২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২ আশ্বিন ১৪৩৩

যে হ্যাকার কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিকে

রুই পিন্টোকে কেউ দেখেন গোপন তথ্য চুরি করা অপরাধী হ্যাকার হিসেবে, আবার কেউ দেখেন ফুটবল বিশ্বের অন্ধকার দিক প্রকাশ করা হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে।

যে হ্যাকার কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন ম্যানচেস্টার সিটিকে

পিন্টোর ফাঁস করা তথ্য প্রকাশের বিষয়টি সাংবাদিকদের জন্য আইনি ও নৈতিক জটিলতা তৈরি করেছিল। ছবি: রুই পিন্টোর এক্স ডিপি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 27 Sep 2026, 02:41 PM

Updated : 27 Sep 2026, 02:41 PM

ম্যানচেস্টার সিটির সমর্থকদের কাছে রুই পিন্টোর নাম হয়তো খুব পরিচিত নয়। কিন্তু তার কাজের সঙ্গে তারা বেশ ভালোভাবেই পরিচিত।

২০১৫ সালে পিন্টো ‘ফুটবল লিকস’ নামে একটি ওয়েবসাইট চালু করেন। সেখানে তিনি ফুটবলের ‘গোপন দিক’ প্রকাশ করার কথা বলেন। পরে তার ফাঁস করা নথির মধ্যে ম্যানচেস্টার সিটির স্পনসরশিপ চুক্তি ও অর্থ পরিশোধ নিয়ে অভ্যন্তরীণ ইমেইলও ছিল। এসব তথ্যের সূত্র ধরেই প্রিমিয়ার লিগ আর্থিক নিয়ম ভঙ্গের অভিযোগ আনে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে।

শুক্রবার প্রকাশিত সিদ্ধান্তে ১১৫টি অভিযোগের বেশিরভাগেই ক্লাবটিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়েছে।

এক প্রতিবেদনে পিন্টোর জীবন, তার ফাঁস করা তথ্য এবং তাকে ঘিরে থাকা বিতর্কের নানা দিক তুলে ধরেছে বিবিসি।

৩৭ বছর বয়সী পিন্টোকে কেউ দেখেন তথ্য চুরি করা একজন অপরাধী হিসেবে। আবার কেউ তাকে মনে করেন এমন একজন হুইসেলব্লোয়ার, যিনি ফুটবল বিশ্বের অন্ধকার দিক সবার সামনে এনেছেন।

বিবিসি স্পোর্ট ইউরোপের বিভিন্ন দেশে গিয়ে পিন্টোর সাবেক শিক্ষক, তাকে হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়ার পক্ষে থাকা পর্তুগিজ রাজনীতিবিদ, তার ফাঁস করা তথ্য প্রকাশকারী সাংবাদিক এবং ম্যানচেস্টার সিটির সাবেক আর্থিক উপদেষ্টার সঙ্গে কথা বলেছে। পিন্টোর সর্বশেষ মামলার শুনানি আদালতে তার কাছাকাছি বসে পর্যবেক্ষণও করেছে তারা।

কম্পিউটারে আগ্রহ ছিল ছোটবেলা থেকেই

পিন্টোর সাবেক ভূগোল শিক্ষক মারিও ফালকাওয়ের স্মৃতিতে, তিনি ছিলেন একেবারেই স্বাভাবিক এক শিক্ষার্থী।

পর্তুগালের একটি ছোট বাড়ির বাগানে বসে ফালকাও বলেন, “রুই ছিল একেবারেই স্বাভাবিক একজন শিক্ষার্থী। সে ভালো ছিল, চুল ছিল খাড়া ধরনের, সামাজিক ছিল, তবে খুব বেশি মিশুকও ছিল না।”

“শিক্ষকদের সঙ্গে তার ভালো সম্পর্ক ছিল। যদিও সে প্রায়ই ক্লাসে অনুপস্থিত থাকত। তার বাবা সবকিছুর দিকে নজর রাখতেন, তাই শেষ পর্যন্ত সে বেশ সহজেই পাস করে।”

কম্পিউটারের প্রতি পিন্টোর আগ্রহও শিক্ষক হিসেবে তার চোখে পড়েছিল।

“সে কম্পিউটারে আসলেই ভালো ছিল। বিভিন্ন কোর্সে সে যে কাজগুলো করত, মনোযোগ দিলে সেগুলো খুব ভালো করত,” বলেন ফালকাও।

