Published : 29 Sep 2025, 02:34 PM
আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য কল রেকর্ডিং এখন আর কেবল অডিও সংরক্ষণের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। আইওএস ২৬ ভার্সনে অ্যাপল এই ফিচারকে আরও একধাপ এগিয়ে নিয়ে এসেছে। নতুন আপডেটে যুক্ত হয়েছে ট্রান্সক্রিপ্ট, লাইভ ট্রান্সলেশন, সামারি তৈরি এবং নোটস অ্যাপের সঙ্গে সরাসরি ইন্টিগ্রেশন।
ফলে যারা ইন্টারভিউ, অফিস মিটিং কিংবা গুরুত্বপূর্ণ আলাপের জন্য আইফোনের ওপর নির্ভর করেন তাদের জন্য এই সুবিধা হবে বিশেষ সহায়ক।
আইফোনে কল রেকর্ডিং ফিচার প্রথম আসে গত অক্টোবরের আইওএস ১৮.১ আপডেটে। শুরু থেকেই এটি অঞ্চল ও ভাষানির্ভর ছিল, সেই নিয়ম এখনো বহাল আছে।
যেসব দেশে এটি অনুমোদিত, সেখানকার ব্যবহারকারীরা কোনো থার্ডপার্টি অ্যাপ ছাড়াই সরাসরি ফোন অ্যাপ থেকে কল রেকর্ড করতে পারেন। তবে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, সৌদি আরব কিংবা দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে এখনো এটি চালু হয়নি। নিজ দেশে চালু আছে কি না তা জানতে চাইলে অ্যাপলের অফিশিয়াল ফিচার অ্যাভেইলেবিলিটি পেইজে নজর দিতে হবে।
প্রযুক্তি সাইট এনগ্যাজেট লিখেছে, কল রেকর্ডিং শুরুর আগে অবশ্যই অপর প্রান্তের সম্মতি প্রয়োজন কারণ রেকর্ডিং শুরু হলে উভয় পক্ষই একটি অডিও সতর্কবার্তা শুনবে যাতে জানিয়ে দেওয়া হবে ‘কথোপকথন রেকর্ড হচ্ছে’।
আইফোনে কীভাবে কল রেকর্ড করবেন?
প্রক্রিয়াটি বেশ সহজ, ফোন অ্যাপ খুলে কল শুরু করুন বা রিসিভ করুন। কল চলাকালে ‘মোর’ বাটনে চাপুন এবং সেখান থেকে ‘কল রেকর্ডিং’ বাছাই করুন। কথোপকথন শেষ হলে বা ‘স্টপ’ বাটন চাপলে অডিও স্বয়ংক্রিয়ভাবে সেইভ হয়ে যাবে নোটস অ্যাপের ‘কল রেকর্ডিংস’ নামের ফোল্ডারে।
শুধু রেকর্ড করাই নয়, পরে এগুলো ম্যানেজ করার সুযোগও থাকছে। নোটস অ্যাপ থেকে রেকর্ড চালানো যাবে, আবার চাইলে সার্চ, কপি, সেইভ বা শেয়ার করা যাবে। কোনো রেকর্ড মুছে ফেলতে চাইলে একসঙ্গে অডিও এবং ট্রান্সক্রিপ্টও ডিলিট হয়ে যাবে।
কল ট্রান্সক্রাইব
নতুন ফিচারের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংযোজন হলো ‘ট্রান্সক্রিপ্ট’। সমর্থিত ভাষা ও অঞ্চলের ব্যবহারকারীরা সহজেই অডিওকে লিখিত আকারে রূপান্তর করতে পারবেন। ট্রান্সক্রিপ্টে স্পিকারভিত্তিক আলাদা আলাদা টেক্সট দেখা যাবে যা থেকে নির্দিষ্ট অংশ সার্চ বা কপি করা সম্ভব। তবে অ্যাপলের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেওয়া হয়েছে, ট্রান্সক্রিপ্ট সবসময় শতভাগ নির্ভুল নাও হতে পারে।
অ্যাপল ইন্টেলিজেন্সের সামারি
পাশাপাশি, ‘অ্যাপল ইন্টেলিজেন্স’ চালু থাকলে কলের একটি স্বয়ংক্রিয় সামারিও পাওয়া যাবে। মিটিংয়ের অ্যাকশন আইটেম বা ইন্টারভিউয়ের মূল বক্তব্য দ্রুত বুঝে নেওয়ার জন্য এই সামারি হবে কার্যকর হাতিয়ার। সামারিটি ট্রান্সক্রিপ্টের পাশেই নোটস অ্যাপে যুক্ত হয়ে যাবে।
ডিফল্টভাবে কল রেকর্ডিং সমর্থিত ডিভাইসগুলোতে চালু থাকে। তবে চাইলে ব্যবহারকারীরা সেটিংসে গিয়ে ‘ফোন’ অ্যাপের ভেতর থেকে ‘কল রেকর্ডিং’ টগল বন্ধ করতে পারবেন।
কল রেকর্ডিং না থাকলে বিকল্প সমাধান
যেসব অঞ্চলে এই ফিচার এখনো আসেনি বা পুরোনো আইওএস ভার্সনে কাজ করছে না, সেখানকার ব্যবহারকারীদের জন্য বিকল্প উপায়ও রয়েছে। উদাহরণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রে ওয়ান-পার্টি কনসেন্ট আইন অনুযায়ী যে কেউ নিজের অংশগ্রহণে কল রেকর্ড করতে পারেন। তবে প্রতিটি রাজ্যের আইন ভিন্ন, তাই আগে নিশ্চিত হওয়া জরুরি।
অ্যাপলের বাইরে জনপ্রিয় কিছু বিকল্প হলো ‘রেভ কল রেকর্ডার’, এটি যুক্তরাষ্ট্রে বিনামূল্যে পাওয়া যায় এবং এতে কোনো বিজ্ঞাপন বা সময়সীমা নেই। গুগল ভয়েস ব্যবহারকারীরাও ইনকামিং কল রেকর্ড করতে পারেন, যদিও সেটি শুধু মার্কিন গ্রাহকদের জন্য সীমিত।
অন্যদিকে, চাইলে ছোট এক্সটার্নাল রেকর্ডার আইফোনের সঙ্গে যুক্ত করে রাখা যায় অথবা স্পিকার মোডে রেখে আলাদা ডিভাইসে ভয়েস মেমোস অ্যাপ ব্যবহার করে রেকর্ড করা সম্ভব। যদিও এসব ক্ষেত্রে সাউন্ড কোয়ালিটি ভিন্ন হতে পারে, তবুও বিকল্প হিসেবে এগুলো কার্যকর সমাধান।
সব মিলিয়ে বলা যায়, আইওএস ২৬ এর নতুন কল রেকর্ডিং সুবিধা শুধু কথোপকথন সংরক্ষণ নয় বরং সেটিকে আরও তথ্যবহুল ও সহজে ব্যবস্থাপনা করার দিকে এক ধাপ এগিয়ে দিয়েছে। অফিস, সাংবাদিকতা কিংবা ব্যক্তিগত কাজে এই ফিচার ভবিষ্যতে ব্যবহারকারীদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতাকে আরও সমৃদ্ধ করবে।