Published : 27 Aug 2026, 12:55 PM
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম জায়ান্ট মেটা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে নিজেদের কর্মী কাঠামো পুরোপুরি বদলে ফেলার পরিকল্পনা করেছিল। এর আওতায় কোম্পানিতে অনেক দলের আকার দুই ধাপে সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর কথা ভেবেছিল তারা।
পরিকল্পনার বিস্তারিত উঠে এসেছে এক বিশেষ প্রতিবেদনে। অভ্যন্তরীণ নথি, কর্মীদের পোস্ট ও রেকর্ডিং এবং মেটার কার্যক্রম সম্পর্কে জানেন এমন ২০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে কথা বলে প্রতিবেদনটি তৈরি করেছে রয়টার্স।
মেটার প্রধান নির্বাহী মার্ক জাকারবার্গ ও কোম্পানির শীর্ষ কর্মকর্তারা জানুয়ারিতে হাওয়াইয়ে জাকারবার্গের বাড়িতে বার্ষিক নেতৃত্ব সম্মেলনে বসে এই পরিকল্পনা তৈরি করেন। এর নাম দেওয়া হয় ‘প্রজেক্ট ওটি’, যার অর্থ ‘অর্গানাইজেশন ট্রান্সফরমেশন’।
এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল ফেইসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিক মেটাকে একটি ‘এআই নেটিভ’ কোম্পানিতে রূপ দেওয়া। পরিকল্পনা অনুযায়ী, হাজারো কর্মী প্রতিদিন যে কাজ করেন, তার বড় অংশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের হাতে চলে যেত। আর এসব ভার্চুয়াল কর্মীর কাজ তদারক করতেন তুলনামূলক ছোট ও বেশি দক্ষ মানবকর্মীদের দল।
পরিকল্পনার বিভিন্ন সম্ভাব্য পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার সময় মেটার অনেক দলের আকার সর্বোচ্চ ৬০ শতাংশ কমানোর বিষয়টি বিবেচনা করেন কর্মকর্তারা। পরিকল্পনার সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তি এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিছু কর্মীকে নতুন ইউনিটে কাজের সুযোগ দেওয়া আর অন্যদের ছাঁটাই করার পরিকল্পনা ছিল। মেটার একজন মানবসম্পদ কর্মকর্তা এমন একটি ছাঁটাইয়ের আকার নিয়ে ধারণা দিয়েছিলেন, যা তিন বছর আগে কোম্পানির প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মী কমানোর সমান বা তার চেয়েও বড় হতে পারত।
পরিকল্পনা অনুযায়ী, পুরো পুনর্গঠন দুই ধাপে হওয়ার কথা ছিল। প্রথম ধাপে মে মাসে বড় ধরনের কর্মী ছাঁটাই এবং দ্বিতীয় ধাপে নভেম্বরে আরও একটি পুনর্গঠনের পরিকল্পনা ছিল। এর পাশাপাশি খালি পদ বন্ধ করা এবং যাদের কর্মদক্ষতা মেটার প্রত্যাশা অনুযায়ী নয়, তাদের সরিয়ে দেওয়ার কথাও ছিল।
তবে ১৯ মে রাতে, প্রথম ধাপের ছাঁটাইয়ের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনেন জাকারবার্গ। পরদিন মেটা ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করলেও নভেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা বাতিল করেন তিনি।
ততদিনে মেটার কর্মীদের মধ্যে পরিকল্পনাটি নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। অনেক কর্মী মনে করছিলেন, কোম্পানির এআই রূপান্তরের অন্যতম লক্ষ্যই তাদের কাজের জায়গা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার হাতে তুলে দেওয়া।
