Published : 18 Nov 2024, 05:42 PM
মোবাইল ফোন শিশুদের শৈশব কেড়ে নিচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন ছুরিকাঘাতে নিহত এক কিশোরের বাবা।
২০২১ সালে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এক বিবাদের জেরে অলি স্টিফেন্স নামের ওই কিশোরের উপর হামলা চালায় দুই কিশোর।
ছেলের মৃত্যুর পর স্টিফেন্সের বাবা স্টুয়ার্ট স্টিফেন্স যুক্তরাজ্য সরকারের সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা আইন নিয়ে কাজ শুরু করেন।
বর্তমানে প্রস্তাবিত নতুন এক আইন নিয়ে আজ করছেন তিনি, যেখানে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে শিশুদের অনলাইন সেবা ও বিভিন্ন অনলাইন কনটেন্টে প্রবেশাধিকারে নিরাপত্তার ওপর।
আগামী গ্রীষ্ম থেকে এ অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় শিশুদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সুরক্ষা দেবে যুক্তরাজ্য, বলেছেন দেশটির সরকারের এক মুখপাত্র।
স্টিফেন্স বলেছেন, অনলাইন নিরাপত্তা আইন আরও আগে এলে তা আমার ছেলেকে ‘অবশ্যই’ সাহায্য করতে পারত। আমার ছেলের এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যু হত না।
এর আগে, ২০২১ সালে বাড়ির পেছনের এক মাঠে দুই কিশোর মিলে ছুরিকাঘাত করে হত্যা করে অলিকে, যেখানে অলিকে প্রলুব্ধ করার জন্য তারা অনলাইনে ব্যবহার করেছিল এক মেয়েকে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের এক চ্যাটিং গ্রুপে বিবাদের জেরে এই হামলা পরিকল্পনার কথা প্রতিবেদনে লিখেছে বিবিসি।
“অলি মারা যাওয়ার আগে যুক্তরাজ্যে কোনও অনলাইন নিরাপত্তা আইন ছিল না। ফলে সে সময় অনলাইনে শিশুদের সুরক্ষার জন্য ছিল না কোনও নিরাপত্তা ব্যবস্থাও,” বলেছেন স্টিফেন্স।
“বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কীভাবে কাজ করে তা আমরা জানি… শিশুদের ফোনের পর্দায় থাকা ও ক্রমাগত স্ক্রল করার মাধ্যমে অর্থ আয়ের সুযোগ পায় বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানি।”
বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি বর্তমানে ‘দায়মুক্তির কাজ করছে’ বলেও মন্তব্য করেন স্টিফেন্স।
“কারণ, যা ঘটছে এর দায়ভার যে কোনও সময় ঝেড়ে ফেলতে পারে এসব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানি।”
বিভিন্ন বিদ্যালয় ১৬ বছরের কম বয়সীদের ফোন ব্যবহার ‘ধারাবাহিকভাবে’ বন্ধের দাবিও জানান স্টিফেন্স। তিনি বলেন, বিদ্যালয়ের পরিবেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রভাব আমাদের সন্তানদের পড়াশোনাকে বিপর্যস্ত করে তুলছে।
“মোবাইল ফোন শিশুদের শৈশব কেড়ে নেয়, কেড়ে নেয় তাদের কল্পনাশক্তি, কেড়ে নেয় তাদের জ্ঞান পিপাসাও।”
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ডেটাতে শিশুদের প্রবেশাধিকারেও পরিবর্তন দেখতে চান স্টিফেন্স।
এদিকে, সরকারের এক মুখপাত্র বলেছেন, “আমরা সবাই ডিজিটাল প্রযুক্তি থেকে সুবিধা পেতে চাই। একইসঙ্গে অনলাইনে শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিতের লক্ষ্যে সবচেয়ে ভাল উপায়ও খুঁজে বের করতে চাই আমরা।”
“অনলাইন নিরাপত্তা আইনের আওতায় শিশুদের বয়স যাচাইয়ের ক্ষেত্রে মা-বাবাদের অবশ্যই অনুমতি নিতে হবে বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম কোম্পানিকে। ফলে অনলাইনে সন্তানদের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে মানসিক প্রশান্তি মিলবে মা-বাবাদের।”