Published : 01 Jul 2025, 03:07 PM
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরুর লক্ষ্যে দেশটির বড় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর আরোপিত কর বাতিল করেছে কানাডা।
নিজেদের ‘ডিজিটাল সার্ভিস ট্যাক্স’ বা ডিজিটাল সেবা কর প্রত্যাহার করে নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে কানাডার অর্থ মন্ত্রণালয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প কর সংক্রান্ত বিরোধের কারণে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনা বন্ধ করে দেওয়ার একদিন পর দেশটির এ সিদ্ধান্তের খবর এল বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক পত্রিকা গার্ডিয়ান।
রোববার রাতে এক বিবৃতিতে কানাডার অর্থ মন্ত্রণালয় বলেছে, ২১ জুলাইয়ের মধ্যে শুল্ক নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর লক্ষ্যে বাণিজ্য আলোচনা পুনরায় শুরু করবেন কানাডার প্রধানমন্ত্রী মার্ক কারনি ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প।
গার্ডিয়ান লিখেছে, গত কয়েক মাস ধরে কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনা চালিয়ে আসছিল যুক্তরাষ্ট্র। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ দুই বাণিজ্য অংশীদারের একটি কানাডা। তবে শুক্রবার সেই আলোচনা বাধাগ্রস্ত হয়। কারণ ট্রাম্প অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর অন্যায়ভাবে কর আরোপ করেছে দেশটি, যেটিকে ‘সরাসরি ও নির্লজ্জভাবে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর আক্রমণ’ বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।
রোববার ট্রাম্প আবারও নিজের আগের বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে কানাডিয়ান পণ্যের ওপর নতুন শুল্ক হার নির্ধারণ করবেন তিনি।
কানাডার নিয়ম অনুসারে, কোনও কোম্পানি যদি এক বছরে কানাডিয়ান ব্যবহারকারীদের কাছ থেকে দুই কোটি ডলারের বেশি ডিজিটাল সেবা আয় করে তবে সেই আয়ের ওপর তিন শতাংশ হারে কর দিতে হয়। এ কর ২০২২ সাল থেকেই কার্যকর হয়ে আসছে দেশটিতে। প্রথম দফার কর পরিশোধের শেষ দিন ছিল সোমবার। এতে যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি, যেমন– গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, অ্যামাজন এবং ফেইসবুকের মালিক মেটাকে যদি কর দিতে হত তবে এসব কোম্পানিকে আনুমানিক মোট তিনশ কোটি ডলার অর্থাৎ বড় অংকের অর্থ গুনতে হত।
কানাডার প্রধানমন্ত্রী কারনি বলেছেন, “কানাডার নতুন সরকার সবসময় যে কোনও সম্ভাব্য চুক্তির সামগ্রিক অবদানকে মূল্যায়ন করবে, যা কানাডিয়ান শ্রমিক ও ব্যবসায়ীদের জন্য ভালো হবে।”
তিনি আরও বলেছেন, মার্কিন প্রযুক্তি কোম্পানির ওপর কানাডার কর তুলে নেওয়ার এই সিদ্ধান্ত “আবার আলোচনা শুরুর পথ তৈরি করবে”।
কানাডার অর্থমন্ত্রী ফ্রাঁসোয়া-ফিলিপ শাঁপান বলেছেন, “ডিজিটাল সেবা কর প্রত্যাহারের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সম্পর্ক গঠনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি সম্ভব হবে।”
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্সাস ব্যুরোর তথ্য অনুসারে, মেক্সিকোর পর যুক্তরাষ্ট্রের দ্বিতীয় সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার কানাডা এবং পণ্যের সবচেয়ে বড় ক্রেতাও। গত বছর যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৩৪ হাজার ৯০০ কোটি ডলারের পণ্য কিনেছে কানাডা এবং যুক্তরাষ্ট্রে ৪১ হাজার ২০০ কোটি ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছে দেশটি।