একই সময়ে মেটার অভ্যন্তরীণ তথ্যও ইঙ্গিত দিচ্ছিল, পরিকল্পনার কেন্দ্রে থাকা স্বয়ংক্রিয় এআই এজেন্ট প্রযুক্তি প্রত্যাশিত উৎপাদনশীলতা বাড়াতে পারছে না। এদিকে এআইয়ে বিপুল অর্থ ব্যয় করে মেটা কী ফল পাচ্ছে, তা নিয়ে কিছু বিনিয়োগকারীও প্রশ্ন তুলছিলেন।
মেটা রয়টার্সকে প্রজেক্ট ওটির অস্তিত্বের কথা নিশ্চিত করেছে। কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, এটি এক বছরের একটি প্রকল্প, যার লক্ষ্য ছিল ব্যয় কমানো, দলের কাঠামো নতুন করে সাজানো এবং কর্মীদের নতুন অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে সরিয়ে নেওয়া। এসব কাজের মধ্যে এআই মডেলের প্রশিক্ষণ তথ্য তৈরি করাও ছিল।
মেটা বলেছে, পরিকল্পনাটি দুই ধাপে বাস্তবায়নের কথা ছিল এবং সবচেয়ে বড় সম্ভাব্য পরিস্থিতিতে কিছু দলের আকার ৬০ শতাংশ পর্যন্ত কমতে পারত। তবে কোন কোন ইউনিট এই পরিকল্পনার আওতায় ছিল, তা জানায়নি এ সামাজিক মাধ্যম জায়ান্ট। মেটা বলেছে, বেশ কয়েকটি বড় ইউনিট এই পরিকল্পনার অংশ ছিল না।
কোম্পানির ভাষ্য অনুযায়ী, সম্ভাব্য পরিস্থিতিগুলোর মধ্যে কর্মী ছাঁটাইয়ের পাশাপাশি অন্য ইউনিটে কর্মীদের সরিয়ে নেওয়ার বিষয়ও ছিল। পুরো কোম্পানির ৬০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করার কোনো পরিকল্পনা কখনো ছিল না। দ্বিতীয় ধাপের পরিকল্পনা বাতিলের সময় মোট কতজন কর্মী চাকরি হারাবেন, সেটিও চূড়ান্ত হয়নি।
মেটা এক বিবৃতিতে বলেছে, “এই বছরের শুরুর দিকে আমাদের কোম্পানি পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে আমরা কিছু দলকে সম্ভাব্য কর্মী পুনর্বিন্যাস, খালি পদ বন্ধ করা এবং কর্মী কমানোর প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করতে বলেছিলাম। শেষ পর্যন্ত এর ফলে হাজারো কর্মীকে নতুন করে গঠিত কয়েকটি দলে অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কাজে সরিয়ে নেওয়া হয়। এ বিষয়টি প্রকাশ্যেও জানানো হয়েছে। শেষ পর্যন্ত ওই কর্মসূচীর সব আমরা বাস্তবায়ন করিনি এবং সেগুলো বাস্তবায়ন করব, এমন ধারণাও কখনো ছিল না।”
জাকারবার্গ কেন পরিকল্পনার গতিপথ বদলেছিলেন, তা রয়টার্স নিশ্চিত করতে পারেনি। কর্মী কাঠামো আরও বদলাতে মেটার বর্তমান পরিকল্পনাও জানা যায়নি। এ বিষয়ে মন্তব্যের জন্য জাকারবার্গকে সামনে আনতে রাজি হয়নি মেটা।
‘এআই নেটিভ’ হওয়ার পরিকল্পনা
২০২২ সালের শেষ দিকে ওপেনএআইয়ের চ্যাটজিপিটি প্রকাশের পর থেকেই সিলিকন ভ্যালির প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর নেতারা কর্মক্ষেত্রে উৎপাদনশীল এআইয়ের সম্ভাবনা নিয়ে ভাবতে শুরু করেন। বিশেষ করে ‘এজেন্টিক’ প্রযুক্তি নিয়ে তাদের আগ্রহ বাড়ে।
সাধারণ এআই চ্যাটবটের মতো শুধু প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার বদলে এআই এজেন্টকে এমনভাবে তৈরি করা হচ্ছে, যাতে এটি নিজে থেকে বিভিন্ন কাজ করতে পারে। যেমন কেনাকাটা করা, ভ্রমণ বুক করা বা নতুন অ্যাপ তৈরি করা।
