১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২ আশ্বিন ১৪৩৩

কিন্ডলে আবার ব্লুটুথ কেন, কী কাজে লাগে?

অডিওবুক শোনা থেকে শুরু করে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীদের সহায়তা, কিন্ডলের ব্লুটুথের রয়েছে বেশ কিছু ব্যবহার।

কিন্ডলে আবার ব্লুটুথ কেন, কী কাজে লাগে?
কিন্ডলে ব্লুটুথ ব্যবহার করে পৃষ্ঠা উল্টানোর সুবিধা নেই। ছবি: ম্যাগনিফিক

প্রযুক্তি ডেস্ক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 30 Aug 2026, 01:05 PM

Updated : 11 Sep 2026, 03:55 PM

কিন্ডল ই-রিডার হাতে নিয়ে প্রথমবার চালু করার সময় ব্লুটুথের কথা অনেকেরই মনে আসে না। সাধারণত বই ডাউনলোড, পড়ার অগ্রগতি বিভিন্ন ডিভাইসে সমন্বয় এবং উইকিপিডিয়া দেখার মতো কাজে ইন্টারনেট সংযোগই ব্যবহার করেন পাঠকরা। তাহলে কিন্ডলে ব্লুটুথ রাখার দরকার কী?

প্রযুক্তি ওয়েবসাইট এনগ্যাজেটের এক প্রতিবেদন বলছে, ২০১৬ সাল বা তার পর বাজারে আসা কিন্ডল মডেলগুলোতে ব্লুটুথ সংযোগ রয়েছে। এই সুবিধার মাধ্যমে তারহীন হেডফোন বা স্পিকারের সঙ্গে কিন্ডল যুক্ত করে অডিওবুক শোনা যায়। অ্যামাজনের নতুন এই ই-রিডারগুলোয় বিল্ট-ইন স্পিকার বা হেডফোন জ্যাক না থাকায় এই সুবিধা আরও গুরুত্বপূর্ণ।

শুধু অডিওবুক শোনার জন্যই নয়, কিন্ডলের ব্লুটুথ ব্যবহারকারীদের জন্য একটি সহায়ক প্রযুক্তি হিসেবেও কাজ করে। কিন্ডলের ভয়েসভিউ সুবিধার সঙ্গে এটি ব্যবহার করে পর্দায় থাকা বিভিন্ন লেখা পড়ে শোনানো যায়। ফলে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী ব্যবহারকারীরা মেনুতে চলাফেরা ও বিভিন্ন সুবিধা ব্যবহারে সহায়তা পান।

কিন্ডলে ব্লুটুথ ডিভাইস কীভাবে যুক্ত করবেন

২০১৬ সালের পর তৈরি কিন্ডলে সাধারণত আলাদা করে ব্লুটুথ চালু করার প্রয়োজন নেই। অডিওবুক শোনার জন্য তারহীন অডিও ডিভাইস যুক্ত করাও বেশ সহজ।

প্রথমে কিন্ডলের হোম স্ক্রিন থেকে লাইব্রেরিতে যেতে হবে। এরপর ডাউনলোড করা কনটেন্টের তালিকা খুলে যে অডিওবুকটি শুনতে চান, সেটি নির্বাচন করতে হবে।

অডিওবুক চালু করতে প্লে চাপলে কিন্ডল একটি ব্লুটুথ ডিভাইস যুক্ত করার কথা বলবে। এ সময় হেডফোন বা স্পিকারে পেয়ারিং মোড চালু করতে হবে। কোন ডিভাইসে কীভাবে পেয়ারিং মোড চালু করতে হয়, তা ডিভাইসভেদে আলাদা হতে পারে। সাধারণত একটি নির্দিষ্ট বোতাম চাপতে হয় অথবা কয়েক সেকেন্ড একাধিক বোতাম একসঙ্গে ধরে রাখতে হয়।

এরপর কিন্ডলের পর্দায় যে ডিভাইসটি ব্যবহার করতে চান, সেটির নাম নির্বাচন করতে হবে। সংযোগ হয়ে গেলে অডিওবুকটি চালু হবে।

অডিওবুক চলার সময় অডিবল পর্দায় কিছু নিয়ন্ত্রণ সুবিধাও পাওয়া যায়। সেখান থেকে কয়েক সেকেন্ড পেছনে যাওয়া বা সামনে এগিয়ে যাওয়া, পড়ার গতি পরিবর্তন এবং অধ্যায় পরিবর্তন করা যায়। শব্দের মাত্রা পরিবর্তন করতে পর্দার ওপরের দিকে থাকা নিচের তীর চিহ্নে চাপ দিয়ে কুইক অ্যাকশনস প্যানেল খুলতে হবে।

নিয়মিত কিন্ডল বা পেপারহোয়াইটের সঙ্গে অডিও ডিভাইস যুক্ত করতে সমস্যা হলে ডিভাইসটি পুনরায় চালু করা বা সর্বশেষ সফটওয়্যার সংস্করণে আপডেট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

ব্লুটুথ দিয়ে পৃষ্ঠা উল্টানো যায় না

কিন্ডলে ব্লুটুথ ব্যবহার করে পৃষ্ঠা উল্টানোর সুবিধা নেই। পর্দায় চাপ দেওয়া বা কিন্ডল ডিভাইসে থাকা বোতাম চাপতে যাদের সমস্যা হয়, তাদের জন্য এমন সুবিধা কার্যকর হতে পারত।

তবে তৃতীয় পক্ষের কিছু পৃষ্ঠা উল্টানোর যন্ত্র ভিন্নভাবে কাজ করে। এগুলো পর্দায় একটি ক্লিপ যুক্ত করে, যা রেডিও ফ্রিকোয়েন্সি প্রযুক্তির মাধ্যমে আঙুলের স্পর্শের মতো কাজ করে। ক্লিপটি একটি তারহীন রিমোট দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। অ্যামাজন এখনো এ ধরনের নিজস্ব কোনো বিকল্প সুবিধা দেয়নি।

ব্লুটুথ ব্যবহার করে কিন্ডলের সঙ্গে কিবোর্ডও যুক্ত করা যায় না। একইভাবে কিন্ডল ও স্মার্টফোনের মধ্যে ফাইল স্থানান্তরের কাজেও ব্লুটুথ ব্যবহার করা সম্ভব নয়।

অডিওবুকের পাশাপাশি কিন্ডলের অ্যাসিস্টিভ রিডার সুবিধাতেও ব্লুটুথ অডিও ডিভাইস কাজে লাগে। কিন্ডল স্টোর থেকে পাওয়া বইয়ের লেখা এই সুবিধার মাধ্যমে কণ্ঠে পড়ে শোনানো যায়।

ফলে ব্লুটুথ দিয়ে এখনই কিন্ডলের পৃষ্ঠা উল্টানো সম্ভব না হলেও অডিওবুক শোনা কিংবা বই পড়ে শোনানোর ক্ষেত্রে সুবিধাটি বেশ কাজে লাগে।