অবসর নেওয়া এই শিক্ষক পিন্টোর শৈশবের কথা মনে করে বলেন, তিনি অন্য বন্ধুদের মতোই ছিলেন। “জিমে যেত, ম্যাকডোনাল্ডসে খেতে যেত।”

পিন্টো বড় হয়েছেন পর্তুগালের দ্বিতীয় বড় শহর পোর্তোর পাশের দোরু নদীর ওপারে ভিলা নোভা দে গাইয়া এলাকায়। তার বাড়ি যেখানে ছিল, সেখানে রাস্তায় টাইলস আর টালির ছাদের বাড়ি ছিল খুবই সাধারণ।

তার স্কুল এসকোলা সেকুন্দারিয়া আলমেইদা গারেত স্থানীয়ভাবে বেশ স্বনামধন্য ছিল। স্থানীয়রা স্কুলটিকে ডাকতেন ‘বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে।

বাবা ফ্রান্সিসকো কাজ করতেন জুতার কারখানায়। পরে তিনি পুরোনো জিনিসপত্রের ব্যবসা শুরু করেন।

১১ বছর বয়সে পিন্টোর মা মারা যান।

২০১৯ সালে ফুটবল লিকসের প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে পিন্টোর নাম সামনে আসার পর ফালকাওসহ তার পরিচিতরা বিশ্বাস করতে পারেননি।

“আমরা খুব অবাক হয়েছিলাম। এমন কিছু ঘটতে পারে, বেআইনী কাজের অভিযোগে সে মামলায় পড়তে পারে, আমরা এমন কিছু কল্পনা করিনি।”

ফালকাওয়ের ধারণা, পিন্টোর তারুণ্যের কিছু বাড়াবাড়ি, কম্পিউটারে দক্ষতা এবং ফুটবল ক্লাবের প্রতি অতিরিক্ত আবেগ এর পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

তিনি বলেন, “সে এফসি পোর্তোর সমর্থক ছিল। সেটি সম্ভবত তাকে কিছু কাজ করতে প্ররোচিত করেছিল। তবে হয়তো সে ন্যায়বিচারের প্রয়োজনও অনুভব করেছিল, যেটা তরুণ বয়সে খুবই স্বাভাবিক বিষয়।”

‘ফুটবলের গোপন দিক’ প্রকাশের শুরু

২০১৫ সালে ফুটবল লিকস চালু করেন পিন্টো। পর্তুগিজ সাংবাদিক আন্তোনিও ভারেলা সেই সময়ের কথা এখনও মনে করতে পারেন। তিনিই ছিলেন পিন্টোর সঙ্গে যোগাযোগ করা প্রথম সাংবাদিক। তখনও পিন্টোর আসল পরিচয় জানা ছিল না। তিনি ‘জন’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন।

ভারেলা বলেন, “২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে এক সাধারণ দিন ছিল। আমি রেকর্ড পত্রিকার নিউজরুমে ছিলাম। ফুটবল লিকস থেকে একটি ইমেইল পেলাম। বিষয়টি অদ্ভুত লাগল। এরপর সঙ্গে সঙ্গে ওয়েবসাইটে গেলাম। সেখানে এমন অনেক তথ্য দেখলাম, যেগুলো আপনি কখনও শোনেননি বা পড়েননি। আমরা বুঝলাম, এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

পিন্টোর ফাঁস করা তথ্য প্রকাশ করা সাংবাদিকদের জন্য অবশ্য আইনি ও নৈতিক জটিলতাও তৈরি করেছিল।

ভারেলা বলেন, “আমরা বুঝেছিলাম, ফুটবল লিকস অবৈধভাবে তথ্য পেয়েছে। কিন্তু তারা ওয়েবসাইটে তথ্য প্রকাশ করার পর সেটি জনসাধারণের তথ্য হয়ে যায়। সেটা উপেক্ষা করা যায় না। নৈতিকভাবে বিষয়টি জটিল, কিন্তু জনস্বার্থ নৈতিক সমস্যার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। এটাই ছিল আমাদের সিদ্ধান্ত।”

ম্যানচেস্টার সিটিই পিন্টোর একমাত্র লক্ষ্য ছিল না। শুরুতে ফুটবল লিকসের ফাঁস করা তথ্যের মধ্যে পর্তুগালের বেনফিকা এবং পিন্টোর সমর্থন করা এফসি পোর্তোও ছিল।

পরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, লিওনেল মেসি ও নেইমারের মতো তারকা খেলোয়াড়, বিশ্বের বড় ক্লাব ও এজেন্টদের নিয়ে নথি ও যোগাযোগের তথ্য ফাঁস হয়।

জার্মান সাময়িকী দ্যর স্পিগেলের সাংবাদিক রাফায়েল বুশম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করেন পিন্টো। তার ওপর আস্থা তৈরি হওয়ার পর পিন্টো তাকে কোটি কোটি নথি দেন।

জার্মানির হামবুর্গে দ্যর স্পিগেলের কার্যালয়ে একদল সাংবাদিক সেসব নথি খুঁটিয়ে দেখেন। এরপর ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে আলোচিত কিছু প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

সেই দলের তথ্য সাংবাদিক ক্রিস্টোফ ভিন্টারবাখ বলেন, “শুরুর দিকে মনে হয়েছিল, যেন মিষ্টির দোকানে ঢুকে পড়া কোনো শিশু। আপনি যদি ফুটবল সমর্থক বা ক্রীড়া সাংবাদিক হন, তাহলে আসল নথি দেখা, যেসব ইমেইলে চুক্তি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে সেগুলো দেখা এবং পর্দার আড়ালে কীভাবে সবকিছু কাজ করে তা জানা ছিল অসাধারণ।”

তবে নথিগুলো প্রকাশের আগে তথ্য যাচাইয়ের ওপরও জোর দেন তিনি।

“এ ধরনের নথি ও তথ্য পেলে অনেকবার যাচাই করা খুব গুরুত্বপূর্ণ। আমরা এমন সফটওয়্যার ব্যবহার করেছি, যা সব তথ্যকে একটি প্রেক্ষাপটে এনে নির্ভরযোগ্যতার সমস্যা আছে কি না তা দেখতে সাহায্য করেছে।”

“আমাদের সবসময় নিশ্চিত হতে হয় যে উপাদানটি আসল। আর সেটি নিয়ে কিছু প্রকাশ করার সময় জনস্বার্থ আছে কি না, সেটিও দেখতে হয়।”

২০১৯ সালে কারাগারে থাকা অবস্থায় প্রথমবার পিন্টোর সঙ্গে দেখা করেন ভিন্টারবাখ। পরে সাক্ষী সুরক্ষার আওতায় কঠোর নিরাপত্তার একটি গোপন জায়গায় তার সঙ্গে আবার সাক্ষাৎ করেন। সেখানে যাওয়ার পুরো ব্যবস্থাকে তিনি “হলিউডের সিনেমার মতো” বলে বর্ণনা করেন।

ভিন্টারবাখের ভাষায়, “রুই পিন্টো খুব দীর্ঘকায় নন। তার খুব আলাদা ধরনের খাড়া চুল। সাধারণত তার গাল লাল থাকে। সে তরুণসুলভ, দুষ্টু ও মজার মানুষ। দেখা হলে বন্ধুত্বপূর্ণ ও উষ্ণ আচরণ করে।”

“সে খুবই মনোযোগী এবং অত্যন্ত বুদ্ধিমান। যে বিষয়গুলো সে প্রকাশ করেছে, সেগুলো নিয়ে সে খুব আদর্শবাদী। ইউরোপে, সম্ভবত বিশ্বেও, সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুইসেলব্লোয়ারদের একজন।”

সব মিলিয়ে পিন্টো দ্যর স্পিগেল এবং ইউরোপিয়ান ইনভেস্টিগেটিভ কোলাবোরেশন্স জোটের অন্য সংবাদমাধ্যমগুলোকে তিন টেরাবাইটের বেশি তথ্য দেন। এই পরিমাণ তথ্য প্রায় ৩ হাজার এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার সমান।

নায়ক, নাকি তথ্যচোর?

পিন্টোকে নিয়ে ইউরোপজুড়ে মানুষের দৃষ্টিভঙ্গিতে বড় পার্থক্য দেখা যায়।

সাবেক পর্তুগিজ রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিক আনা গোমেস কারাগারে পিন্টোর সঙ্গে দেখা করেছেন এবং তার একটি মামলায় তার পক্ষে সাক্ষ্য দিয়েছেন। তার মতে, পিন্টোকে শাস্তি না দিয়ে সুরক্ষা দেওয়া উচিত।

তিনি বলেন, “সে যা প্রকাশ করেছে, তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পর্তুগালে নিঃসন্দেহে সে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হুইসেলব্লোয়ার।”

“তাকে আমাদের বিচার ও অপরাধ তদন্তকারী কর্তৃপক্ষের সহযোগী করা উচিত। ইউরোপের অন্য দেশগুলোর কর্তৃপক্ষকে দুর্নীতিবাজ ও অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সে সাহায্য করেছে। অথচ আমাদের সরকারি কৌঁসুলিদের সিদ্ধান্তে সে নিজেই বিচারপ্রক্রিয়ার মুখোমুখি হয়েছে।”