মেটার কর্মকর্তারাও গত বছর এআইভিত্তিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। নতুন প্রযুক্তিকে পুরোনো কাজের পদ্ধতির সঙ্গে যুক্ত করার বদলে পুরো কোম্পানিকে ‘এআই নেটিভ’ করে তোলার ধারণা তাদের আকৃষ্ট করে।
প্রজেক্ট ওটির একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে ভবিষ্যৎ কাজের ধরন সম্পর্কে বলা হয়, “এআইয়ের জন্য প্রস্তুত টুল ও এজেন্ট পরস্পরের সঙ্গে কাজ করবে, কাজের ধারা স্বয়ংক্রিয় হবে, নতুন নির্মাণ হবে এআইকে অগ্রাধিকার দিয়ে।”
এই কৌশলের আরেকটি অংশ ছিল অন্য কোম্পানির কাছে এআই এজেন্ট বিক্রি করা। এসব এজেন্ট অ্যাপয়েন্টমেন্ট ঠিক করা বা বিক্রয় সম্পন্ন করার মতো কাজ করতে পারবে বলে পরিকল্পনা ছিল।
মেটার প্রধান তথ্য কর্মকর্তা অ্যালেক্স শুলৎস এবং পণ্য বিভাগের প্রধান নেওমি গ্লেইটসহ কোম্পানির কর্মকর্তারা গত বছর এশিয়া সফর করেন। সেখানে এআইকে কেন্দ্র করে স্টার্টআপগুলো কীভাবে নিজেদের সাংগঠনিক কাঠামো তৈরি করেছে, তা তারা দেখেন।
সফরের সঙ্গে পরিচিত তিন ব্যক্তি বলেছেন, এশিয়ার স্টার্টআপগুলোর কাঠামো দেখে মেটার কর্মকর্তারা আগ্রহী হন। এরপর এআই স্টার্টআপগুলোর সাংগঠনিক কাঠামো নিয়ে নিজেরা গবেষণা শুরু করেন এবং ‘এআই নেটিভ’ হওয়ার অর্থ কী হতে পারে, তা যাচাই করতে পরীক্ষামূলক প্রকল্পও চালু করেন।
জুনে মেটার কর্মী কাঠামো বদলের উৎস সম্পর্কে জানতে চাইলে গ্লেইট রয়টার্সকে বলেন, গত বছর তিনি মেটার সিঙ্গাপুর কার্যালয়ে “অনেকটা সময়” কাটিয়েছেন। সেখানকার কাজের ধরন ক্যালিফোর্নিয়া ও নিউ ইয়র্কের কয়েকটি দলকে “অনুপ্রাণিত করেছে” বলেও জানান তিনি।
গ্লেইট বলেন, ধারণাগুলোর অনেকটাই “নিচ থেকে ওপরে” এসেছে। অর্থাৎ মেটার কিছু কর্মী নিজেরাই পরিবর্তন আনার কাজ শুরু করেছিলেন।
এরই মধ্যে মেটার দীর্ঘদিনের পণ্য ব্যবস্থাপনা বিভাগের ভাইস প্রেসিডেন্ট ইমে আরচিবং গত বছরের জুলাইয়ে কোম্পানির প্রথম দিকের একটি পরীক্ষামূলক প্রকল্পের ঘোষণা দেন।
এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে তিনি পণ্য উন্নয়নের পদ্ধতি আধুনিক করার প্রথম পদক্ষেপের কথা বলেন। বিষয়টি বোঝাতে তিনি বাস্কেটবলের উদাহরণ ব্যবহার করেছেন।
আরচিবং লেখেন, “বাস্কেটবলে দ্রুত আক্রমণ পদ্ধতিতে বেশি এবং ভালো শট নেওয়া যায়। আমরা এআই টুলের ক্ষেত্রেও একই প্রত্যাশা করছি। এগুলো কম খরচে এবং আরও নিখুঁতভাবে আমাদের বেশি ধারণা পরীক্ষা করার সুযোগ দেয়।”
এআইয়ের সাহায্যে দ্রুত তৈরি করা প্রোটোটাইপ আগের তুলনায় চূড়ান্ত পণ্যের আরও কাছাকাছি হবে বলেও তিনি ধারণা দেন। তার ভাষায়, “এটি শুধু আরও মজার বিষয় নয়, এআইকে অগ্রাধিকার দেওয়া যুগে আমরা মনে করি এটিই জয়ের কৌশল।”
ছয় মাস পর কোম্পানির এক আয় সভায় জাকারবার্গও এআইয়ের মাধ্যমে কাজ ‘অনেক বেশি মজার’ হয়ে ওঠার সম্ভাবনার কথা বলেন।
