তাপে ‘গলে যাচ্ছে’ এনভিডিয়ার গ্রাফিক্স কার্ডের কানেক্টর

এক হাজার পাঁচশ ৯৯ ডলার সমমূল্যের এনভিডিয়ার এই কার্ড সক্ষমতায় শীর্ষ শ্রেণির, তবে, এটি চালাতে শক্তিও খরচ হয় ব্যাপক।

প্রযুক্তি ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 30 Oct 2022, 11:15 AM
Updated : 30 Oct 2022, 11:15 AM

পাওয়ার কানেক্টরের সামর্থ্যের তুলনায় বেশি শক্তি টেনে নিচ্ছে এনভিডিয়ার ‘জিফোর্স আরটিএক্স ৪০৯০’ গ্রাফিক্স কার্ড। গ্রাহরা অভিযোগ করেছেন, অতিরিক্ত তাপে গলে যাচ্ছে কার্ডের পাওয়ার কানেক্টর।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট আর্স টেকনিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক হাজার পাঁচশ ৯৯ ডলার সমমূল্যের এনভিডিয়ার এই কার্ড সক্ষমতায় শীর্ষ শ্রেণির, তবে, এটি চালাতে শক্তিও খরচ হয় ব্যাপক।

এই কার্ডে শক্তি সরবরাহে নতুন ১৬ পিনের ১২ ভোল্ট ক্ষমতার একটি পাওয়ার কানেক্টর ব্যবহার করছে এনভিডিয়া।

এতে সর্বোচ্চ চারটি পর্যন্ত আট পিনের পাওয়ার কেবল ব্যবহার করতে পারেন ব্যবহারকারী, যেটি জিপিইউতে শক্তি সরবরাহ করে।

এই সপ্তাহের শুরুতে কানেক্টর অতিরিক্ত তাপে গলে যাওয়ার অভিযোগ সামাজিক প্ল্যাটফর্ম রেডিটে জানিয়েছেন দুইজন ব্যবহারকারী। তবে, তাদের মূল পিসি সেটআপ সম্পর্কে কিছু জানতে পারেনি আর্স টেকনিকা।

এই দুই ব্যবহারকারীর গ্রাফিক্স কার্ড মডেলে একটি ‘গিগাবাইট আরটিএক্স ৪০৯০’ গেইমিং ওসি’; অন্যটি ‘আসুস আরটিএক্স ৪০৯০ টিইউএফ গেইমিং ওসি’। আর্স টেকনিকা বলছে, এর পাওয়ার সাপ্লাইয়ের পাশাপাশি অন্যান্য বেশ কিছু কারণেই কানেক্টর অতিরিক্ত গরম হয়ে যেতে পারে।

প্রযুক্তিবিষয়ক সাইট টম’স হার্ডওয়্যারকে এনভিডিয়া বলেছে, তারা এইসব ‘অভিযোগের তদন্ত’ করছে। এ ছাড়া, প্রথম অভিযোগকারীর সঙ্গে ‘এরইমধ্যে যোগাযোগের’ পাশাপাশি অন্যজনের সঙ্গেও যোগাযোগের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে কোম্পানিটি।

টম’স হার্ডওয়্যার বলছে, তারটি নকশা অনুসারে বেঁকে গিয়েছে এবং ওই বাঁক গিয়ে পড়েছে কানেক্টরের একেবারে কাছে। এর ফলে সম্ভবত কয়েকটি পিন লাইন থেকে সরে যেতে পারে। এতে করে এইসব পিনজুড়ে সমান শক্তির প্রবাহ ব্যহত হতে পারে।

আর্স টেকনিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনার পর আরও নয়জন রেডিটে কানেক্টর নিয়ে একই ধরনের অভিযোগ পোস্ট করেছেন।

‘গলিত’ কানেক্টরের পেছনে দায়ী ত্রুটিযুক্ত তার

জার্মান ভাষার হার্ডওয়্যার সাইট ‘ইগর’স ল্যাবের’ প্রধান সম্পাদক ইগর ওয়ালোসেক এই কানেক্টরের ওপর পরীক্ষা চালিয়ে বলেছেন, জিপিউ বা কানেক্টর নয়, বরং এই ঘটনার জন্য সম্ভবত দায়ী এর আডাপ্টার কেবল।

অ্যাডাপ্টারটি উৎপাদন করেছে ‘অ্যাস্ট্রন’ নামের একটি কোম্পানি। সর্বমোট চারটি মোটা ১৪ গজের তার ব্যবহার করে ছয়টি সংযোগস্থলে শক্তি সরবরাহ করে এটি। আর এতে আছে একটি পাতলা ‘সোল্ডার বেইজ’। ওয়ালোসেক বলছেন, ওই তার বেঁকে গেলে বা চাপ লাগলে এটি সহজেই নষ্ট হতে পারে।

“ঘটনা খারাপ হলে বাইরের দুটি তার ভেঙে যেতে পারে এবং তখন পুরো বিদ্যুৎ প্রবাহিত হয় বাকি দুটো তারের মাধ্যমে।” --লিখেছেন ওয়ালোসেক।

“তখন যে এটি দ্রুতই গরম হয়ে ওঠবে তা আর আলাদা ব্যাখ্যা দেওয়ার কিছু নেই।”

ওয়ালোসেক আরও বলেন, আরও তদন্ত ও পরীক্ষা চালানোর উদ্দেশ্যে আক্রান্ত সকল কার্ড এনভিডিয়ার কাছে ফেরত পাঠানোর কথা অংশীদারদের বলেছে কোম্পানিটি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক