১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পিক্সেল ১১ সিরিজসহ তিন নতুন ডিভাইস আনল গুগল

রঙের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি এসব ফোনের ক্যামেরা বারে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন, যেখানে গ্লাস ও মেটাল ফ্রেমের সমন্বয়ে নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে ফোনগুলো।

পিক্সেল ১১ সিরিজসহ তিন নতুন ডিভাইস আনল গুগল
বহুল প্রতীক্ষিত পিক্সেল ১১ সিরিজের একাধিক ফোন, পিক্সেল ওয়াচ ৫ ও নতুন ব্লুটুথ ট্র্যাকার ‘পিক্সেল ট্যাগ’ উন্মোচন করেছে কোম্পানি। ছবি: এনগ্যাজেট

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 12 Aug 2026, 11:02 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:49 PM

স্মার্টফোন জগতের শীর্ষ কোম্পানিগুলোর নতুন ডিভাইস উন্মোচনের এই মৌসুমে স্যামসাং ও অ্যাপলের পাশাপাশি এবার বাজিমাত করল মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্ট গুগল।

বুধবার সন্ধ্যায় এক জমকালো ইভেন্টে বহুল প্রতীক্ষিত পিক্সেল ১১ সিরিজের একাধিক ফোন, পিক্সেল ওয়াচ ৫ ও নতুন ব্লুটুথ ট্র্যাকার ‘পিক্সেল ট্যাগ’ উন্মোচন করেছে কোম্পানি।

প্রযুক্তি সংবাদের সাইট এনগ্যাজেট প্রতিবেদনে লিখেছে, নতুন ফোন সিরিজে পিক্সেল ১১, পিক্সেল ১১ প্রো, পিক্সেল ১১ প্রো এক্সএল ও পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড নামে মোট চারটি মডেল এনেছে গুগল।

রঙের বৈচিত্র্যের পাশাপাশি এসব ফোনের ক্যামেরা বারে আনা হয়েছে বড় পরিবর্তন। গ্লাস ও মেটাল ফ্রেমের সমন্বয়ে নতুনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে এসব ফোন।

সিরিজের প্রতিটি ফোনেই ব্যবহার করা হয়েছে গুগলের নতুন ‘টেনসর জি৬’ প্রসেসর। আগের টেনসর জি৫-এর তুলনায় প্রসেসরটি ২০ শতাংশ বেশি বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী, ২৫ শতাংশ দ্রুত ব্রাউজিং ও ১৫ শতাংশ দ্রুত অ্যাপ লোডিং সুবিধা দেবে।

এর প্রসেসিং সক্ষমতার কারণে অন-ডিভাইস এআই মডেল ‘জেমিনাই ন্যানো’ আরও কম ল্যাটেন্সিতে লাইভ অনুবাদসহ নানা স্মার্ট ফিচার পরিচালনা করবে।

এসব ফোনের ক্যামেরা প্রযুক্তিতেও পরিবর্তন এনেছে গুগল। শক্তিশালী টেনসর প্রসেসিং ইউনিটের সহায়তায় নতুন ‘ইনস্ট্যান্ট নাইট সাইট’ ফিচারের মাধ্যমে যে কোনো কম আলোর ছবি আগের চেয়ে চার দশমিক পাঁচ গুণ দ্রুত তোলা যাবে।

এ ছাড়া এসব ফোনে ১২০ এক্স প্রো জুমের সাহায্যে দূরের ছবি ধারণ করা সম্ভব। স্মার্টফোনের ব্যাটারি লাইফ সম্পর্কে গুগল বলেছে, ‘অ্যাডাপ্টিভ ব্যাটারি’ প্রযুক্তির কারণে পিক্সেল ১১ সিরিজের ফোনগুলো একবার চার্জে ৩০ ঘণ্টারও বেশি সময় সচল থাকবে।

