Published : 17 Sep 2025, 07:20 PM
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই বিশ্ব বাণিজ্যকে পুরোপুরি বদলে দিতে যাচ্ছে বলে ভাবষ্যদ্বাণী করেছে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা।
বুধবার প্রকাশিত এক নতুন প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ২০৪০ সালের মধ্যে প্রায় ৪০ শতাংশ বাড়তি মূল্যের বাণিজ্যিক পণ্য ও পরিষেবার যোগ করতে পারে এআই। তবে এআই নিয়ে যথাযথ নীতি গ্রহণ করা না হলে তা অর্থনৈতিক বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
এআইয়ের মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যয় হ্রাস ও উৎপাদনশীলতা বেড়ে যাওয়ার ফলে ২০৪০ সালের মধ্যে বিশ্বের বাণিজ্য ও জিডিপিতে উল্লেখযোগ্য প্রবৃদ্ধি ঘটতে পারে। বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে গোটা বিশ্বের বাণিজ্য ৩৪ থেকে ৩৭ শতাংশ পর্যন্তও বাড়তে পারে বলেও আভাস দিয়েছে সংস্থাটি।
সংস্থাটি আরও বলেছে, এআইয়ের মাধ্যমে ২০৪০ সালের মধ্যে বৈশ্বিক জিডিপি বাড়তে পারে ১২ থেকে ১৩ শতাংশ পর্যন্ত।
এ বার্ষিক প্রতিবেদনে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার উপ-মহাপরিচালক জোয়ান্না হিল বলেছেন, “ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠা বৈশ্বিক বাণিজ্য পরিবেশে বাণিজে করার জন্য আশার আলো হয়ে উঠতে পারে এআই।”
রয়টার্স লিখেছে, প্রতিবেদনটি বহুপাক্ষিক বাণিজ্য ব্যবস্থার চলমান বিভিন্ন প্রবণতা বিশ্লেষণ করে ইঙ্গিত দিয়েছে, এআই কীভাবে বিশ্ব বাণিজ্যে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
বর্তমানে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় অস্থিরতার বিষয়টি স্বীকার করে জোয়ান্না হিল বলেছেন, বৈশ্বিক অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ভবিষ্যৎ নতুনভাবে গড়ে দিচ্ছে এআই। যার মাধ্যমে বাণিজ্য ব্যয় কমানো ও উৎপাদনশীলতা বাড়ানোর বড় সম্ভাবনা রয়েছে।
জেনিভাভিত্তিক এ বাণিজ্য সংস্থাটি যেসব বৈশ্বিক বাণিজ্য নীতি ও নিয়মকানুন নিয়ন্ত্রণ করে সেগুলো এ বছরে বড় ধরনের বাধার মুখে পড়েছে। এর মূল কারণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের ধারাবাহিক শুল্ক আরোপ।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি তুলে ধরেছে, কীভাবে এআইয়ের মাধ্যমে খরচ কমাতে পারেন ব্যবসায়ীরা, বিশেষ করে লজিস্টিকস বা পণ্য পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থাপনা, বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক নিয়ম মেনে চলা এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার বেলায়।
“এআইচালিত অনুবাদ প্রযুক্তি যোগাযোগকে দ্রুত ও খরচ সাশ্রয়ী করে তুলতে পারে, বিশেষ করে ছোট উৎপাদক ও খুচরা বিক্রেতাদের উপকারে আসবে এটি। কারণ এর মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রবেশের সুযোগ পাবে তারা।”
এমন প্রযুক্তিগত অগ্রগতি নিম্নআয়ের বিভিন্ন দেশের রপ্তানি প্রবৃদ্ধি প্রায় ১১ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে পারে। তবে, তারা যদি নিজেদের ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নত করতে পারে তবেই সেটি সম্ভব।
প্রতিবেদনে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, নির্দিষ্ট বিনিয়োগ ও সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার নীতি যদি না মানা হয় তবে বর্তমান অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্যকে আরও বাড়িয়ে দিতে পারে এআই।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার মহাপরিচালক নগোজি অকনজো-ইওয়ালা বলেছেন, এআই রূপান্তরকে সাবধানতার সঙ্গে পরিচালনা করতে হবে নীতিনির্ধারকদের।
“শ্রমবাজারকে উল্টে দিতে পারে এআই। কিছু চাকরি পুরোপুরি বদলে ফেলবে, আবার কিছু নতুন চাকরিও আসবে। এসব পরিবর্তন সফলভাবে ঠেকানোর জন্য বিভিন্ন দেশের দরকার দেশীয় পর্যায়ে বিনিয়োগ করা। যেমন: শিক্ষা ব্যবস্থা উন্নয়ন, দক্ষতা বৃদ্ধি, কর্মীদের পুনরায় প্রশিক্ষণ এবং সামাজিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা।”