ম্যানচেস্টার সিটির হ্যাকড ইমেইল নিয়ে গোমেসকে প্রশ্ন করা হলে তার উত্তর ছিল, “তারা যদি লুকানোর মতো কিছু না করে থাকে, তাহলে তাদের সমস্যা কী, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।”

তবে সাবেক সাংবাদিক হোসে কার্লোস ফ্রেইতাস বলেন, গোমেসের এই সহানুভূতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাপকভাবে প্রচলিত নয়।

“অধিকাংশ মানুষ তাকে একজন চোর হিসেবে দেখে। কিছু মানুষের কাছে সে এক ধরনের নায়ক, রবিন হুড বলা যায়, কারণ সে অনেক ক্লাবের ব্যবসার অন্ধকার দিক প্রকাশ করেছে। কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে অধিকাংশ মানুষের কাছে সে ভালো মানুষ নয়,” বলেন তিনি।

সাংবাদিক ভারেলার অবস্থান মাঝামাঝি।

“এখন আমি তাকে হুইসেলব্লোয়ার ও অপরাধী হ্যাকার, এই দুটির মাঝামাঝি রাখি। কারণ সে অবৈধভাবে তথ্য পেয়েছিল। কিন্তু সে আমাদের সবাইকে ইউরোপীয় ফুটবলের একটি অন্ধকার চিত্র দেখিয়েছে। তাই সে অবৈধভাবে হলেও সমাজের জন্য একটি কাজ করেছে,” বলেন ভারেলা।

ছয় বছর ধরে স্বাভাবিক জীবন থেকে দূরে

পিন্টোর জীবনে গত ছয় বছর স্বাভাবিক ছিল না।

২০১৯ সালে হাঙ্গেরিতে গ্রেপ্তারের পর তাকে পর্তুগালে ফেরত পাঠানো হয়। বিভিন্ন সময়ে তাকে একাকী কারাবাস, গৃহবন্দিত্ব এবং সাক্ষী সুরক্ষা ব্যবস্থার মধ্যে থাকতে হয়েছে।

পর্তুগালে প্রথম মামলায় ২০২৩ সালে চাঁদাবাজির চেষ্টা, অবৈধভাবে তথ্য সংগ্রহ এবং যোগাযোগের গোপনীয়তা ভঙ্গের দায়ে তাকে চার বছরের স্থগিত কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

এর কয়েক মাস পর ফ্রান্সের একটি পৃথক মামলায় তিনি ছয় মাসের স্থগিত কারাদণ্ড পান।

গত বছরের জানুয়ারিতে লিসবনে তার সর্বশেষ মামলার বিচার শুরু হয়। কেন্দ্রীয় ফৌজদারি আদালতে প্রথম দিনের শুনানিতেই তাকে ঘিরে নিরাপত্তা ও বিতর্কের চিত্র স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

সাক্ষী সুরক্ষা দলের সদস্যদের সঙ্গে আদালতে আসেন পিন্টো। তাদের দুজন পুরো শুনানিতে আদালতের ভেতরে ছিলেন। সঙ্গে ছিল সশস্ত্র পুলিশ।

নীল রঙের পুরো হাতার পোশাক, জিনস ও বাদামি বুট পরেছিলেন তিনি। চুল ছিল সেই পরিচিত খাড়া ধরনের। মুখে ছিল দাড়িও। পুরো সময় প্রায় নির্বিকার ছিলেন তিনি। মাঝে মাঝে কাঁধ ঝাঁকানো বা সুরক্ষা দলের দিকে তাকানো ছাড়া খুব একটা প্রতিক্রিয়া দেখাননি।

আদালতে তার কাছেই বসেছিল বিবিসির দল। আইনজীবীদের সঙ্গে নিচু স্বরে কথা বলছিলেন তিনি। বিচারকের সঙ্গে কথা বলেন শুধু নিজের নাম ও বয়সের মতো তথ্য নিশ্চিত করতে। ঠিকানা জানতে চাওয়া হলে নিরাপত্তার কারণে তা দিতে পারবেন না বলে জানান।

স্থানীয় সাংবাদিক মিগেল দান্তাস বলেন, প্রথম মামলার তুলনায় এবার নিরাপত্তা কিছুটা কম ছিল। প্রথম মামলায় পিন্টো বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট পরেছিলেন এবং আদালতের ছাদে স্নাইপারও ছিল।

বেনফিকার পক্ষে আইনজীবী রুই পাত্রিসিও আদালতে পিন্টোকে “একজন চোর ছাড়া আর কিছু নন” বলে উল্লেখ করেন। তার ভাষায়, পিন্টো “অবৈধ ও নিন্দনীয় পদ্ধতিতে” তথ্য পেয়েছিলেন এবং উদ্দেশ্য ভালো হলেও পদ্ধতিকে বৈধ বলা যায় না।

আদালতের বাইরে পাত্রিসিও বলেন, “আমাদের বক্তব্য খুব, খুব সহজ। সে একজন হ্যাকার, ব্যস। সে যা করেছে, তা অনুমোদিত নয়, এটি অপরাধ এবং এর কোনো অজুহাত নেই। বিষয়টি খুবই সহজ, খুবই সরাসরি।”

পিন্টোর আইনজীবী ফ্রান্সিসকো তেশেইরা দা মোতা আদালতে বলেন, তার মক্কেল “নায়কও নন, সাধুও নন”। তবে তিনি সমাজের জন্য “সুবিধা” বয়ে এনেছেন।

ফুটবল লিকসের প্রভাব এখনও আছে

ফুটবল লিকসের প্রভাব এক দশক পরও ফুটবল বিশ্বে দেখা যাচ্ছে।

ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে প্রিমিয়ার লিগের মামলাটি নজিরবিহীন আকার ও গুরুত্বের বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে অভিযোগ আনার পর থেকে সাক্ষী সুরক্ষার মধ্যে থেকেও পিন্টো মামলাটি ঘনিষ্ঠভাবে অনুসরণ করছেন।

তার আইনজীবী তেশেইরা দা মোতার মতে, মামলার ফল পিন্টোর কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি বলেন, “তার জন্য এটা গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তার জীবনযাপন খুব কঠিন। সে প্রায় লুকিয়ে থেকে জীবন কাটাচ্ছে। কারণ সে কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে, ম্যানচেস্টার সিটি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনেক বিষয় সে হুইসেলব্লো করেছে।”

“তাই সে যে তথ্য প্রকাশ করেছে, সেগুলো কাজে লেগেছে, কিছু একটা ঘটেছে, এমনটা অনুভব করা তার জন্য গুরুত্বপূর্ণ হবে।”

ম্যানচেস্টার সিটির সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে ক্লাবটির সাবেক অর্থ উপদেষ্টা স্টেফান বোরসন বলেন, অভিযোগগুলোর মূল অংশ প্রমাণিত হলে শেখ মনসুরের মালিকানার সময়কালের পুরো বিষয়টিই ঝুঁকিতে পড়তে পারে।

তিনি বলেন, “আমি মনে করি সিটির জন্য শেখ মনসুরের পুরো সময়কালই ঝুঁকিতে আছে, যদি ক্লাবটির বিরুদ্ধে মূল অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়।”

“পরিণতি ক্লাবটির জন্য অনেক দূর পর্যন্ত যেতে পারে এবং বিষয়টি সামলানো তাদের জন্য খুব কঠিন হবে। সময়ের সঙ্গে স্পষ্টভাবেই কোনো ধরনের পরিবর্তন আনতে হবে। অনেক দিক থেকেই প্রিমিয়ার লিগ যে কোনো পরিস্থিতিতেই ক্ষতিগ্রস্ত হবে বলে আমি মনে করি।”

তবে বোরসনের মতে, পিন্টোকে “স্বাধীনতার কোনো ধরনের যোদ্ধা” হিসেবে দেখা উচিত নয়।

তিনি বলেন, “আমরা জানি, সে যা করেছে তা অপরাধ এবং এর জন্য তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। আমরা এটাও জানি, এ ধরনের হ্যাকাররা নিজেদের বাকস্বাধীনতার রক্ষক হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে।”

“কিন্তু নথিগুলো একবার জনসমক্ষে চলে এলে কর্তৃপক্ষেরই ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

রুই পিন্টোকে কেউ দেখেন গোপন তথ্য চুরি করা অপরাধী হ্যাকার হিসেবে, আবার কেউ দেখেন ফুটবল বিশ্বের অন্ধকার দিক প্রকাশ করা হুইসেলব্লোয়ার হিসেবে।

তবে একটি বিষয় নিয়ে দ্বিমত নেই। বুদাপেস্টে কম্পিউটারের সামনে বসে থাকা পর্তুগালের এই একজন মানুষ বিশ্ব ফুটবলে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছেন।