Published : 11 Nov 2025, 04:41 PM
চীনা সরকারের চাপের কাছে নতি স্বীকার করেছে অ্যাপল। দেশটির অ্যাপ স্টোর থেকে সমকামীদের মধ্যে জনপ্রিয় এমন দুটি ডেটিং অ্যাপ সরিয়ে নিয়েছে আইফোন র্নিমাতা মার্কিন কোম্পানিটি।
আমেরিকান ম্যাগাজিন উইয়্যার্ড প্রতিবেদনে লিখেছে, চীনের ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রক ও সেন্সরশিপ কর্তৃপক্ষের নির্দেশ পাওয়ার পর দেশটির অ্যাপ স্টোর থেকে ‘ব্লুড’ ও ‘ফিনকা’ নামের অন্যতম বড় দুটি ডেটিং অ্যাপ সরিয়ে ফেলেছে মার্কিন কোম্পানিটি।
এ বিষয়ে অ্যাপলের একজন মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা যেসব দেশে কাজ করি, সেইসব দেশের আইন মেনে চলি।
“চীনের সাইবারস্পেস প্রশাসনের নির্দেশে আমরা কেবল চীনের অ্যাপ স্টোর থেকেই এই দুটি অ্যাপ সরিয়েছি।”
এমন পদক্ষেপকে চীনের প্রান্তিক এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের জন্য বড় এক ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে, যাদের এখনো পছন্দসই সঙ্গী বাছাইয়ের অধিকার নেই।
চীনে ১৯৯৭ সালে সমকামীতাকে অপরাধের তালিকা থেকে বাদ দেওয়া হলেও এখনও সমলিঙ্গের বিয়েতে স্বীকৃতি দেয়নি চীন। একইসঙ্গে দেশটিতে সেন্সরশিপ আইনের কারণে এলজিবিটিকিউ+ চরিত্র বা গল্পের চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠান প্রচারেও বাধা রয়েছে বলে প্রতিবেদনে লিখেছে ব্রিটিশ দৈনিক ইন্ডিপেনডেন্ট।
তবে চীনের অ্যাপ স্টোর থেকে ডেটিং অ্যাপ সরিয়ে ফেলার ঘটনা এটিই প্রথম নয়। এর আগে, ২০২২ সালে চীনের অ্যাপ স্টোর থেকে জনপ্রিয় গে ডেটিং অ্যাপ ‘গ্রাইন্ডার’ সরিয়েছিল অ্যাপল।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা বলেছেন, যেসব ডিভাইসে এসব অ্যাপ আগেই ডাউনলোড করা ছিল, সেসব ডিভাইসে এখনো সেগুলো কাজ করছে।
২০১৪ সালে এক ব্যক্তিগত প্রবন্ধে নিজেকে সমকামী হিসেবে প্রকাশ করেছিলেন অ্যাপলের প্রধান নির্বাহী টিম কুক। বিশ্বজুড়ে এলজিবিটিকিউ+ সম্প্রদায়ের অন্যতম প্রভাবশালী কণ্ঠ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছেন তিনি।
প্রবন্ধে তিনি লিখেছিলেন, “সমকামী হওয়ায় সংখ্যালঘু হিসেবে থাকার কী মানে তা আমি আরও গভীরভাবে বুঝতে পেরেছি, যা আমাকে অন্যান্য সংখ্যালঘু গোষ্ঠীর মানুষেরা প্রতিদিন কী ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েন তা বোঝার দুয়ার খুলে দিয়েছে।
“আমি নিজেকে কোনও অ্যাক্টিভিস্ট মনে করি না। তবে আমি বুঝতে পেরেছি, অন্যদের ত্যাগের মধ্য দিয়ে আমি কতটা উপকৃত হয়েছি।
“যে কোম্পানিটিতে আমি নেতৃত্ব দেওয়ার সুযোগ পেয়েছি, তা দীর্ঘদিন ধরেই মানবাধিকার ও সকলের সমতার পক্ষে কাজ করে এসেছে… আমরা আমাদের মূলনীতির জন্য লড়াই চালিয়ে যাব এবং আমি বিশ্বাস করি, এ অসাধারণ কোম্পানির যে কোনো সিইও বর্ণ, লিঙ্গ বা যৌন অভিমত নির্বিশেষে একই কাজ করবেন।”
বরাবরই নিজেদেরকে প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কোম্পানি হিসেবে উপস্থাপন করেছে অ্যাপল। প্রাইড মাসে ‘প্রাইড এডিশনে’র আনুষাঙ্গিক পণ্য প্রকাশ করার পাশাপাশি এলজিবিটিকিউ+ অধিকারের পক্ষে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনকে অনুদানও দিয়ে থাকে কোম্পানিটি।