‘জিপিটি ৪-এর প্রতিদ্বন্দ্বী’ চ্যাটবট আনল চীনের বাইদু
মডেলটির মেমরির সক্ষমতা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি রিয়েল টাইমে একটি মার্শাল আর্টসভিত্তিক উপন্যাসও লিখে দেখানো হয় আয়োজনে।
নিজস্ব কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট আর্নি’র চতুর্থ সংস্করণ দেখিয়েছে চীনা প্রযুক্তি জায়ান্ট বাইদু। কোম্পানির দাবি, এর সক্ষমতা ওপেনএআইয়ের তৈরি চ্যাটবট জিপিটি ৪-এর মতোই।
মঙ্গলবার বেইজিংয়ে অনুষ্ঠিত এক আয়োজনে ‘আর্নি ৪.০’ নামের চ্যাটবটটি উন্মোচন করেন বাইদু’র সিইও রবিন লি। মডেলটির মেমরির সক্ষমতা ব্যাখ্যা করার পাশাপাশি রিয়েল টাইমে একটি মার্শাল আর্টসভিত্তিক উপন্যাসও লিখে দেখানো হয় আয়োজনে। পাশাপাশি, চ্যাটবটটির মাধ্যমে বিজ্ঞাপনী পোস্টার ও ভিডিও তৈরি করে দেখিয়েছেন লি।
তবে, বিশ্লেষকদেরকে সন্তুষ্ট করতে পারেনি চ্যাটবটটি। পরামর্শক কোম্পানি আইডিসি’র বিশ্লেষক লু ইয়ানজিয়া বলেন, নতুন চ্যাটবটে আগের সংস্করণের অনেক সুবিধাই নেই।
মঙ্গলবার সকালে হংকংয়ে বাইদু’র শেয়ারমূল্য কমেছে ১.৩২ শতাংশ। এর আগে হংকংভিত্তিক ‘হ্যাং সেং ইনডেক্স’-এ কোম্পানির শেয়ারমূল্য বেড়েছিল ০.৭ শতাংশ।
“চ্যাটবটটি পুরোদমে চালু হলে আমরা এতে বড় আপডেট প্রত্যাশা করছি। তবে, এগুলো কী ধরনের সুনির্দিষ্ট আপগ্রেড হতে পারে, তা এখনও পরিষ্কার নয়।” --বলেন লু।
তিনি আরও বলেন, এ আয়োজনের মূল ঘোষণাগুলোর মধ্যে ছিল বাইদু’র সকল পণ্যে জেনারেটিভ এআই যোগ করা। এর মধ্যে রয়েছে ‘বাইদু ড্রাইভ’ ও ‘বাইদু ম্যাপস’ও।
আর্নির সহায়তায় বাইদু ম্যাপ কীভাবে ব্যবহারকারীদের বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারের সুযোগ দেয়, আয়োজনে তার নমুনা দেখান লি। এর আগে ব্যবহারকারীদেরকে হাজার হাজার অপশনের মধ্যে বিভিন্ন সুবিধা সার্চ করতে হতো।
গত বছর চ্যাটজিপিটি উন্মোচনের পর গোটা বিশ্বে আলোড়ন সৃষ্টির পর থেকেই চীনের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে সম্মুখসারিতে কাজ করছে দেশটিতে সবচেয়ে বড় ইন্টারনেট সার্চ ইঞ্জিন কোম্পানি বাইদু।
গেল মার্চে ‘আর্নিবট’ নামে নিজেদের প্রথম চ্যাটবট প্রকাশ করে কোম্পানিটি। তবে, এর প্রাথমিক নমুনা বিনিয়োগকারীদের হতাশ করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে রয়টার্স।
অগাস্টে চীনের বাজারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক পণ্য উন্মোচনের প্রাথমিক অনুমোদন পাওয়া কোম্পানিগুলোর একটি ছিল বাইদু। আয়োজনে বাইদু’র প্রযুক্তি প্রধান ওয়াং হাইফেং বলেন, আনুষ্ঠানিকভাবে উন্মোচনের পর থেকে আর্নির ব্যবহারকারী সংখ্যা ছাড়িয়েছে সাড়ে চার কোটি।
ডেটা বিশ্লেষক কোম্পানি সিএলসিএ’র তথ্য অনুসারে, চীনে অন্তত ১৩০টি লার্জ ল্যাঙ্গুয়েজ মডেল রয়েছে, যা বৈশ্বিক সংখ্যার ৪০ শতাংশ। এ খাতের ৫০ শতাংশ দখলে রেখে চীনের চেয়ে চেয়ে কেবল এগিয়ে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।
গত সপ্তাহে বিভিন্ন প্রযুক্তি সেবাদাতা কোম্পানির জন্য সুরক্ষা ব্যবস্থার প্রস্তাবনা প্রকাশ করেছে বেইজিং। আর এআই মডেল প্রশিক্ষণে কী ধরনের উৎস ব্যবহার করা যাবে না, তার জন্যেও একটি তালিকা আছে সেখানে।
