চীনের রাষ্ট্রীয় প্রকাশনায় নিজ কোম্পানির গুণগান গাইলেন মাস্ক

‘আকাশ-কুসুম’ ভাবনার মতো শোনালেও, মঙ্গলে একটি ‘স্বনির্ভর শহর’ নির্মাণ এবং মানব মস্তিষ্কের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়ের মতো উচ্চাকাঙ্খী পরিকল্পনার কথা বলেছেন মাস্ক।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 August 2022, 10:02 AM
Updated : 14 August 2022, 10:02 AM

মানব সভ্যতার জন্য আরও সুন্দর ভবিষ্যৎ গড়তে ভূমিকা রাখতে পারে টেসলা, নিউরালিংক ও স্পেসএক্স– চীনের স্থানীয় বাজার পর্যবেক্ষক ও সেন্সরশিপ সংস্থার সাময়িকীতে লেখা এক প্রবন্ধে এমন দাবি করেছেন বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক।

‘চায়না সাইবারস্পেস’-এর জুলাই সংস্করণের জন্য মাস্ক ছাড়াও প্রবন্ধ লিখেছেন চীনের বৃহত্তম পেমেন্ট সার্ভিস আলিপে’র মূল কোম্পানি অ্যান্ট গ্রুপের প্রধান নির্বাহী এরিক জিং শিয়ানডং। ‘প্রযুক্তি ও মানবতার’ ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের ভাবনাগুলো পাঠকদের সঙ্গে ভাগাভাগি করতেই সাময়িকীতে প্রবন্ধ লিখতে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল বলে দাবি করেছেন মাস্ক।

আর মাস্কও সেই সুযোগে নিজের মালিকানায় থাকা কোম্পানিগুলোর প্রযুক্তি ও কার্যক্রম নিয়ে প্রচার চালিয়েছেন বলে উঠে এসেছে প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট ভার্জের প্রতিবেদনে।

‘সাইবারস্পেস অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অফ চায়না (সিএসি)’ গঠিত হয়েছে ২০১৩ সালে। অনলাইন কনটেন্ট, ব্যবহারকারীদের ডেটা এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা বিষয়ে নীতিমালা গঠন ও প্রয়োগের দায়িত্ব পালন করে এ সংস্থাটি।

সিএসি পরবর্তীতে ‘নিউ মিডিয়া’ নামে একটি সাময়িকী প্রকাশ করা শুরু করে। এটি সাধারণত ইন্টারনেট বিষয়ক নীতিমালা নিয়ে গবেষণা ও বাজার নিয়ন্ত্রকদের ঘোষণা প্রকাশ করে।

এ বছরের শুরুতেই ম্যাগাজিনটি নতুন করে ব্র্যান্ডিং করেছে সিএসি, ‘নিউ মিডিয়া’ নাম পাল্টে হয়েছে ‘চায়না সাইবারস্পেস’।

আর এর জুলাই মাসের সংস্করণে মাস্ক লিখেছেন, “টেসলা, নিউরালিংক বা স্পেসএক্স বা যাই হোক না কেন, এ কোম্পানিগুলোর প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে ভবিষ্যৎ মানবজীবনকে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নিয়ে।”

এই কোম্পানিগুলোর মাধ্যমে বিশ্বের জন্য যতোটা সম্ভব মানসম্পন্ন ও ব্যবহারউপযোগী সেবা ও পণ্য বাজারজাত করে মানবসভ্যতার ভবিষ্যৎ গঠনে ইতিবাচক ভূমিকা রাখার কথা বলেছেন মাস্ক। ‘টেসলা বিশ্ব পরিবহন ব্যবস্থাকে নবয়ানযোগ্য শক্তির দিকে এগিয়ে নেবে, নিউরালিংক চিকিৎসা ও পুনর্বাসনে ভূমিকা রাখবে এবং মহাকাশে এক প্রান্ত থেকে আরেক প্রান্তে সংযোগ স্থাপন সম্ভব করে তুলবে স্পেসএক্স’ বলে প্রবন্ধে দাবি করেছেন মাস্ক।

এর বাইরেও নিজের কোম্পানিগুলোর সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ প্রযুক্তি নিয়ে বেশ কিছু পরিকল্পনার কথা বলেছেন মাস্ক যা বর্তমান বাস্তবতায় ‘আকাশ-কুসুম’ ভাবনার মতো শোনাতে পারে। এর মধ্যে আছে মঙ্গলে একটি ‘স্বনির্ভর শহর’ নির্মাণ এবং মানব মস্তিষ্কের সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সমন্বয়।

এ ছাড়াও, এক দশকেরও কম সময়ের মধ্যেই মানুষ উপহার হিসেবে রোবট কিনতে পারবেন– এমন সম্ভবনার কথাও বলেছেন মাস্ক।

প্রবন্ধটি মাস্কের জন্য ‘বুদ্ধিমানের মতো কাজ’ ছিল বলে এক টুইটে মন্তব্য করেছেন চীনের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা শিনহুয়ার সংবাদকর্মী ইয়াং লিউ। মাস্কের প্রবন্ধটি পশ্চিমা সংবাদমাধ্যমেও জন্য অনুবাদও করেছেন তিনি। লিউয়ের মতে, চীনের কর্মকর্তা এবং নাগরিকদের কাছে নিজের কোম্পানিগুলোর সক্ষমতা দেখানোর চেষ্টা করেছেন মাস্ক।

প্রবন্ধে মাস্ক আরও বলেছেন, “আমি আশা করছি বিশ্বকে নবায়নযোগ্য শক্তির দিকে ধাবিত করার লড়াইয়ের গতি বাড়াতে আরও বেশি মানুষ আমাদের সঙ্গে যোগ দেবেন।” কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ‘হিউম্যান-মেশিন কোলাবরেশন’ এবং মহাকাশ গবেষণায় একই মতাদর্শে বিশ্বাসী চীনা অংশীদারদের অংশগ্রহণের আহ্বানও জানিয়েছেন তিনি।

তবে, সিএসির সাময়িকীতে মাস্কের উপস্থিতি তার নিজের অতীত বক্তব্য ও মতাদর্শের বিরোধী বলে মন্তব্য করেছে ভার্জ। বাকস্বাধীনতার প্রতিশ্রুতি দিয়েই টুইটার কেনার চেষ্টা করেছিলেন মাস্ক। কিন্তু বেশ কবছর ধরেই চীনের বাজারের জন্য সিএসি এমন কিছু নীতিমালা প্রয়োগ করেছে যা সক্রিয়ভাবে অনলাইনে বাকস্বাধীনতা খর্ব করে।

সিএসি নিজস্ব সাইবার নিরাপত্তা আইনের অধীনে সামাজিক মাধ্যম প্ল্যাটফর্মগুলোর ‘নিষিদ্ধ তথ্য’ হিসেবে বিবেচিত কনটেন্ট মুছে দেওয়ার বাধ্যবাধকতা আছে; অন্যথায় শাস্তির বিধান রেখেছে সিএসি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক