated : 3 Dec 2021, 11:47 AM

তদন্ত এখনও চলছে। ব্যাজার দলের সদস্যরা বলেছেন, তাদের বিশ্বাস, ওয়েবসাইটের ইউআইতে একটি স্ক্রিপ্ট ঢোকানোর মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে এই অপকর্ম। প্রযুক্তি সাইট ভার্জ বলছে, স্ক্রিপ্ট সক্রিয় থাকার সময় যে ব্যবহারকারীরা সাইটে ঢুকেছেন, ওই স্ক্রিপ্ট তাদের টোকেনগুলো আক্রমণকারীর কাছে পাঠিয়েছে।

তদন্ত প্রতিষ্ঠান পেকশিল্ড বলছে, “লেনদেনের স্বচ্ছ প্রকৃতির কারণে আমরা দেখতে পাচ্ছি আক্রমণ শুরু হওয়ার পর কী ঘটেছিল।”

পেকশিল্ড একটি লেনদেনের কথা উল্লেখ করেছে। ওই স্থানান্তরে হাপিস হয়েছে ৮৯৬ বিটকয়েন, যার বর্তমান মূল্য পাঁচ কোটি ডলারেরও বেশি। প্রতিষ্ঠানটির মতে, ক্ষতিকর ওই কোডটি নভেম্বরের ১০ তারিখে প্রথম দেখা গেছে। এরপর শনাক্তকরণ এড়াতে আক্রমণকারীরা এলোমেলো বিরতিতে এটি চালিয়েছে।

বিকেন্দ্রীভূত আর্থিক ব্যবস্থা (বা ডিফাই) সিস্টেমগুলি ব্লকচেইন প্রযুক্তির উপর নির্ভর করে। এর মাধ্যমেই ক্রিপ্টো মালিকরা ঋণ দেওয়ার মাধ্যমে সুদ অর্জনের মতো কাজ করতে পারেন। ব্যাজারডিএও এর আগে বলেছে, “আপনি অনায়াসে বিশ্রাম নিতে পারেন, কারণ, ক্রিপ্টোর জন্য আপনাকে কখনই ব্যক্তিগত কি ছেড়ে দিতে হবে না, আপনি যে কোনও সময় অর্থ তুলে নিতে পারবেন।”

“আমাদের কর্মীরা আপনার সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহারের জন্য দিনরাত কাজ করছেন।"

এই প্ল্যাটফর্মটি বিটকয়েন ও ইথার ক্রিপ্টোকারেন্সির মধ্যে লেনদেনের সুবিধা দেয়। খুব বেশি সংখ্যক প্ল্যাটফর্ম এই সুবিধা দেয় না।

অননুমোদিত স্থানান্তর সম্পর্কে সচেতন হওয়ামাত্রই ব্যাজার সমস্ত স্মার্ট লেনদেন স্থগিত করেছে। সহজ ভাষায়, গোটা প্ল্যাটফর্মটি হিমায়িত করে ফেলে এবং ব্যবহারকারীদের সমস্ত লেনদেন প্রত্যাখ্যান করার পরামর্শ দিয়েছে।

প্রতিষ্ঠানটি বৃহস্পতিবার রাতে বলেছে, তারা ঘটনার পূর্ণ তদন্তের জন্য ডেটা ফরেনসিক বিশেষজ্ঞ চেইনালিসিসকে ব্যবহার করছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং কানাডা উভয় দেশের কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেছে এবং ব্যাজার বাহ্যিক তদন্তের পাশাপাশি নিজেরাও বিষয়টি বিশ্লেষণ করছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক