Published : 06 Sep 2026, 01:49 PM
ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট হারিয়েছে কানাডার ভ্যানকুভারের এক নাইট ক্লাব। না, নগ্নতা সংশ্লিষ্ট কোনো কারণে নয়, তাদের সাইনবোর্ডে দেওয়া রসিকতার জন্য।
পেন্টহাউস ক্লাব কর্তৃপক্ষের দাবি, তাদের অ্যাকাউন্টে সাইনবোর্ডের একটি ছবি পোস্ট করার পর অ্যাকাউন্টটি বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
হ্যাকার নিউজে প্রকাশিত প্রতিবেদন বলছে, সিমোর স্ট্রিটের ক্লাবটির মালিক বেন জ্যাকসন ক্লাবের সাইনবোর্ডে লিখেছেন, “‘একটা পুকুর সামলাতে পারেন না, আর আমাদের লেক চান?’”।
এই রসিকতার মূল বিষয় হল, লেক অন্টারিওর নাম বদলে লেক আমেরিকা করায় ডনাল্ড ট্রাম্পের সিদ্ধান্তকে খোঁচা দেওয়া। পেন্টহাউসের সাইনবোর্ডের বার্তায় ওয়াশিংটনের লিংকন মেমোরিয়ালের পুকুরেরও ইঙ্গিত রয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ ধরে পুকুরটিতে শ্যাওলা জমে থাকায় সেটি ট্রাম্পের জন্য জাতীয় বিব্রতকর ঘটনায় পরিণত হয়। শেষ পর্যন্ত এটি ঠিক করতে কয়েক মিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে।
লেক অন্টারিওর নাম নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বিরোধটি ট্রাম্পের কানাডার সঙ্গে বাণিজ্য আলোচনার অংশ। এর জবাবে অন্টারিওর প্রধানমন্ত্রী ডাগ ফোর্ড লেকের পাশে এক বিশাল সাইনবোর্ডে বসিয়েছেন, এতে লেখা, “লেক অন্টারিও: এখন এবং সবসময়।”
ক্লাবের মালিক ড্যানি ফিলিপোন ও বেন জ্যাকসন সাইনবোর্ডটি বসানোর আগে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে ২৮ আগস্ট শুক্রবার বিকেলে জ্যাকসন সেটি সাইনবোর্ডে তুলে দেন।
ট্রাম্প ঘটনাটিকে “নৈরাজ্য” বলে দায়ী করেন। এ ঘটনায় একজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হলেও পরে মামলাটি খারিজ হয়ে যায়।
ফিলিপোন বলেন, সাইনবোর্ডটি লাগানোর পরপরই তিনি বুঝতে পারেন এটি মানুষের নজর কেড়েছে। সিমোর স্ট্রিট দিয়ে যাওয়া গাড়ি থেকে অনেকে হর্ন বাজিয়ে এবং থাম্বসআপ দেখিয়ে সমর্থন জানান।
তবে সবাই যে বার্তাটি পছন্দ করেননি, সেটিও দ্রুত স্পষ্ট হয়ে যায়।
ফিলিপোন বলেন, “মধ্যরাতের দিকে মনে হলো সব সংগীত হঠাৎ থেমে গেছে। আমি বারটেন্ডারদের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, কী হচ্ছে। তারা আমাকে ফোন দেখিয়ে বলল, ‘আমাদের ইনস্টাগ্রাম এইমাত্র মুছে দেওয়া হয়েছে।’”
সাইনবোর্ডের ছবি ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে পোস্ট করেছিলেন জ্যাকসন। ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে লেখা ছিল, “মেক লেক অন্টারিও এগেইন।” ডনাল্ড ট্রাম্পের রাজনৈতিক স্লোগান, মেক আমেরিকা গ্রেট এগেইন-এর ব্যাঙ্গ ছিল এই লাইন।
প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত পেন্টহাউসের অ্যাকাউন্টটি অফলাইনেই ছিল।
ফিলিপোন বলেন, “কেউ একজন, আমরা ধরে নিচ্ছি সীমান্তের ওপারে, এটি মজার কোনো বিষয় নয়, এমন সিদ্ধান্তে আসতে ছয় ঘণ্টা সময় নিয়েছেন।”
স্ট্রিপ ক্লাবের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট পরিচালনা যে সহজ নয়, সেটিও জানান জ্যাকসন। তিনি বলেন, “স্ট্রিপ ক্লাবের ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্ট চালানো এমনিতেই কঠিন। এখানে এমন অনেক বিষয় আছে, যেগুলোর জন্য শাস্তি পেতে হতে পারে। কিন্তু আমার মনে হয় না একটি মজার সাইনবোর্ড সেই তালিকায় পড়া উচিত।”
ফিলিপোন বলেন, ক্লাব কর্তৃপক্ষ এমন সব নিয়ম মেনে চলে, যেগুলোর কারণে একটি স্ট্রিপ ক্লাবের বিরুদ্ধে সাধারণত অভিযোগ উঠতে পারে।
তিনি বলেন, “আপনি যদি আমাদের ইনস্টাগ্রাম অনুসরণ করেন, তাহলে আমাদের অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার কারণ হিসেবে এই সাইনবোর্ডটি আপনার অনুমানের তালিকায় থাকার কথা নয়।”
তার ভাষায়, সাইনবোর্ডে কোনো ব্যক্তির নামও উল্লেখ করা হয়নি। ফিলিপোন বলেন, “এটি কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কী ধরনের উত্তেজনা রয়েছে, তা দেখিয়ে দিচ্ছে।”
সিমোর স্ট্রিটের এই মজার সাইনবোর্ডের রেওয়াজ কয়েক বছর ধরে ভ্যানকুভারে বেশ জনপ্রিয়। জ্যাকসনের তৈরি পেন্টহাউসের বেশ কয়েকটি সাইনবোর্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে।
গত বছরও অপর এক রসিকতার কারণে আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে ক্লাবটি। সেটিও কানাডার বিরুদ্ধে ট্রাম্পের বক্তব্যকে কটাক্ষ করেছিল।
ওই ঘটনায় অন্য একটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সঙ্গেও ঝামেলায় পড়ে পেন্টহাউস। সে সময় টুইটার বা এক্স ক্লাবটির অ্যাকাউন্ট বন্ধ করে দেয়। ফিলিপোনের ভাষ্য অনুযায়ী, তখন অ্যাকাউন্ট বন্ধের কারণ হিসেবে “বিদ্বেষমূলক বক্তব্য” উল্লেখ করা হয়েছিল। প্রায় এক সপ্তাহ পর অ্যাকাউন্টটির নিয়ন্ত্রণ ফিরে পায় ক্লাবটি।
তবে এবার এক্স পেন্টহাউসের বিরুদ্ধে এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
ফিলিপোনের ধারণা, “‘একটা পুকুর সামলাতে পারেন না, আর আমাদের লেক চান?” লেখা সাইনবোর্ডটির জনপ্রিয়তা আগেরটির চেয়েও বেশি হতে পারে। এ নিয়ে তিনি সমর্থনের বার্তা হিসেবে ফোনে মেসেজ ও ইমেইল পাচ্ছেন।
তিনি বলেন, “তারা প্রশংসা করছেন যে, সব জায়গার মধ্যে সিমোর স্ট্রিটের একটি স্ট্রিপ বারই কানাডার জন্য প্রতিরোধ করছে। বিশ্বাস করা কঠিন, কিন্তু বাস্তবতা এমনই।”