Published : 23 Aug 2026, 10:59 AM
পাকিস্তানে বসে একদল বিদেশি স্ক্যামার বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে সাইবার প্রতারণা করছে বলে উঠে এসেছে এক তদন্তে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম দ্য নিউজ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনলাইনে জালিয়াতি ও অন্যান্য অবৈধ কর্মকাণ্ডের অভিযোগে সম্প্রতি দেশটিতে ব্যাপক ধরপাকড় চালায় কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা ফেডারেল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এফআইএ)। ওই অভিযানে ২৮৪ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়।
আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত সপ্তাহে এসব বিদেশিকে ১৫ দিনের মধ্যে পাকিস্তান ত্যাগের নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে শর্ত দেওয়া হয়, তাদের বৈধ ভ্রমণ নথিপত্র থাকতে হবে এবং অন্যান্য সকল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে হবে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাত দিয়ে দ্য নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলমান এই তদন্তের পরিধি আরও বাড়ানো হয়েছে। বর্তমানে পাকিস্তান টেলিকমিউনিকেশন অথরিটি (পিটিএ), ফেডারেল বোর্ড অব রেভিনিউ (এফবিআর) এবং সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন অব পাকিস্তানকেও (এসইসিপি) এই তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ইমিগ্রেশন, পাসপোর্ট ও ভিসা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে। এসব বিদেশি নাগরিক কীভাবে পাকিস্তানে প্রবেশ করছে, কোথায় থাকছে, কী ধরনের ব্যবসা করছে এবং তাদের সাইবার অপরাধ নেটওয়ার্ক কীভাবে পরিচালিত হচ্ছে—তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
মাসে আয় ৮০ হাজার ডলার!
দ্য নিউজ লিখেছে, তিন মাস আগে বাবুর্চি বা শেফ পরিচয়ে পাকিস্তানে এসেছিলেন এক ইন্দোনেশীয় নাগরিক। গ্রেপ্তার হওয়ার পর তিনি তদন্তকারীদের বলেন, তাদের দলে দুজন চীনা ও সাতজন ইন্দোনেশীয়সহ মোট নয়জন সদস্য রয়েছেন।
"আমাদের দলটি বিভিন্ন স্কিমের মাধ্যমে মাসে প্রায় ৮০ হাজার মার্কিন ডলার আয় করে। বিশেষ করে ৪০ বছরের বেশি বয়সী ইন্দোনেশীয় নারীরাই আমাদের মূল লক্ষ্য।"
তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, পাকিস্তানে ঘাঁটি গাড়লেও চক্রটি মূলত বিদেশের মানুষদেরই নিশানা বানাত। এই তথ্যের ভিত্তিতে দেশের বাইরের সম্ভাব্য ভুক্তভোগী ও চক্রের অন্য সদস্যদের বিষয়েও খোঁজ খবর শুরু করেছে কর্তৃপক্ষ।
প্রতারকদের আর্থিক লেনদেন এবং ডিজিটাল অবকাঠামো নিয়ে বর্তমানে যৌথভাবে কাজ করছে এফআইএ, ন্যাশনাল সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনসিসিআইএ) এবং পুলিশ।
দেশজুড়ে বিশেষ অভিযান
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের দ্য নিউজ লিখেছে, অবৈধ কল সেন্টার, সাইবার জালিয়াতি এবং আপত্তিকর কনটেন্টের বিরুদ্ধে দেশজুড়ে বড় ধরনের অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির কেন্দ্রীয় সরকার।
সেজন্য এফআইএ সদর দপ্তরের অধীনে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হবে। এই টাস্কফোর্স অবৈধ কল সেন্টারগুলোর বিরুদ্ধে তাদের দৈনন্দিন অভিযানের প্রতিবেদন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা দেবে।
চাঁদাবাজি, ব্ল্যাকমেইল, জুয়া ও স্ক্যামের মতো বিষয়গুলো তদন্ত করবে এই বিশেষ দল। ইতোমধ্যে করাচিতে পরিচালিত অবৈধ কল সেন্টারগুলোর একটি তালিকাও তৈরি করা হয়েছে।
টাস্কফোর্সের এই অভিযানে সংশ্লিষ্ট সব প্রতিষ্ঠানকে পূর্ণ সহযোগিতা করার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার।