০৯ অক্টোবর ২০২৬, ২৪ আশ্বিন ১৪৩৩

বেক্সিমকো: ক্রেতা সংকটে দুই সপ্তাহে দর কমল ৬১%

সবশেষ লেনদেন হয়েছে ৪২ টাকা ৯০ পয়সায়।

নিজস্ব প্রতিবেদক

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম

Published : 21 Jun 2026, 06:14 PM

Updated : 19 Sep 2026, 02:32 PM

ফ্লোর প্রাইস উঠে যাওয়ার দুই সপ্তাহর মধ্যে বেক্সিমকোর শেয়ার দর কমেছে প্রায় ৬১ শতাংশ।

রোববার মূল বাজারের সঙ্গে ব্লক মার্কেটে বেক্সিমকোর কিছু শেয়ার হাতবদল হয়েছে। এদিন দেশের বড় পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে দর পতনের শীর্ষ তালিকায় এটি দ্বিতীয় হয়।

গত ৯ জুন ফ্লোর প্রাইস (বেঁধে দেওয়া সর্বনিম্ন লেনদেন দর) তুলে নেওয়ার পর থেকে সার্কিট ব্রেকারের সর্বোচ্চ সীমা অর্থাৎ ১০ শতাংশ বা তার কাছাকাছি হারে দর হারাতে থাকে বেক্সিমকো। 

সেদিন থেকে রোববার পর্যন্ত পুঁজিবাজার খোলা ছিল ১১ দিন। এর বেশির ভাগ দিনই ক্রেতা শূন্য ছিল শেয়ারটির।

আগের দিনের চেয়ে রোববার ৪ টাকা ৭০ পয়সা কমে সবশেষ লেনদেন হয়েছে ৪২ টাকা ৯০ পয়সায়। আগের দিন এ দর ছিল ৪৭ টাকা ৬০ পয়সা।

টানা কয়েকদিন ক্রেতা শূন্য থাকার পর মূলবাজারে রোববার ৩২ লাখ ৬০ হাজার টাকার শেয়ার হাতবদল হয়। 

অন্যদিকে ব্লক মার্কেটে শেয়ারটির লেনদেন হয় ৩ কোটি ৫৯ লাখ ৯৩ হাজার টাকার। এ বাজারে কোম্পানির ৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮৭৫টি শেয়ার হাতবদল হয় ৪২ টাকা ৯০ পয়সা থেকে সর্বোচ্চ ৪৩ টাকায়।

১১ দিনে সর্বনিম্ন লেনদেন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া বিএনপি সরকার গঠনের সাড়ে তিন মাস বাদে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্ব পান ঝানু করপোরেট পেশাদার মাসুদ খান।

তারপর থেকে ডিএসইতে লেনদেন হাজার কোটি টাকার ঘরের নিচে নামেনি। দায়িত্ব গ্রহণের পরের দিন এক হাজার ৫২৯ কোটি টাকার শেয়ার হাতবদল হয়, যা গত ১১ দিনের মধ্যে সর্বোচ্চ।

এর মধ্যে সাত দিনই ডিএসইতে লেনদেন এক হাজার ২০০ কোটি টাকা থেকে এক হাজার ৫২৯ কোটি টাকার মধ্যে হয়। বাকি চারদিন লেনদেন ১২০০ কোটি টাকার কম হলেও হাজারের ঘরের নিচে নামেনি।

এই ১১ দিনের মধ্যে রোববার সর্বনিম্ন ১ হাজার ২ কোটি ৪৩ লাখ টাকার শেয়ার হাতবদল হয় ডিএসইতে। আগের দিন হয় ১ হাজার ১৯৭ কোটি ২১ লাখ টাকার।

এ দিন ডিএসইতে লেনদেন শুরুর প্রথম দুই ঘণ্টায় সূচকের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা গেলেও বিপরীত চিত্র শুরু হয় ১২টার পর থেকে। লেনদেনের শেষ পর্যন্ত সেই ধারায় অব্যাহত ছিল।

আগের দিনের চেয়ে ২১ দশমিক ৪৮ পয়েন্ট হারিয়ে এদিন সূচক দাঁড়ায় ৫ হাজার ৬৩৯ দশমিক ৮৯ পয়েন্ট। আগের দিন সূচক ছিল ৫ হাজার ৬৬১ দশমিক ৩৮ পয়েন্ট।

এদিন ডিএসইতে মোট ৩৯৬টি প্রতিষ্ঠানের শেয়ার ও ইউনিট হাতবদল হয়। এর মধ্যে দর বৃদিধ পায় ৭১টির, কমে ২৯৮টির ও আগের দরে লেনদেন করে ২৭টির। ওষুধ ও রসায়ন, প্রকৌশল ও বস্ত্র খাতের শেয়ারের হাতবদল হয় সর্বোচ্চ।

দিন শেষে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় ডিএসইতে সর্বোচ্চ শেয়ার দর বৃদ্ধি পায় প্রাইম ফাইন্যান্স ফার্স্ট মিউচুয়াল ফান্ড, সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ ও কেডিএস এক্সেসরিজের।

অন্যদিকে ক্লোজিং প্রাইস বিবেচনায় শেয়ার দর হারানোর শীর্ষে উঠে আসে মেঘনা পিইটি। তৃতীয় অবস্থানে যায় রিজেন্ট টেক্সটাইল মিলস লিমিটেড।