০৮ অক্টোবর ২০২৬, ২২ আশ্বিন ১৪৩৩

বিশ্বকে এজিআই যুগে আনল অ্যাস্ট্রা, দাবি এনভিডিয়া প্রধানের

অ্যানথ্রপিকের ক্লড ও গুগলের জেমিনাইয়ের মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে গেল সপ্তাহে ওপেনএআইয়ের নতুন মডেল চ্যাটজিপিটি অ্যাস্ট্রা বাজারে আসে।

বিশ্বকে এজিআই যুগে আনল অ্যাস্ট্রা, দাবি এনভিডিয়া প্রধানের
মডেলটি উন্মোচনের পরই জেনসেন হুয়াং লিখেছেন: “এজিআই এসে গেছে। ওপেনএআই টিমকে অভিনন্দন।” ছবি: রয়টার্স

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 09 Sep 2026, 03:07 PM

Updated : 17 Sep 2026, 02:57 AM

ওপেনএআইয়ের নতুন জিপিটি-৬ বা চ্যাটজিপিটি অ্যাস্ট্রা মডেলের হাত ধরে বিশ্বের প্রথম মানবসমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এজিআই যুগের সূচনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন এনভিডিয়ার প্রধান নির্বাহী জেনসেন হুয়াং।

তার দাবি, চ্যাটজিপিটির সর্বশেষ সংস্করণটি ‘আর্টিফিশিয়াল জেনারেল ইন্টেলিজেন্স’ বা মানুষের সমান কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রথম বাস্তব রূপ।

অ্যানথ্রপিকের ‘ক্লড’ ও গুগলের ‘জেমিনাই’-এর মতো প্রতিদ্বন্দ্বীদের পেছনে ফেলে গেল সপ্তাহেই ওপেনএআইয়ের নতুন মডেল জিপিটি-৬ বা ‘চ্যাটজিপিটি অ্যাস্ট্রা’ বাজারে এসেছে এবং তা বেঞ্চমার্ক টেস্টে ভালো ফলাফল দেখিয়েছে।

ওপেনএআই বলেছে, মডেলটি ‘কম্পিউটার ব্যবহার, ব্রাউজিং, সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিং, সাইবার নিরাপত্তা, বিজ্ঞান ও পেশাদার কাজের ক্ষেত্রে আধুনিক’ এবং একইসঙ্গে একাধিক কাজ স্বয়ংক্রিয়ভাবে করতে পারে।

এক প্রদর্শনীতে দেখা গেছে, নতুন এআই মডেলটি ব্যবহারকারীর সাধারণ অনুরোধ মেটানোর পাশাপাশি একই সঙ্গে ভিডিও গেইম তৈরি বা আইনি দলিল প্রস্তুতের মতো জটিল কাজও সম্পন্ন করছে।

মডেলটি উন্মোচনের পরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এক্স-এ জেনসেন হুয়াং লিখেছেন: “এজিআই এসে গেছে। ওপেনএআই টিমকে অভিনন্দন।”

এজিআইয়ের সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা নিয়ে প্রযুক্তি জগতের বিশিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। তবে ওপেনএআইয়ের চার্টার অনুসারে, এ এমন এক ‘স্বয়ংক্রিয় সিস্টেম, যা অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বেশিরভাগ কাজেই মানুষকে ছাড়িয়ে যেতে পারে’।

চ্যাটজিপিটির সর্বশেষ সংস্করণটি উন্মোচনের জন্য আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে ওপেনএআই প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান বলেছেন, “এজিআই যুগে আপনাদের স্বাগতম।”

এ সময় নতুন মডেলটিকে সক্ষমতার দিক থেকে ‘যুগান্তকারী লাফ’ বলেও বর্ণনা করেছেন তিনি।

“আমরা যদি কয়েক বছর সামনে এগিয়ে যাই ও ফিরে তাকিয়ে বলি ঠিক কখন প্রকৃতপক্ষে এজিআই তৈরি হয়েছিল, তবে আমার মনে হবে এটা ঠিক এই সময়ই এবং সম্ভবত এ মডেলেকেই নির্দেশ করবে।”

তার এ মন্তব্যের কেবল কয়েক দিন আগেই ওপেনএআইয়ের প্রধান নির্বাহী স্যাম অল্টম্যান বলেছিলেন, এজিআই হল “সর্বোচ্চ অস্পষ্টভাবে সংজ্ঞায়িত একটি শব্দ”।

‘সোর্সেস’ পডকাস্টে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেছেন, “আমি বলতেই যাচ্ছিলাম যে এজিআই গুরুত্বহীন মার্কেটিং পদের মতো।”

নতুন এআই মডেলটি এজিআইয়ের কতটা কাছাকাছি তা পরিমাপের লক্ষ্যে পরিচালিত স্বাধীন বেঞ্চমার্ক টেস্টগুলোতে ‘চ্যাটজিপিটি অ্যাস্ট্রা’ এমন সব নতুন স্কোর করেছে, যা মানুষের স্কোরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে মেলে।

এসব পরীক্ষা পরিচালনাকারী ‘এআরসি প্রাইজ ফাউন্ডেশন’-এর গ্রেগ কামরাডট মডেলটিকে ‘সামনের সারির মডেল পারফরম্যান্সের ক্ষেত্রে অর্থবহ ও বড় পরিবর্তন’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

এরপরও প্রযুক্তি জগতের কিছু ব্যক্তিত্ব বর্তমানের কোনো এআই মডেলকেই মানব সামন হিসেবে বর্ণনা করার বিষয়ে সন্দিহান রয়েছেন।

হুয়াংয়ের মন্তব্যের জবাবে প্রযুক্তি পরামর্শক মার্কো টাসিক তার দাবিকে খারিজ করে দিয়ে বলেছেন, সম্ভাব্য প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও’র আগে এটা মার্কেটিং কৌশল মাত্র।

“না, নতুন মডেল এজিআই নয়, বরং আইপিওর আগের জনসংযোগ বা পিআর স্টান্ট। পাম্প অ্যান্ড ডাম্প ছাড়া আর কিছুই নয়।”