বাস্তবে আরচিবংয়ের পরীক্ষামূলক প্রকল্পে ‘স্মল টেক পড’ ধারণায় পাঁচটি ছোট প্রযুক্তি দল ছিল। প্রতিটি দলে ছিলেন দুই থেকে তিনজন প্রকৌশলী ও একজন নকশাবিদ। প্রত্যেকেই এআই টুল ব্যবহার করতেন।
নতুন পণ্য তৈরির প্রচলিত পদ্ধতি, যেমন নির্দিষ্ট ছয় মাসের পরিকল্পনা চক্র, বাদ দেওয়ার কথা ছিল। এর বদলে চার সপ্তাহের ছোট ছোট সময়সীমায় প্রোটোটাইপ তৈরির লক্ষ্য নেওয়া হয়।
অক্টোবরে আরচিবংয়ের দলের একজন সদস্য এই পদ্ধতি আরও বড় পরিসরে চালুর পরিকল্পনা তুলে ধরেন। ‘এআইনেটিভ প্লেবুক’ শিরোনামের একটি অভ্যন্তরীণ পোস্টে অন্য দলগুলোকে এই পরিবর্তনের দিকে এগিয়ে যাওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
এই পদ্ধতিতে পণ্য নকশাবিদ ও প্রকৌশলীদের প্রচলিত পদ বিলুপ্ত করে প্রযুক্তি দলের সদস্যদের জন্য ‘বিল্ডার’ নামে একটি সাধারণ পদ দেওয়ার কথা ছিল। মধ্যম পর্যায়ের ব্যবস্থাপনার কয়েকটি স্তরও বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা ছিল।
এর বদলে ছোট প্রযুক্তি দলগুলো সরাসরি একজন উচ্চপর্যায়ের ইউনিট প্রধানের কাছে রিপোর্ট করত। প্রতিদিনের কাজের অগ্রাধিকার ঠিক করতে ব্যবহার করার কথা ছিল ‘এজেন্ট-সহায়িত বিশ্লেষণ’।
প্রাথমিক ‘এআই নেটিভ’ পরীক্ষাগুলো নিয়ে মন্তব্য করতে আরচিবংকে সামনে আনতে রাজি হয়নি মেটা।
চলতি বছরের শুরুতে জাকারবার্গ প্রজেক্ট ওটি চালু করেন এবং ব্যবস্থাপনা কাঠামো পরিবর্তনের নির্দেশ দেন। জুনের মধ্যে প্রকৌশল ও গবেষণা দলসহ অন্তত ১১টি ইউনিট ছোট প্রযুক্তি দল চালু করে বলে অভ্যন্তরীণ ঘোষণা ও পাঁচজন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি জানিয়েছেন।
এই পরিবর্তনের সঙ্গে মেটা কর্মী ব্যবস্থাপনায় ‘ভিলেজ অ্যাপ্রোচ’ চালু করে। একটি ইউনিটের অভ্যন্তরীণ ঘোষণায় বলা হয়, কর্মীদের কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন ও পদোন্নতির সিদ্ধান্ত নেবেন উচ্চপর্যায়ের ইউনিট প্রধান বা ‘অর্গ লিড’। তাদের সঙ্গে মানবসম্পদ কর্মী ও অনির্দিষ্ট ‘এআই সিস্টেম’ কাজ করবে।
প্রতিটি ইউনিট প্রধানের অধীনে ৩০ থেকে ৫০ জন কর্মী থাকার কথা ছিল। ছোট দলগুলোর দৈনন্দিন কাজ পরিচালনা করতেন ‘পড লিড’, তবে তাদের আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনা ক্ষমতা থাকত না।
একজন মেটা কর্মীকে একটি পড পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হলেও নতুন কাঠামো নিয়ে তিনি অভ্যন্তরীণ মেসেজ বোর্ডে বিভ্রান্তি প্রকাশ করেন।
তিনি লেখেন, “আমি ব্যবস্থাপনা প্রশিক্ষণে নেই এবং কর্মীদের মূল্যায়ন ও ব্যবস্থাপনার টুল ব্যবহারের সুযোগও পাচ্ছি না।”
মেটা রয়টার্সকে বলেছে, আরও দ্রুত কাজ করার পদ্ধতি খুঁজতে দলগুলো “বিভিন্নভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেছে”। পোস্টে থাকা ‘এআই সিস্টেম’ প্রসঙ্গে বিস্তারিত জানাতে না চাইলেও কোম্পানিটি বলেছে, “কর্মদক্ষতার মূল্যায়ন ও পদোন্নতির সিদ্ধান্ত তখনও মানুষ নিয়েছে, এখনো মানুষই নেয়।”
একই সময়ে মেটা ‘অপরিবর্তনীয় প্রতিভা’ শনাক্ত করতে নতুন একটি মানবসম্পদ টুল চালু করে। রয়টার্সের দেখা একটি অভ্যন্তরীণ নথিতে সম্ভাব্য ‘১০ গুণ কর্মদক্ষ’ কর্মীর কথা বলা হয়।
সিলিকন ভ্যালিতে বহুদিন ধরে এমন প্রকৌশলীকে বোঝাতে এই ধারণা ব্যবহার করা হয়, যিনি ১০ জন কর্মীর সমান কাজ করতে পারেন। এখন এআই প্রযুক্তি অত্যন্ত দক্ষ ব্যক্তিদের পুরো দলের সমান কাজ করার সুযোগ দেবে বলে প্রযুক্তি খাতের অনেকে মনে করেন।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত দুই ব্যক্তি জানান, মেটা ছাঁটাই থেকে সাশ্রয় হওয়া অর্থের কিছু অংশ বড় অঙ্কের বেতন দিয়ে এমন কর্মীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখার কাজে ব্যয় করতে চেয়েছিল। বিশেষ করে এআই প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে এ পরিকল্পনা ছিল।
কর্মী বিদ্রোহ
১৩ মার্চ, মেটার অনেক ভাইস প্রেসিডেন্ট পর্যায়ের কর্মকর্তাকে প্রজেক্ট ওটি সম্পর্কে জানানোর আগেই রয়টার্সের প্রতিবেদনে উঠে আসে, কোম্পানি ২০ শতাংশ বা তার বেশি কর্মী ছাঁটাইয়ের পরিকল্পনা করছে।
এত বড় কর্মী ছাঁটাই মেটার জন্য নতুন ছিল না। ২০২২ সালের শেষ থেকে ২০২৩ সালের শুরুর মধ্যে কোম্পানিটি প্রায় ২৫ শতাংশ কর্মী কমিয়েছিল।
তবে নতুন প্রতিবেদনে কর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। অনেক সাধারণ কর্মী আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। বিষয়টি তাদের জানার কথা না থাকলেও খবর প্রকাশ হওয়ায় তারা ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা করতে শুরু করেন।
বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একজন জানান, এতে জাকারবার্গও বিরক্ত হন এবং পাল্টা প্রতিক্রিয়ার জন্য নির্বাহীরা প্রস্তুত ছিলেন না। তখন মেটার একজন মুখপাত্র ওই প্রতিবেদনকে “তাত্ত্বিক পদ্ধতি নিয়ে অনুমাননির্ভর প্রতিবেদন” বলে মন্তব্য করেন।
অভ্যন্তরীণভাবে শীর্ষ কর্মকর্তারা বিষয়টি নিয়ে কর্মীদের সঙ্গে আলোচনা না করার সিদ্ধান্ত নেন। রয়টার্সের দেখা একটি আলোচনার নির্দেশনায় জ্যেষ্ঠ ব্যবস্থাপকদের বলা হয়, কর্মীদের জানাতে হবে যে, এআইয়ের কারণে তাদের কাজের ধরন “বদলাবে”।
এপ্রিল মাসে রয়টার্সের প্রতিবেদনে জানা যায়, ২০ মে মেটা প্রথম ধাপে প্রায় ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করবে। বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও কর্মী কমানোর লক্ষ্যও ছিল।
পরে মেটা কর্মীদের কাছে ১০ শতাংশ কর্মী কমানোর পরিকল্পনা নিশ্চিত করে। জাকারবার্গ কর্মীদের জানান, বিপুল মূলধনী ব্যয়ের কারণে এই ছাঁটাইয়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এরই মধ্যে পরিকল্পনার অন্য অংশগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু হয়। কিছু প্রকৌশলীকে নতুন ‘অ্যাপ্লায়েড এআই ইঞ্জিনিয়ারিং’ ইউনিটে সরিয়ে নেওয়া হয়। এই ইউনিটের কাজ ছিল সফটওয়্যার প্রকৌশলীদের জন্য বিভিন্ন ধাঁধা তৈরি করা, যা মেটার এআই মডেলকে কোডিংয়ে দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ তথ্য হিসেবে ব্যবহার করা হবে।
