Published : 05 Feb 2026, 03:54 PM
১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ। তার এ কঠোর অবস্থানের তীব্র বিরোধিতা করেছেন এক্স প্রধান ইলন মাস্ক।
ব্রিটিশ পত্রিকা গার্ডিয়ান লিখেছে, অস্ট্রেলিয়ার পর ইউরোপজুড়ে সামাজিক মাধ্যমের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিতে এবার স্পেনে টিনএজারদের জন্য এসব প্লাটফর্মের ব্যবহার নিষিদ্ধের প্রস্তাব দিয়েছেন সানচেজ। এ প্রস্তাবের প্রেক্ষিতে স্পেনের প্রধানমন্ত্রীকে ব্যক্তিগতভাবে আক্রমণ ও অপমান করে মাস্ক বলেছেন, “সানচেজ একজন প্রকৃত ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী।”
মঙ্গলবার স্পেনের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, তার সরকার ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধসহ বেশ কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। শিশুদের এই ‘ডিজিটাল ওয়াইল্ড ওয়েস্ট’ বা আইনহীন ডিজিটাল জগত থেকে রক্ষা এবং ঘৃণ্য ও ক্ষতিকর কনটেন্টের জন্য বিভিন্ন প্রযুক্তি কোম্পানিকে জবাবদিহিতার আওতায় আনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তিনি।
সানচেজ আরও বলেছেন, এ নিয়ে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে কারণ সামাজিক মাধ্যম বর্তমানে এক ‘ব্যর্থ রাষ্ট্রে’ পরিণত হয়েছে, যেখানে আইনকে তোয়াক্কা না করে অপরাধকে প্রশ্রয় দেওয়া হয়।
স্পেনে বসবাসরত ৫ লাখ অনিবন্ধিত কর্মী ও আশ্রয়প্রার্থীকে বৈধতা দেওয়ার যে সিদ্ধান্ত সানচেজ সরকার নিয়েছিল তা নিয়ে এক্স-এ ‘ভুল তথ্য ছড়ানোর’ জন্য মাস্কের তীব্র সমালোচনাও করেছেন সানচেজ। তিনি মনে করিয়ে দিয়েছেন, মাস্ক নিজেও একজন অভিবাসী।
এর জবাবে নিজের সামাজিক মাধ্যমে এক্স-এ মার্কিন ধনকুবের মাস্ক লিখেছেন, “নোংরা সানচেজ একজন অত্যাচারী ও স্পেনের জনগণের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করছে।”
এ পোস্টের প্রায় দেড় ঘণ্টা পর নিজের ক্ষোভ আরও বাড়িয়ে মাস্ক লিখেছেন, “সানচেজ একজন প্রকৃত ফ্যাসিবাদী স্বৈরাচারী।”
এদিকে, স্পেনের এসব প্রস্তাবিত পদক্ষেপের বিষয়ে গুগলের মূল কোম্পানি অ্যালফাবেট, টিকটক, স্ন্যাপচ্যাট ও মেটার প্রতিনিধিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও কোনো মন্তব্য করেননি তারা।
স্পেনের মতো গ্রিসও ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য একই ধরনের নিষেধাজ্ঞা ঘোষণার খুব কাছাকাছি রয়েছে বলে দেশটির সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
স্পেন ও গ্রিস এখন ব্রিটেন ও ফ্রান্সের মতো দেশগুলোর কাতারে যোগ দিতে যাচ্ছে, যারা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নিয়ে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা ভাবছে।
এর আগে, গত ডিসেম্বরে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে ১৬ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ব্যবহার নিষিদ্ধ করেছে অস্ট্রেলিয়া।
এখন শিশুদের অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম তাদের বিকাশ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর কেমন প্রভাব ফেলছে তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশের সরকার ও নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
বর্তমানে ফ্রান্সও ১৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য সামাজিক মাধ্যম নিষিদ্ধের আইন পাসের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে ব্রিটেনও।