Published : 17 Dec 2025, 11:49 AM
যুক্তরাজ্যের সঙ্গে ৪০০০ কোটি ডলারের প্রযুক্তি চুক্তি বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, লন্ডনের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণনীতি ও খাদ্যমান নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগের কারণেই প্রযুক্তি চুক্তির বাস্তবায়ন দেরি হচ্ছে।
‘টেক প্রসপারিটি ডিল’ নামের চুক্তিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই, কোয়ান্টাম কম্পিউটিং ও বেসামরিক পারমাণবিক জ্বালানিখাত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। দুই দেশের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক এবং বাণিজ্য ও প্রযুক্তিতে একসঙ্গে কাজের সক্ষমতা উদযাপন করতে সেপ্টেম্বরে প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প ব্রিটেন সফরের সময় এই চুক্তিতে সম্মত হয়েছিলেন বলে প্রতিবেদনে লিখেছে রয়টার্স।
এ বছরের মে মাসে ব্রিটেনই প্রথম দেশ হিসেবে নীতিগতভাবে কিছু মার্কিন শুল্ক কমাতে রাজি হয়েছিল। তবে তা বাস্তবায়ন হয়েছে ধীর গতিতে। ইস্পাতসহ কিছু খাত নিয়ে আলোচনা স্থগিত থাকলেও এ মাসের শুরুতে এক ওষুধ চুক্তিতে একমত হয়েছে দুই দেশ।
মঙ্গলবার ব্রিটিশ কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, প্রযুক্তি চুক্তিটির বাস্তবায়ন স্থগিত রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এ বিষয়ে প্রথম খবর প্রকাশ করেছে নিউ ইয়র্ক টাইমস।
আমেরিকান সংবাদপত্রটি প্রতিবেদনে লিখেছে, ব্রিটেনের অনলাইন নিরাপত্তা বিধি, ডিজিটাল সেবা কর ও খাদ্যনিরাপত্তা সংক্রান্ত বিধিনিষেধ নিয়ে মার্কিন কর্মকর্তারা অসন্তুষ্ট।
তবে ব্রিটেন বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ তারা।
ব্রিটিশ মন্ত্রীরা বলেছেন, মে মাসে শুল্ক চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন গরুর মাংস যুক্তরাজ্যে বেশি পরিমাণে বিক্রি করা যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের খাদ্যমানে তারা ছাড় দেবেন না।
তারা জোর দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাজ্যের ডিজিটাল নিয়ন্ত্রণনীতি ও কর নিয়ে কোনো আপস হবে না।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের একজন মুখপাত্র ‘চলমান আলোচনা’ নিয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটনের সঙ্গে তাদের সম্পর্ক এখনও শক্তিশালী।
“এ ধরনের আলোচনা কখনই সোজাসাপ্টা হয় না। উভয় দেশ স্বাভাবিকভাবেই নিজেদের দেশের জন্য সেরাটাই চায়, তবে আমরা এখনও সক্রিয়ভাবে আলোচনা চালাচ্ছি।”
তিনি আরও বলেছেন, বিভিন্ন দেশের জন্য তাদের নিজেদের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার বিষয়টি ‘স্বাভাবিক ও সাধারণ’।
“এই আলোচনা সহজ নয়। এগুলো জটিল ও সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে সময় লাগে।”
‘টেক প্রসপারিটি’ চুক্তির অধীনে কোয়ান্টাম কম্পিউটার ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে একসঙ্গে কাজ করতে রাজি হয়েছিল ব্রিটেন ও যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি ব্রিটেনে কোটি কোটি ডলার বিনিয়োগেরও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল সফটওয়্যার কোম্পানি মাইক্রোসফট, গুগল, চিপ নির্মাতা এনভিডিয়া ও চ্যাটজিপিটির নির্মাতা ওপেনএআইয়ের মতো মার্কিন প্রযুক্তি জায়ান্টরা।
প্রযুক্তি চুক্তি স্থগিতের বিষয়ে রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে সাড়া দেয়নি হোয়াইট হাউস।