১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩ আশ্বিন ১৪৩৩

যে ৫ ফোনের ব্যাটারি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের চেয়েও এগিয়ে

আইফোন লাইনআপে ভিডিও প্লেব্যাকের সময় ৩৯ ঘণ্টা ব্যবহারের দাবি করায় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল হিসেবে স্থান পেয়েছে।

যে ৫ ফোনের ব্যাটারি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের চেয়েও এগিয়ে
ব্যাটারি লাইফ এখন স্মার্টফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলোর একটি। ছবি: অ্যাপল

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 07 Dec 2025, 01:38 PM

Updated : 26 Aug 2026, 05:16 PM

ব্যাটারি লাইফ এখন স্মার্টফোনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফিচারগুলোর একটি। ফোন যে কোনো সময় ব্যবহার করা না গেলে তা যোগাযোগ কিংবা জরুরি তথ্য পাওয়ার পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে। 

২০২৫ সালের আইফোন লাইনআপে ভিডিও প্লেব্যাকের সময় ৩৯ ঘণ্টা ব্যবহারের দাবি করায় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স সবচেয়ে শক্তিশালী মডেল হিসেবে স্থান পেয়েছে। তবে বাস্তবে বিভিন্ন পরীক্ষায় দেখা গেছে, ব্যবহারভেদে এই সময় প্রায় ৬-১০ ঘণ্টা পর্যন্ত কমে যেতে পারে।

ফোনের ব্যাটারির সক্ষমতা সাধারণত মিলিঅ্যাম্পিয়ার-আওয়ার বা এমএএইচ হিসেবে মাপা হয়। এ থেকে জানা সম্ভব হয়, ব্যাটারিটি কত চার্জ ধারণ করতে পারে। যদিও কাগজকলমের এই হিসাব বাস্তব পারফরম্যান্সে অন্যরকম হতে পারে।

আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের ব্যাটারি সক্ষমতা ৫০৮৮ এমএএইচ। আর বাজারে এমন একাধিক মডেল রয়েছে যা কাগজে-কলমে এ ক্ষমতাকে সহজেই ছাড়িয়ে যায় বলে প্রতিবেদনে লিখেছে প্রযুক্তি সাইট স্ল্যাশগিয়ার।

আসুস রৌগ ফোন ৯ প্রো

গেইমিংয়ের জন্য পরিচিত আসুস-এর রৌগ লাইনআপে এই ফোনটির ব্যাটারি ক্ষমতা ৫৮০০ এমএএইচ যা আইফোনের তুলনায় প্রায় ৮০০ এমএএইচ বেশি। যদিও ব্যাটারি মাপ অনুযায়ী এটি এগিয়ে তবে বাস্তব পরীক্ষায় ফলাফল মিশ্র। কিছু পরীক্ষায় ফোন কলের ক্ষেত্রে আসুসের ফোন এগিয়ে থাকলেও গেইমিং, ভিডিও দেখা কিংবা ব্রাউজিংয়ে অনেক সময় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সই বেশি টিকেছে। দুই ফোনই কাছাকাছি পারফরম্যান্স দিয়েছে এতে বোঝা যায় কেবল এমএএইচই সব নয়।

নুবিয়া জেড৮০ আল্ট্রা

মোবাইল ফোনের বিশ্ববাজারে তুলনামূলক নতুন নাম নুবিয়া। তাদের জেড৮০ আল্ট্রা মডেলে রয়েছে বিশাল ৭২০০ এমএএইচ ব্যাটারি। এটি শুধু আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্স নয় বেশিরভাগ স্মার্টফোনকেই ব্যাটারি সক্ষমতার দিক দিয়ে ছাড়িয়ে গেছে। পরীক্ষায় ফোনটি আইফোনের চেয়ে কয়েক মিনিট থেকে শুরু করে কয়েক ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি সময় ধরে টিকে থেকেছে। আগের মডেল জেড৭০ আল্ট্রা যুক্তরাষ্ট্রে না পাওয়াকে বড় ক্ষতি হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে জেড৮০ আল্ট্রা ব্যবহার করতে উচ্চক্ষমতার চার্জারের প্রয়োজন, যা না থাকলে এর দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফের ওপরই নির্ভর করতে হবে।

ওয়ানপ্লাস ১৫

৭৩০০ এমএএইচ ব্যাটারির জন্য ওয়ানপ্লাস ১৫ অনেক ব্যবহারকারীর কাছে ‘বাজারের সেরা ব্যাটারি ফোন’ হিসেবে পরিচিত। ভারী ব্যবহারে পুরো দিন টিকে থাকা ছাড়াও বহু পরীক্ষায় আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের তুলনায় গড়ে আট ঘণ্টা পর্যন্ত বেশি পারফরম্যান্স দিয়েছে। তবে প্রস্তুতকারকদের দাবি অনুযায়ী ভিডিও প্লেব্যাক সময় মাত্র ৩১ ঘণ্টা যা আইফোনের সময়ের চেয়ে কম। 

অপো ফাইন্ড এক্স৯ প্রো

২০২৫ সালের মাঝামাঝি ফাইন্ড এক্স৮ আল্ট্রার ৬,১০০ এমএএইচ ব্যাটারি সবাইকে চমকে দিয়েছিল। তারই পরবর্তী ধারা হিসেবে ফাইন্ড এক্স৯ প্রো-তে ব্যাটারি ক্ষমতা বেড়ে ৭৫০০ এমএএইচ করা হয়েছে। বিভিন্ন পরীক্ষায় ফোনটি কল, ব্রাউজিং ও ভিডিও প্লেব্যাকে আইফোনের তুলনায় বহু ঘণ্টা এগিয়ে থেকেছে এবং গেইমিংয়েও ভালো সময় দিয়েছে। তবে ওয়ানপ্লাস ১৫-এর সঙ্গে তুলনা করার পর দেখা গেছে, ভিডিও দেখা ও কলের ক্ষেত্রে ওয়ানপ্লাস ১৫-ই বেশি টিকে থাকে। যদিও ব্রাউজিং ও গেমিংয়ে অপো সামান্য এগিয়ে।

রেডম্যাজিক ১১ প্রো

বিশ্বের প্রথম লিকুইড-কুলড স্মার্টফোন হিসেবে পরিচিত রেডম্যাজিক ১১ প্রো-তেও রয়েছে ৭৫০০ এমএএইচ ব্যাটারি। ব্রাউজিং, ভিডিও প্লেব্যাক ও গেইমিং-সব ক্ষেত্রেই এটি আইফোন ১৭ প্রো ম্যাক্সের চেয়ে অন্তত তিন ঘণ্টা বেশি টেকে। তবে অন্য অ্যান্ড্রয়েড প্রতিদ্বন্দ্বীদের সঙ্গে তুলনা করলে এর ফলাফল কিছুটা ওঠানামা করে। ফোনটি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ফাইন্ড এক্স৯ প্রো-কে হারালেও ব্রাউজিং করার সময় ওয়ানপ্লাস ১৫-এর থেকে অনেকটাই পিছিয়ে থাকে।

তালিকাটি প্রস্তুত করা হয়েছে ফোনের ব্যাটারি ক্ষমতা এমএএইচ ধরে। বাস্তব পারফরম্যান্স অনেকাংশে নির্ভর করে ফোনের কার্যকারিতা ও পরীক্ষা-পদ্ধতির ওপর। পাশাপাশি ফোনএরিনা, টমস গাইড, জিএসএমএরিনার পরীক্ষাগুলো তুলনা করার সময় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে। এগুলো ব্যবহারকারীর ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি মিল নাও থাকতে পারে।