রয়টার্সের দেখা অভ্যন্তরীণ পোস্টে অনেক কর্মী এই কাজকে একঘেয়ে ও বিরক্তিকর বলে সমালোচনা করেন।
মেটা রয়টার্সকে জানায়, কর্মীদের নতুন কাজে সরিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে তারা অগ্রগতি দেখতে শুরু করেছে। অ্যাপ্লায়েড এআই ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিটের তৈরি তথ্য গত মাসে প্রকাশ করা একটি এআই মডেলের প্রশিক্ষণে কাজে লেগেছে বলেও জানায় কোম্পানিটি।
কর্মীদের নতুন জায়গায় সরিয়ে নেওয়া ও ছাঁটাইয়ের কারণে মে মাসের শেষ নাগাদ কিছু প্রকৌশল ইউনিটে কর্মীর সংখ্যা ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমে যায়।
এর আগে এপ্রিলে রয়টার্স জানায়, মেটা যুক্তরাষ্ট্রের কর্মীদের কম্পিউটারে এমন সফটওয়্যার বসানোর নির্দেশ দিয়েছিল, যা কিবোর্ডে কর্মীদের চাপ দেওয়া অক্ষর এবং মাউসে করা ক্লিকের তথ্য সংগ্রহ করবে। উদ্দেশ্য ছিল মানুষ কীভাবে কম্পিউটারের সঙ্গে কাজ করে, তা এআই এজেন্টকে শেখানো।
অনেক কর্মী আশঙ্কা করেন, তারা নিজেদের কাজের জায়গা দখল করতে পারে এমন এআইকে প্রশিক্ষণ দিচ্ছেন। ছাঁটাই নিয়ে বিস্তারিত তথ্য না থাকায় ক্ষোভও বাড়তে থাকে।
মেটার অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থা ‘ওয়ার্কপ্লেস’-এ কর্মীরা ক্ষুব্ধ মন্তব্য ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট দিতে শুরু করেন।
কর্মীদের কেউ কেউ নির্বাহীদের পোস্টের নিচে হাতির ছবি দেন। এসব পোস্টে হাতিকে এমন একটি সমস্যার প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করা হয়, যা সবাই দেখলেও কেউ সরাসরি আলোচনা করছে না। ইংরেজিতে একে বলে ‘এলিফ্যান্ট ইন দ্য রুম’।
কিছু কর্মী মেটার প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা অ্যান্ড্রু বসওয়ার্থের সঙ্গেও সরাসরি বিতর্কে জড়ান। এআই রূপান্তরের তদারকি করা বসওয়ার্থ অভ্যন্তরীণ পোস্টে এই পরিকল্পনার পক্ষে যুক্তি দিচ্ছিলেন।
এক কর্মী জাকারবার্গকে ব্যঙ্গ করে ছোট ব্যবসার জন্য এআই উদ্যোগের ঘোষণা করা তার পোস্টকে গ্রিক পুরাণের চরিত্র প্রমিথিউসের সঙ্গে তুলনা করেন। পুরাণে প্রমিথিউস মানবজাতির কাছে আগুন নিয়ে এসেছিলেন।
এই প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে বসওয়ার্থকে সামনে আনতে রাজি হয়নি মেটা।
কর্মীদের মনোবলও দ্রুত কমতে থাকে। কোম্পানির অর্ধবার্ষিক ‘পালস’ জরিপে কর্মীদের ইতিবাচক মনোভাবের হার ৭৪ শতাংশ থেকে কমে ৫৫ শতাংশে নেমে আসে। শ্রমিক সংগঠন গড়ার উদ্যোগও গতি পায়।
এর মধ্যেই এমন তথ্যও আসতে থাকে যে, প্রজেক্ট ওটির মূল প্রযুক্তি প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না।
রয়টার্সের দেখা অভ্যন্তরীণ পোস্ট অনুযায়ী, কর্মীদের এআই ব্যবহার বিপুল পরিমাণ কোড তৈরির দিকে নিয়ে যায়। কিন্তু এতে উৎপাদনশীলতা কতটা বাড়ছে, তা নিয়ে প্রশ্ন ছিল।
