Published : 10 Dec 2025, 06:16 PM
বিশ্বব্যাপী স্মার্টফোন বাজার দ্রুত বদলাচ্ছে। তবে কোন ফোনটি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে তার হিসাব শুধুই সংখ্যায় মেলে না। ডিভাইসগুলোর বৈশ্বিক গ্রহণযোগ্যতা, বাজার কৌশল, মূল্য নির্ধারণ, লঞ্চের সময়, ব্র্যান্ডশক্তি সব মিলিয়ে তালিকাটি গঠিত হয়। বাজেট থেকে প্রিমিয়াম উভয় সেগমেন্টেই কিছু ফোন সেই সময়ে কর্তৃত্ব ধরে রেখেছে।
উত্তর আমেরিকা, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা, ইউরোপ এবং আফ্রিকা এমন বিভিন্ন অঞ্চলে ইউনিট বিক্রি, থার্ড পার্টির বাজার বিশ্লেষণ এবং দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবের ভিত্তিতে বিশ্ববাজারে যে ফোনগুলো শীর্ষস্থান দখল করেছে তার তালিকায় চোখ বুলানো যাক। তালিকাটি তৈরি করেছে প্রযুক্তি সাইট হাও স্টাফ ওয়ার্কস।
নোকিয়া ১১০০
২০০৩ সালে বাজারে আসা নোকিয়া ১১০০ এখনো বিশ্বের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফোন। ডিভাইসটির বিক্রি ২৫ কোটির বেশি। সহজ ইন্টারফেইস, টেকসই বডি, টর্চলাইট এবং এসএমএস সুবিধাসহ এটি বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়েছে আফ্রিকা, লাতিন আমেরিকা ও এশিয়ায়। বহু ব্যবহারকারীর প্রথম মোবাইল ফোন হিসেবে নোকিয়া ১১০০ জায়গা করে নেয়।
আইফোন ৬ এবং ৬ প্লাস
অ্যাপল বড় স্ক্রিনের বাজারে প্রবেশ করে আইফোন ৬ সিরিজের মাধ্যমে। বিশ্বব্যাপী ২২ কোটি বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। পরপর কয়েক ত্রৈমাসিক ধরে এটি ছিল শীর্ষ বিক্রিত স্মার্টফোন। অ্যাপলের ‘শ্যুট অন আইফোন’ প্রচারণা আইফোন ৬ সিরিজকে বৈশ্বিকভাবে আরও পরিচিত করে তুলেছে।
নোকিয়া ১১১০
নোকিয়ার আরেকটি সফল মডেল ১১১০-এর বিক্রি প্রায় ২৫ কোটি। কম ফিচার, কম দাম এবং দীর্ঘস্থায়িত্বের কারণে উদীয়মান বাজারগুলোতে ফোনটি ব্যাপক জনপ্রিয় হয়েছে।
আইফোন ১১
উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ এবং ভারতে বিপুল সাড়া ফেলে আইফোন ১১। ফেইস আইডি, উন্নত চিপ এবং শক্তিশালী ক্যামেরার কারণে এটি ২০২২ সালের শুরুর দিকে প্রায় ১৫ কোটি ৯০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। উচ্চমানের পারফরম্যান্স তুলনামূলক কম দামে দেওয়ায় এটি বাজারে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা পেয়েছিল।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এস৪
স্যামসাংয়ের সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া ফ্ল্যাগশিপ মডেল গ্যালাক্সি এস৪-এর বিক্রি প্রায় আট কোটি। অ্যামেলেড ডিসপ্লে, সফটওয়্যার ফিচার এবং নিরাপত্তা সুবিধা এটিকে ২০১৩ সালে বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে জনপ্রিয় অ্যান্ড্রয়েড ফোনে পরিণত করে। পরে প্রতিযোগিতা বাড়লেও এস৪ স্যামসাংয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক।
মটোরোলা রেজর ভি৩
অ্যালুমিনিয়ামের আইকনিক ক্ল্যামশেল ডিজাইনের রেজর ভি৩-এর বিক্রি ১৩ কোটির বেশি। ২০০০ এর দশকের মাঝামাঝি এটি ফ্যাশন স্টেটমেন্টে পরিণত হয় এবং মটোরোলার বাজার অবস্থান বদলে দেয়।
আইফোন এক্সআর
২০১৯ সালের বিক্রির তালিকায় শীর্ষে ছিল আইফোন এক্সআর। ভারত ও ইউরোপসহ বিভিন্ন বাজারে এটি জনপ্রিয়তা পেয়েছে। কম দামে গুরুত্বপূর্ণ ফিচার দেওয়ার কৌশলটি অ্যাপলের জন্য সফল ছিল। দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ ও উজ্জ্বল ডিসপ্লের কারণে ডিভাইসটি বেশ ভালো প্রশংসা পেয়েছে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এ১০
বাজেট সেগমেন্টে লক্ষ্য করে তৈরি গ্যালাক্সি এ১০ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং আফ্রিকায় ব্যাপক বিক্রি হয়েছে। মূল সুবিধাগুলোর সমন্বয় ও কম মূল্যের কারণে এটি স্যামসাংয়ের বহুমাত্রিক বাজার কৌশলের একটি সফল উদাহরণ।
হুয়াওয়ে পি৩০
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার আগে হুয়াওয়ে পি৩০ সিরিজ এশিয়া এবং ইউরোপে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছে। উন্নত ক্যামেরা, প্রতিযোগিতামূলক দাম এবং দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এসব সুবিধা ফোনটির সাফল্যে বড় ভূমিকা রাখে। কোম্পানির মারাত্মক মার্কেটিং কৌশলও বিক্রি বাড়াতে সহায়তা করেছে।
অপো এ৫
২০১৯ সালে বাজেট রেঞ্জে অপ্রত্যাশিতভাবে হিট হয়েছে অপো এ৫। গ্রহণযোগ্য পারফরম্যান্স ও দীর্ঘ ব্যাটারি লাইফ এটিকে ব্যবহারকারীদের পছন্দের তালিকায় রেখেছে। অপোর বিভিন্ন মোবাইল অপারেটর ও রিটেইল চেইনের সঙ্গে অংশীদারিত্ব এর বিক্রি বাড়িয়েছে।
ভিভো ওয়াই২০
এন্ট্রি-লেভেল বাজারে ভিভো ওয়াই২০ দক্ষিণ এশিয়া ও আফ্রিকায় ভালো সাড়া পেয়েছে। আকর্ষণীয় ডিজাইন, দীর্ঘ ব্যাটারি ব্যাকআপ এবং স্মুদ অ্যাপ পারফরম্যান্স ফোনটিকে ওই বাজারে প্রতিযোগিতামূলক করে তুলেছে।
আইফোন ১৩
২০২১ সালের শেষ দিকে বাজারে আসা আইফোন ১৩ দ্রুতই অ্যাপলের অন্যতম শীর্ষ বিক্রি হওয়া ডিভাইসে পরিণত হয়েছে। উন্নত ক্যামেরা, ডিসপ্লে, ব্যাটারি পারফরম্যান্স এবং অ্যাপলের ক্লাউড ও সিকিউরিটি ইকোসিস্টেমের সমন্বয় ডিভাইসটির জনপ্রিয়তায় ভূসিকা রেখেছে।
রেডমি নোট ৮
শাওমির রেডমি নোট ৮ ভারত, চীন এবং ইউরোপে ব্যাপক সাফল্য পেয়েছে। লঞ্চের নয় মাসের মধ্যে ৩ কোটির বেশি ইউনিট বিক্রি হয়েছে। নির্ভরযোগ্য হার্ডওয়্যার কম দামে দেওয়ার কারণে এটি প্রথমবারের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের অন্যতম পছন্দ হয়ে ওঠে।
স্যামসাং গ্যালাক্সি এ৫১
২০২০ সালে বৈশ্বিকভাবে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া অ্যান্ড্রয়েড ফোন গ্যালাক্সি এ৫১। অ্যামোলেড ডিসপ্লে, ভালো ক্যামেরা ও ব্যাপক প্রাপ্যতা এটিকে স্যামসাংয়ের বিক্রির শীর্ষ মডেলে পরিণত করেছে।
আইফোন এসই ২০২০
ছোট সাইজের ফোন চাওয়া ব্যবহারকারীদের জন্য আইফোন এসই ২০২০ ছিল আদর্শ। ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে এটি ভালো বিক্রি হয়েছে। প্রথম বছরেই দুই কোটি ৪০ লাখ ইউনিট বিক্রি হয়েছে। পরিচিত ডিজাইনে আপডেটেড হার্ডওয়্যার এবং কার্যকর মূল্য নির্ধারণ ছিল ডিভাইসটির সাফল্যের কেন্দ্রবিন্দু।
প্রযুক্তি সাইট ‘হাও স্টাফ ওয়ার্কস’ লিখেছে, থার্ড পার্টি বিক্রেতা, সরাসরি বিক্রি বা বিভিন্ন পরিষেবার সঙ্গে বান্ডেল যে পথেই বিক্রি হোক না কেন এসব ফোন তাদের ব্র্যান্ডকে বৈশ্বিক বাজারে অবস্থান শক্ত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোম্পানিগুলোর সাফল্য শুধুই হার্ডওয়্যারের কারণে নয় বরং সঠিক মার্কেটিং, উপযোগী ফিচার, সময়োপযোগী লঞ্চ এবং আঞ্চল ভেদে চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যসহ সবকিছুর সম্মিলিত প্রভাবেই তারা বিশ্ববাজারে দৃঢ় অবস্থান গড়ে তুলেছে।