ফের ঢালাও পতনে বীমা, লোকসানি কোম্পানির দাপট
জীবন বীমার ১৫ কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ১৩টি। সাধারণ বীমার ৪১ কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে। দর বেড়েছে একটির, কমেছে ৩৫টির।
গত সপ্তাহে বড় দরপতনের পর সূচক যতটা পুনরুদ্ধার হয়েছিল, তার চেয়ে বেশি পড়ে গেল নতুন সপ্তাহের দুই দিনে।
রোববার ১১ পয়েন্টের পর সোমবার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে সাধারণ সূচক ডিএসইএক্স পড়ল ৩০ পয়েন্ট। ৩২টি কোম্পানির দর বৃদ্ধির বিপরীতে কমল ১৪৩টির দর। সবচেয়ে বেশি ১৮১টি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হল আগের দিনের দরে।
মূলধনী আয়ে কর বসছে, এসব গুঞ্জনে গত মঙ্গলবার ৪০ পয়েন্ট পতনের পরের দুই দিনে ৩৬ পয়েন্ট যোগ হয় ডিএসই সূচকে। তবে নতুন সপ্তাহের দুই দিনে সূচক পড়ল ৪১ পয়েন্ট।
দুই দিনই বীমা খাতের ব্যাপক দরপতন দেখা গেল। সাধারণ বীমার তুলনায় ঝড়টা বেশি গেল জীবন বীমার ওপর দিয়ে। আগের সপ্তাহে জীবন বীমা খাতের কোম্পানিগুলোর শেয়ার বাড়ছিল অস্বাভাবিক গতিতে।
লেনদেনে এখনও সবাইকে ছাড়িয়ে জীবন বীমা কোম্পানি। তবে তা ক্রমাগতই কমছে। সপ্তাহ দুয়েক আগেও মোট লেনদেনে সাধারণ বীমার হিস্যা ১৭ শতাংশ ছাড়িয়ে গেলেও তা এখন নেমেছে চার শতাংশের নিচে।
দরপতনের এই দিনে লেনদেন হয়েছে ৯৮১ কোটি ৪৪ লাখ ৯৩ হাজার টাকা। আগের দিন লেনদেন ছিল এক হাজার ৩০ কোটি টাকার বেশি।
কোনো খাতেই বিনিয়োগকারীরা এদিন স্বস্তিতে ছিলেন না। কেবল খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতেই যা কিছুটা নিস্তার ছিল। সমান সংখ্যক আটটি করে কোম্পানির দর বেড়েছে এবং কমেছে এ খাতে। পাঁচটি কোম্পানির শেয়ার হাতবদল হয়েছে আগের দিনের দরে।
সবচেয়ে বাজে দিন গেছে বীমায়। জীবন বীমার ১৫টি কোম্পানির মধ্যে দর হারিয়েছে ১৩টি, সাধারণ বীমার ৪২টি কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে একটির, কমেছে ৩৫টির, পাঁচটি আগের দিনের দরে হাতবদল হয়েছে। একটির ক্রেতা নেই ফ্লোর প্রাইসে।
বীমায় উল্টো দৌড়
পুঁজিবাজারে টানা কয়েক সপ্তাহ রাজত্ব দেখা গিয়েছিল বীমা খাতের। এর মধ্যে সাধারণ বীমা খাত টানা দুই সপ্তাহ ধরে সংশোধনে। তবে গত সপ্তাহে জীবন বীমা যে দাপট দেখিয়েছে, তা কখনও দেখা যায়নি।
মোট লেনদেনের এক তৃতীয়াংশের বেশি কেবল ১৫টি কোম্পানিতে দেখা গেছে গত সপ্তাহে। এক মাসের কম সময়ে কোনো কোম্পানির দর বেড়ে দ্বিগুণ হয়েছে, কোনোটির বেড়েছে ৫০ শতাংশ, নতুন তালিকাভুক্ত একটির দর বেড়েছে আট গুণ।
তবে নতুন সপ্তাহে পুরো উল্টো চিত্র। আগের দিন সবচেয়ে বেশি দর হারানো সাতটি কোম্পানির মধ্যে ছয়টি ছিল জীবন বীমার। ঢালাও পতন হয় সাধারণ বীমার।
পরের দিন সবচেয়ে বেশি দর হারানো পাঁচটি কোম্পানির মধ্যে তিনটি ছিল জীবন বীমার। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দর হারানো কোম্পানি মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স দর হারিয়েছে ৯ শতাংশের বেশি। আরও দুটি কোম্পানি ৮ শতাংশের বেশি, একটি ৬ শতাংশের বেশি, তিনটি কোম্পানি ৪ শতাংশের বেশি, তিনটি কোম্পানি ৩ শতাংশের বেশি, দুটি ২ শতাংশের বেশি দর হারিয়েছে। কেবল নতুন তালিকাভুক্ত ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স ও সোনালী লাইফের দর বেড়েছে।
এই খাতে লেনদেন হয়েছে ২৪৩ কোটি ৭৮ লাখ টাকা। আগের দিনে লেনদেন ছিল ২৬৬ কোটি টাকা।
সাধারণ বীমার চিত্রও করুণ। এই খাতের ৪২টি কোম্পানির মধ্যে যে ৪১টির শেয়ার হাতবদল হয়েছে, সেগুলোতে লেনদেন হয়েছে মোট ৩৬ কোটি ১৩ লাখ টাকা। কিছুদিন আগে এই খাতে পৌনে দুইশ কোটি টাকারও লেনদেন দেখা গেছে।
বীমার পর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১০৬ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে খাদ্য খাতে। ৭৭ কোটি টাকা হাতবদল হয়েছে ওষুধ ও রসায়ন খাতে। ৬০ কোটি টাকার বেশি হাতবদল হয়েছে তথ্য প্রযুক্তি ও জ্বালানি খাতে।
দাপট স্বল্প মূলধনী ও লোকসানির
বীমা খাতের পতনের দিন বেশ কিছু স্বল্প মূলধনী ও লোকসানি কোম্পানির শেয়ারের দর বেড়েছে।
সবচেয়ে বেশি দর বৃদ্ধি পাওয়া ১০টি কোম্পানির মধ্যে দুটি স্বল্প মূলধনী, পাঁচটি লোকসানি। বাকি তিনটির মধ্যে দুটি মিউচ্যুয়াল ফান্ড এবং একটি তালিকাভুক্ত হওয়ার পর প্রতিদিনই সার্কিট ব্রেকার ছুঁয়ে লেনদেন হওয়ার পর প্রথমবারের মত ৯ শতাংশের কম দর বেড়েছে।
কেবল শীর্ষ ১০ নয়, যে ৩৫টি কোম্পানির দর বেড়েছে, তার বেশিরভাগই এ ধরনের। এর মধ্যে শক্তিশালী মৌলভিত্তির কোম্পানি নেই বললেই চলে। এগুলোর লভ্যাংশের ইতিহাস ভালো না, মুনাফাও খুব বেশি নয়।
পতনের শীর্ষে যারা
মেঘনা লাইফ ইন্স্যুরেন্স, ইন্ট্রাকো রি ফুয়েলিং, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ, রূপালী লাইফ, প্রগতি লাইফ, লিগ্যাসি ফুটওয়্যার, নাভানা ফার্মা, এস কে ট্রিমস, ইয়াকিন পলিমার ও আরডি ফুড ছিল দর পতনের শীর্ষ তালিকায়।
এসব কোম্পানি ৯.৫০ শতাংশ থেকে ৬.৪৪ শতাংশ পর্যন্ত দর হারিয়েছে।
দর বৃদ্ধির শীর্ষে যারা
বেশ কয়েক সপ্তাহ পর এমন একটি দিন গেল, যেদিন কোনো কোম্পানির শেয়ারদর সার্কিট ব্রেকার ছুঁতে পারেনি।
সবচেয়ে বেশি ৮.২১ শতাংশ দর বেড়েছে পেপার প্রসেসিংয়ের। দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকার অন্য কোম্পানিগুলো হলো লোকসানি মেঘনা মিল্ক, জিকিউ বলপেন, মেঘনা পেট ইন্ডাস্ট্রিজ জিলবাংলা সুগার মিলস ও স্টাইল ক্রাফট।
স্বল্প মূলধনী এপেক্স ফুডসও ছিল দর বৃদ্ধির শীর্ষ তালিকায়।
মিউচুয়াল ফান্ডের মধ্যে সিএপিএমআইবিবিএল এবং ফার্স্ট প্রাইম ফাইন্যান্স উঠে আসে এই তালিকায়।
ট্রাস্ট ইসলামী লাইফ ইন্স্যুরেন্স শীর্ষ দশের অপর কোম্পানি