জুনের শুরুতে বসওয়ার্থের একটি পোস্ট অনুযায়ী, মেটার কর্মীরা যে অভ্যন্তরীণ সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ও অবকাঠামো ব্যবহার করেন, সেখানে কোড পরিবর্তনের পরিমাণ এক বছরে ২২০ শতাংশ বেড়েছিল। কিন্তু মেটার ব্যবহারকারীদের কাছে নতুন বা উন্নত ফিচার পৌঁছানোর ক্ষেত্রে বৃদ্ধি ছিল মাত্র ৩৬ শতাংশ।
মার্চের শুরুতেই অবকাঠামো দলগুলো এআই দিয়ে কোড তৈরির প্রবণতায় “নির্ভরযোগ্যতার সতর্ক সংকেত” দেখা যাচ্ছে বলে সতর্ক করেছিল।
এপ্রিলের আরেকটি অভ্যন্তরীণ পোস্টে বলা হয়, নিয়ন্ত্রণহীন এআই এজেন্ট “বড় পরিসরে এমন সব বিঘ্ন সৃষ্টিকারী কাজ” করছিল, যা মানুষ সাধারণত করত না।
এর ফলে সেবা বন্ধ হয়ে যাওয়া এবং সম্ভাব্য তথ্য ফাঁসের মতো বড় প্রযুক্তিগত ও নিরাপত্তাজনিত ঘটনার সংখ্যা আগের বছরের তুলনায় ৪০ শতাংশ বেড়ে যায়। এসব সমস্যা সামলাতে কর্মীদের যে সময় ব্যয় করতে হচ্ছিল, তা বেড়ে যায় ৭০ শতাংশ।
অভ্যন্তরীণ এসব তথ্য নিয়ে মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মেটা।
জুনের শুরুতে এ সমস্যার একটি প্রকাশ্য উদাহরণও দেখা যায়। মেটার নতুন এআই-চালিত গ্রাহক সহায়তা বটের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে হ্যাকাররা বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে প্রবেশের সুযোগ পায়। এর মধ্যে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার হোয়াইট হাউসের নিষ্ক্রিয় পেজও ছিল।
সব চাপের মধ্যে শেষ পর্যন্ত অবস্থান বদলান জাকারবার্গ।
২০ মে প্রজেক্ট ওটির প্রথম ধাপের ছাঁটাইয়ের কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি আবার শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে নভেম্বরে দ্বিতীয় ধাপে পুনর্গঠনের পরিকল্পনা বাতিল করেন।
পরদিন মেটা ১০ শতাংশ কর্মী ছাঁটাই করে। কর্মীদের কাছে ছাঁটাইয়ের নোটিশ যাওয়ার পর জাকারবার্গ ‘ওয়ার্কপ্লেস’-এ একটি বার্তা দেন। সেখানে তিনি জানান, চলতি বছরে আর “কোম্পানিজুড়ে ছাঁটাই” হবে বলে তিনি আশা করছেন না। কর্মীদের আরও “স্থিতিশীলতা” দেওয়ার ইচ্ছার কথাও বলেন তিনি।
এরপর কর্মীদের মনোবল ফেরাতে উদ্যোগ নেয় মেটা। ইউনিট প্রধানদের কর্মীদের অনুভূতির প্রতি গুরুত্ব দিতে বলা হয়। মাউস ও কিবোর্ড পর্যবেক্ষণের কর্মসূচি স্থগিত করা হয়। নতুন এআই প্রকৌশল ইউনিটে যাওয়া কিছু কর্মীকে পুরোনো দলে ফিরে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়।
কর্মীদের সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর উদ্যোগ নেন মেটার প্রধান অর্থ কর্মকর্তা সুসান লি। ছাঁটাইয়ের পরের কয়েক সপ্তাহে ‘ওয়ার্কপ্লেস’-এ নির্বাহীদের একের পর এক সহানুভূতিশীল পোস্ট দেখা যায়।
অফিসের ছোট রান্নাঘরে খাবারের মান উন্নত করা এবং ভ্রমণ ও সামাজিক অনুষ্ঠানে ব্যয় বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।
এই প্রতিবেদন নিয়ে মন্তব্য করতে লিকে সামনে আনতে রাজি হয়নি মেটা।
জুলাইয়ের শুরুতে মেটার অভ্যন্তরীণ এক সভায় আকস্মিকভাবে উপস্থিত হন জাকারবার্গ। সেখানে পুনর্গঠনের সময় নির্ধারণে ভুল হওয়ার কথা স্বীকার করেন তিনি।
জাকারবার্গ বলেন, এআই এজেন্ট প্রযুক্তি তার প্রত্যাশা অনুযায়ী দ্রুত “ত্বরান্বিত” হয়নি। তবে আগামী তিন থেকে ছয় মাসে প্রযুক্তিটির উন্নতি হবে এবং এর সুফল আরও স্পষ্ট হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
শেষ পর্যন্ত ‘মানুষের ওপর আস্থা’
কর্মী কাঠামোতে এআই রূপান্তরের সবচেয়ে বড় পরিবর্তনগুলো কিছুটা কমিয়ে আনার পাশাপাশি জনসংযোগেও নতুন বার্তা দিতে শুরু করেন জাকারবার্গ।
মেটা নিজেদের এমন একটি কোম্পানি হিসেবে তুলে ধরতে প্রচারাভিযান শুরু করে, যারা মানুষের ওপর আস্থা রাখে। এর অংশ হিসেবে একটি ভিডিও বিজ্ঞাপনে কোম্পানিকে “মানুষের ওপর আস্থা রাখা” কোম্পানি হিসেবে তুলে ধরা হয়।
এই প্রচারের মধ্যেই এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে সাড়ে ৬ হাজার শব্দের একটি নিবন্ধও প্রকাশ করেন জাকারবার্গ। সেখানে তিনি এআই এজেন্ট তৈরি আরও সহজ করার জন্য মেটার পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে নাম না করে অন্য প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলোকে প্রকৃত কর্মী ছাঁটাইকারী হিসেবে উপস্থাপন করেন।
জুনে কর্মীদের দেওয়া এক অভ্যন্তরীণ পোস্টে জাকারবার্গ বলেন, “মানুষকে ক্ষমতায়ন করা এবং আমাদের সব পণ্যে কোটি কোটি মানুষের হাতে এই নতুন প্রযুক্তির ক্ষমতা তুলে দেওয়ার দিকে মনোযোগ দেওয়া একমাত্র বড় কোম্পানি আমরাই। কাজকে প্রধানত স্বয়ংক্রিয় করার দিকে আমরা মনোযোগ দিচ্ছি না।”
তবে কর্মীদের সঙ্গে ছাঁটাই নিয়ে কথা বলার সময় জাকারবার্গ “কোম্পানিজুড়ে” এবং “এ বছর” এই দুটি শব্দ ব্যবহার করেই চলেছেন।
এ কারণে কিছু কর্মী ধারণা করছেন, ভবিষ্যতে নির্দিষ্ট দলের কর্মী কমানো বা কর্মদক্ষতার ভিত্তিতে কর্মীদের সরিয়ে দেওয়ার মাধ্যমে মেটা ছাঁটাই চালিয়ে যেতে পারে। আবার কোম্পানিজুড়ে কর্মী কমানোর সিদ্ধান্ত আগামী বছর পর্যন্ত পিছিয়ে দেওয়া হতে পারে বলেও তারা মনে করছেন।
এদিকে এআইয়ে বিপুল ব্যয়ের কারণে মেটা নগদ অর্থের চাপ ও বিনিয়োগকারীদের নজরদারির মুখে আছে। ফলে খরচ কমানোর চাপও বাড়ছে।
চলতি বছর এআই চিপ ও অন্যান্য অবকাঠামোয় অন্তত ১৩ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে মেটা। এলএসইজি-র হিসাব অনুযায়ী, এই ব্যয় ২০২৬ সালে কোম্পানির নিগদ পরিচালন খরচের বড় অংশ ব্যবহার করে ফেলবে বলে বিশ্লেষকেরা ধারণা করছেন।
এআইয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে নিজের নিবন্ধ ‘দ্য ফিউচার ইজ ফর এভরিওয়ান’-এ জাকারবার্গ ভবিষ্যতে “চাকরির প্রাচুর্য” তৈরি হতে পারে বলে ধারণা দিয়েছেন। তবে কিছু কোম্পানিতে কর্মীর সংখ্যা কমে যেতে পারে বলেও তিনি লিখেছেন।
জাকারবার্গ লিখেছেন, “কোম্পানির আকার ছোট হতে পারে, যেমন শিল্পভিত্তিক বৃহৎ কোম্পানি থেকে প্রযুক্তি কোম্পানিতে রূপান্তরের সময় হয়েছিল। কিন্তু এর অর্থ সামগ্রিকভাবে চাকরি কমে যাওয়া নয়। এর অর্থ হলো, কম কর্মী নিয়ে আরও বেশি সংখ্যক কোম্পানি তৈরি হবে।”