টাইপ-সি কেবল দিয়ে কেবল ৩০ মিনিট চার্জেই ফোনগুলো ৫০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত চার্জ নেবে। এ ছাড়া ওয়্যারলেস চার্জিংয়ের জন্য এদের চৌম্বকীয় এক্সেসরি ইকোসিস্টেম ‘পিক্সেলস্ন্যাপ’-এর চার্জিং স্পিডও বাড়ানো হয়েছে।

এসব ফোন ‘আইপি৬৮ ওয়াটার’ ও ডাস্ট রেজিস্ট্যান্ট এবং গুগলের সর্বশেষ অ্যান্ড্রয়েড ১৭ অপারেটিং সিস্টেমে চলবে।

উৎপাদন খরচ বাড়ার কারণে গেল বছরের পিক্সেল ১০ সিরিজের তুলনায় এবারের প্রতিটি মডেলের দাম ১০০ ডলার করে বাড়ানো হয়েছে। তবে পিক্সেল ১১ ও ১১ প্রো-এর বেইস স্টোরেজ বাড়িয়ে ২৫৬ জিবি করে দামবৃদ্ধির বিষয়টি কিছুটা পুষিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছে গুগল।

মূল মডেলে র‍্যাম ১৬ জিবি থেকে কমিয়ে ১২ জিবি করা হলেও গ্রাহকরা চাইলে ১৬ জিবির ভ্যারিয়েন্ট বেছে নেওয়ার সুযোগ পাবেন।

বুধবার থেকেই এসব ফোনের প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে এবং আগামী ২০ অগাস্ট থেকে বিশ্বজুড়ে এগুলো ক্রেতাদের হাতে পৌঁছানো শুরু হবে।

ফ্রস্ট, পিস্তাচ্চিও, হিস্কাস ও অবসিডিয়ান চারটি রঙে পাওয়া যাবে ফোনটি। ছবি: গুগল

ফ্রস্ট, পিস্তাচ্চিও, হিস্কাস ও অবসিডিয়ান চারটি রঙে পাওয়া যাবে ফোনটি

গুগল পিক্সেল ১১

গুগলের নতুন বেইস মডেল পিক্সেল ১১-এর ২৫৬ জিবি স্টোরেজ মডেলের দাম শুরু হচ্ছে ৮৯৯ ডলার থেকে। ফ্রস্ট, পিস্তাচ্চিও, হিস্কাস ও অবসিডিয়ান চারটি রঙে পাওয়া যাবে ফোনটি।

নতুন চিপসেট ও স্টোরেজ আপগ্রেড ছাড়াও ফোনটির নকশায় আনা হয়েছে কিছুটা পরিবর্তন। তবে ডিসপ্লেতে তেমন বড় পরিবর্তন আসেনি। পিক্সেল ১০-এর মতো এতেও রয়েছে ৬ দশমিক ৩ ইঞ্চির ওএলইডি স্ক্রিন, যার ব্রাইটনেস সর্বোচ্চ ৩ হাজার নিটস ও রেজুলিউশন ১০৮০ বাই ২৪২৪ পিক্সেল।

পিক্সেল ১১-এর ক্যামেরা মডিউলটির উচ্চতা আগের চেয়ে কিছুটা কমানো হয়েছে। ফলে ক্যামেরা বারটি আগের মতো বেশি উঁচু হয়ে বের হয়ে থাকবে না। পেছনের মডিউলে রয়েছে ৪৮ মেগাপিক্সেলের মূল সেন্সর, ১৩ মেগাপিক্সেলের আল্ট্রাওয়াইড ও ১০.৮ মেগাপিক্সেলের টেলিফটো ক্যামেরা।

মডিউলের মেইন ক্যামেরা সেন্সরের আকার বাড়িয়ে ১ বাই ১.৫৬ ইঞ্চি করা হয়েছে, যা পিক্সেল ১০-এ ছিল এক বাই দুই ইঞ্চি এবং এটি ৮৫ ডিগ্রি ‘ওয়াইড ফিল্ড অফ ভিউ’ সাপোর্ট করবে।

ক্যামেরাটি এখন ৩০এক্স পর্যন্ত সুপার জুম সাপোর্ট করবে। ব্যাটারির সক্ষমতা সামান্য বাড়িয়ে ৪৯৮৫ এমএএইচ করা হলেও গুগলের দাবি, নতুন অপটিমাইজেশনের কারণে ফোনটির ব্যাটারি লাইফ আগের চেয়ে প্রায় ৬ ঘণ্টা বেশি পাওয়া যাবে।

পিক্সেল ১১ প্রো ও প্রো এক্সএল

অন্যদিকে, প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির পিক্সেল ১১ প্রো-এর প্রাথমিক সংস্করণ মিলবে ১ হাজার ৯৯ ডলারে এবং প্রো এক্সএল সংস্করণের দাম শুরু হবে ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে।

ক্যানিয়ন, অলিভ, ফগ ও অবসিডিয়ান চারটি রঙে ফোন দুটি বাজারজাত করা হবে। বেইস মডেলে র‍্যাম ১২ জিবি রাখা হলেও অতিরিক্ত মূল্য পরিশোধ করে ১৬ জিবি র‍্যাম ও ৫১২ জিবি বা ১ টিবি স্টোরেজ বেছে নেওয়ার সুযোগ থাকবে।

ফোন দুটিতে রয়েছে ৩ হাজার ৬০০ নিটসের উচ্চ ব্রাইটনেসওয়ালা ডিসপ্লে। পাশাপাশি, এটি গত বছরের প্রো মডেলের দ্বিগুণ স্ক্র্যাচ বা আঁচড় প্রতিরোধী।

ক্যামেরা প্রযুক্তির ক্ষেত্রে প্রো মডেলগুলোতে ১২০এক্স প্রো জুম যোগ করেছে গুগল। তবে ‘হাইলাইট’ নামরে এক বৃত্তাকার এলইডি লাইট রিং যোগ হয়েছে এতে, যা ফ্ল্যাশলাইটের চারপাশে বসানো হয়েছে।

ফোনটি টেবিলে উল্টো করে রাখা অবস্থায় মনোযোগ নষ্ট না করে কেবল গুরুত্বপূর্ণ নোটিফিকেশনগুলো ব্যবহারকারীকে জানানোই এই ‘হাইলাইট’ ফিচারের মূল কাজ।

শুরুতে ফিচারটি দুটি ক্ষেত্রে কাজ করবে। প্রথমত, জেমিনাই কখন ব্যবহারকারীর কথা শুনছে বা রেসপন্স করছে তা লাইটের সিগনালে বোঝা যাবে। দ্বিতীয়ত, হোয়াটসঅ্যাপসহ গুরুত্বপূর্ণ বা প্রিয় কোনো পরিচিত নম্বর থেকে কল এলে বিশেষ আলো জ্বালিয়ে ফিচারটি সংকেত দেবে। ব্যস্ত সময়ে অপ্রয়োজনীয় নোটিফিকেশনের বিরক্তি কমাতে ফিচারটি বেশ কার্যকরী হবে।

প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির পিক্সেল ১১ প্রো-এর প্রাথমিক সংস্করণ মিলবে ১ হাজার ৯৯ ডলারে এবং প্রো এক্সএল সংস্করণের দাম শুরু হবে ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে। ছবি: গুগল

প্রিমিয়াম ক্যাটেগরির পিক্সেল ১১ প্রো-এর প্রাথমিক সংস্করণ মিলবে ১ হাজার ৯৯ ডলারে এবং প্রো এক্সএল সংস্করণের দাম শুরু হবে ১ হাজার ২৯৯ ডলার থেকে

পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড

পিক্সেল সিরিজের সবচেয়ে হাই-এন্ড ও ফোল্ডএবল স্মার্টফোন পিক্সেল ১১ প্রো ফোল্ড উন্মোচন করেছে গুগল, যার প্রাথমিক দাম ১ হাজার ৮৯৯ ডলার। অবসিডিয়ান ও অলিভ রঙে পাওয়া যাবে ফোনটি, এতে রয়েছে ৫১২ জিবি ও ১ টিবি পর্যন্ত স্টোরেজ অপশন।

নতুন ডিজাইনে ফোনটির এক্সটার্নাল বা বাইরের স্ক্রিন সামান্য বাড়িয়ে ৬ দশমিক ৫ ইঞ্চি করা হয়েছে ও রিফ্রেশ রেট ১ থেকে ১২০ হার্টজ পর্যন্ত ওঠানামা করতে পারে। উভয় স্ক্রিনের সর্বোচ্চ ব্রাইটনেস দাঁড়িয়েছে ৩ হাজার ৬০০ নিটস।

আগের মডেলের চেয়ে এবার ফোনটির ওজন কমিয়ে ২৩৮ গ্রাম করেছে গুগল, যা হালকা ও সহজে বহনযোগ্য। তবে ওজন কমাতে গিয়ে ব্যাটারির ধারণসমক্ষমতা কিছুটা কমিয়ে ৪ হাজার ৭৫০ এমএএইচ করা হয়েছে, যা আগের সংস্করণে ছিল ৫ হাজার ১৫ এমএএইচ।

ক্যামেরায় পিক্সেল ১১-এর উন্নত মূল সেন্সর ও ৩০এক্স পর্যন্ত সুপার জুম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। একই ইভেন্টে গুগল নিয়ে এসেছে তাদের পঞ্চম প্রজন্মের স্মার্টওয়াচ পিক্সেল ওয়াচ ৫।

গুগল ওয়াচে কুইক চার্জিংয়ের মাধ্যমে কেবল ১৫ মিনিটে ১৫ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। ছবি: এনগ্যাজেট

গুগল ওয়াচে কুইক চার্জিংয়ের মাধ্যমে কেবল ১৫ মিনিটে ১৫ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে

পিক্সেল ওয়াচ ৫

আগের সংস্করণের তুলনায় কিছুটা বাড়তি দামে ৩৯৯ ডলার থেকে বিক্রি শুরু হবে। এ ছাড়া বাস্কেটবল তারকা স্টিফ কারি’র ব্র্যান্ডেড এক বিশেষ সংস্করণও মিলবে ৫৭৯ ডলারে, যেখানে বিশেষ স্ট্র্যাপ ও ডায়নামিক ওয়াচ ফেইস দেওয়া হয়েছে। চাইলে এআই দিয়েও ব্যবহারকারীরা নিজস্ব ওয়াচ ফেইস তৈরি করে নিতে পারবেন।

ওয়াচটির ৪১ মিমি মডেলটি এক চার্জে ৩০ ঘণ্টা এবং ৪৫ মিমি মডেলটি ৪০ ঘণ্টা পর্যন্ত কার্যকর থাকবে, ব্যাটারি সেভার মোডে যা ৭২ ঘণ্টা পর্যন্ত বাড়বে।

কুইক চার্জিংয়ের মাধ্যমে কেবল ১৫ মিনিটে ১৫ ঘণ্টার ব্যাটারি ব্যাকআপ পাওয়া যাবে। ওয়াচটি আইপি৬৮ ও ৫০ মিটার পানির নিচে টিকে থাকতে পারবে। নতুন স্ন্যাপড্রাগন ডব্লিউ৫ জেন ২ চিপসেটের কারণে এতে মিলবে ২০ শতাংশ দ্রুত প্রসেসিং গতি ও অ্যাপ স্টোরেজের জন্য আগের চেয়ে দ্বিগুণ বা ৬৪ জিবি মেমোরি।

পিক্সেল ওয়াচ ৫-এর স্বাস্থ্যবিষয়ক ফিচারে বড় ধরনের পরিবর্তন এনেছে গুগল। হৃদস্পন্দন ও স্ট্রেস পরিমাপের পাশাপাশি নতুন এই ওয়াচে রক্তচাপের ধরণ ও ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স ট্র্যাক করা সম্ভব হবে।

এ ছাড়া ঘুমের সময় রক্তে অক্সিজেনের মাত্রার সূক্ষ্ম পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করে উন্নত ‘স্লিপ ট্র্যাকিং’ সুবিধা দেবে। ওয়াচের নতুন ‘রেডিনেস স্কোর’ ব্যবহারকারীকে জানান দেবে কখন বিশ্রাম প্রয়োজন আর কখন শরীরচর্চা করা উচিত।

পাশাপাশি গুগল হেলথ অ্যাপে ওয়ার্কআউটের রিয়াল-টাইম অডিও-ভিজুয়াল গাইডেন্স যোগ করেছে গুগল। প্রিমিয়াম সাবস্ক্রাইবারদের জন্য এতে থাকছে জেমিনাই ‘এআই হেলথ কোচ’, যা ব্যবহারকারীর প্রতিদিনের শারীরিক অবস্থা অনুসারে কাস্টমাইজড ফিটনেস প্ল্যান তৈরি করে দেবে।

ইন্টারনেট সংযোগ বা অফলাইনে থাকলেও ভয়েস কমান্ডের মাধ্যমে ওয়াচের টাইমার বা ওয়ার্কআউট ফিচার চালুর সুবিধা যোগ করেছে কোম্পানি।

৩০ ডলার দামের এ ক্ষুদ্র ট্র্যাকারটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যাবে। ছবি: গুগল

৩০ ডলার দামের এ ক্ষুদ্র ট্র্যাকারটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যাবে

পিক্সেল ট্যাগ

পিক্সেল সিরিজের পাশাপাশি এবার সম্পূর্ণ নতুন ক্যাটেগরির এক ডিভাইস উন্মোচন করেছে গুগল। নিজেদের ব্র্যান্ডিংয়ে তৈরি কোম্পানিটির প্রথম ব্লুটুথ ট্র্যাকার, যার নাম ‘পিক্সেল ট্যাগ’।

৩০ ডলার দামের এ ক্ষুদ্র ট্র্যাকারটি ব্যক্তিগত প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অবস্থান নির্ভুলভাবে শনাক্ত করতে ব্যবহার করা যাবে। পিক্সেল ট্যাগটি অ্যান্ড্রয়েডের ‘ফাইন্ড হাব’ নেটওয়ার্কের সঙ্গে যুক্ত।

ব্যবহারকারীরা পিক্সেল ওয়াচ বা জেমিনাই পিক্সেল বাডসের মাধ্যমে ট্র্যাকারটির অবস্থান খুঁজতে ও দূর থেকেই সংকেত বা রিং বাজাতে পারবেন। দীর্ঘ দূরত্বের সংযোগের জন্য ব্লুটুথের পাশাপাশি এতে ব্যবহৃত হয়েছে ‘আল্ট্রা-ওয়াইডব্যান্ড’ চিপ, যা বস্তুর একদম নিখুঁত অবস্থান জানিয়ে দেবে।

আকারে এ ট্যাগের উচ্চতা ১.৮ ইঞ্চি, চওড়া ১.১ ইঞ্চি ও পুরুত্ব ০.২ ইঞ্চি। ভেতরে লিথিয়াম ব্যাটারিসহ ডিভাইসটির মোট ওজন ১২ গ্রাম।

গুগল বলেছে, এতে ব্যবহৃত কয়েন ব্যাটারি দিয়ে একটানা প্রায় এক বছর ট্যাগটি সচল রাখা যাবে, এর পর সহজে ব্যাটারি বদলে নেওয়া সম্ভব।

পলিকার্বোনেট ও মেটালের মিশ্রণে তৈরি ট্র্যাকারটি ১ মিটার পানির নিচে ৩০ মিনিট পর্যন্ত সহনশীল। অ্যান্ড্রয়েড ৯ বা তার পরবর্তী যে কোনো সংস্করণের অপারেটিং সিস্টেমে চালিত ডিভাইসের সঙ্গে ট্যাগটি অনায়াসে ব্যবহার করা যাবে।