২০ অক্টোবর ২০২৬, ০৪ কার্তিক ১৪৩৩

৯ এনবিএফআইয়ের ১২ সহযোগী কোম্পানি কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পেল

এগুলোর মধ্যে আট প্রতিষ্ঠানকে মূলধন ঘাটতি কাটাতে সময় দেওয়া হয়েছে।

৯ এনবিএফআইয়ের ১২ সহযোগী কোম্পানি কার্যক্রম চালানোর সুযোগ পেল

বিএসইসি ভবন। ফাইল ছবি

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 19 Oct 2026, 11:31 PM

Updated : 19 Oct 2026, 11:31 PM

নয়টি ব্যাংক বর্হিভূত আর্থিক কোম্পানির (এনবিএফআই) পুঁজিবাজারে কার্যক্রম থাকা ১২টি সহযোগী প্রতিষ্ঠানকে কাজ চালিয়ে যেতে সময় দিয়েছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

এর মধ্যে চারটি সহযোগী (সাবসিডিয়ারি) প্রতিষ্ঠানকে ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে।

অপরদিকে মূলধন ঘাটতিতে থাকা আটটির মধ্যে একটিকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এবং সাতটিকে আগামী বছরের এপ্রিল পর্যন্ত সময় দেওয়া হয়েছে।

বিএসইসি বলেছে, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অধীনে মোট ১২টি ক্যাপিটাল মার্কেট সাবসিডিয়ারি কোম্পানির বিষয়ে কমিশন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

সোমবার বিএসইসির জরুরি কমিশন সভায় এমন সিদ্ধান্ত হওয়ার তথ্য পরে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে জানানো হয়েছে। কমিশনের এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

সাড়ে ছয় মাস সময় পাওয়া সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং সিকিউরিটিজ, ফারইস্ট স্টকস অ্যান্ড বন্ডস ও এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্টর মূল প্রতিষ্ঠানগুলো অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

গত অগাস্টে এগুলোর মূল প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড, ফারইস্ট ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডকে ‘অকার্যকর’ ঘোষণা করে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর সঙ্গে আরেক এনবিএফআই আভিভা ফাইন্যান্স লিমিটেডকেও অকার্যকর ঘোষণা করে পুঁজিবাজারে শেয়ার লেনদেন স্থগিত করে প্রশাসক দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

তবে বিএসইসি আভিভা ফাইন্যান্সের সাবসিডিয়ারি আভিভা ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট লিমিটেডের পর্যাপ্ত নিট সম্পদ থাকায় ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার অনুমোদন দিয়েছে।

অবসায়নের সংখ্যা নিয়ে দুই সংস্থার দুই তথ্য

আর্থিক স্বাস্থ্য জেরবার হওয়ায় গত কয়েক বছর ধরে কয়েকটি এনবিএফআইকে অবসায়নের বিষয়ে আলোচনা করে আসছে বাংলাদেশ ব্যাংক। প্রথম পর্যায়ে ৯টিকে অবসায়ন করার সিদ্ধান্ত নিলেও গত ডিসেম্বরে সেই সিদ্ধান্ত থেকে সরে আসে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

কয়েকটিকে বারবার সময় দেওয়ার পর গত অগাস্টে চারটিকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। প্রশাসক বসিয়ে সেই প্রক্রিয়া শুরুও করা হয়।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক বলছে, এগুলো অবসায়ন হবে কি না কিংবা বিকল্প উপায়ে এগুলো চালু রাখার বিষয়ে প্রশাসক ও তার দল কেন্দ্রীয় ব্যাংকে প্রস্তাব দেবে। প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রকৃত আর্থিক অবস্থা যাচাই-বাছাই শেষে পরে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তবে সোমবার বিএসইসির দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স বাতিলের প্রক্রিয়াধীন রয়েছে ৯টি আর্থিক প্রতিষ্ঠান।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র নির্বাহী পরিচালক আরিফ হোসেন খান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখন পর্যন্ত চারটি আর্থিক প্রতিষ্ঠানে প্রশাসক দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এর বাইরে কোনো প্রতিষ্ঠানের তথ্য আপাতত নেই।

ব্যবসায় বাধা নেই যেগুলোর

আর্থিক সংকটে থাকা নয়টি এনবিএফআইয়ের ১২টি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে মূলধন ঘাটতি না থাকায় সোমবার সেগুলোর ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত দিয়েছে বিএসইসি।

এর মধ্যে রয়েছে প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ ব্রোকিং, পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের (পিএলএফএস) সাবসিডিয়ারি পিএলএফএস ইনভেস্টমেন্টস লিমিটেড ও প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠান প্রাইম ফাইন্যান্স ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট লিমিটেড।

সময় পেল যেগুলো

অপরদিকে মূলধন ঘাটতি থাকা সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানকে কাজ চালিয়ে যেতে আরও সময় দিয়েছে বিএসইসি।

এগুলো হল- প্রিমিয়ার লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি প্রিমিয়ার লিজিং সিকিউরিটিজ, প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি পিএফআই সিকিউরিটিজ ও প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানি, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডের সাবসিডিয়ারি আইএল ক্যাপিটাল, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি(বাংলাদেশ) লিডিটেডের সাবসিডিয়ারি জিএসপি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড ও এফএএস ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্টের সাবসিডিয়ারি এফএএস ক্যাপিটাল ম্যানেজমেন্ট।

চলতি বছরের জানুয়ারিতে আর্থিক অনিয়মে জেরবার হওয়া এফএএস ফিন্যান্স, প্রিমিয়ার লিজিং, ফারইস্ট ফিন্যান্স, আভিভা ফিন্যান্স, পিপলস লিজিং ও ইন্টারন্যাশনাল লিজিংকে অবসায়নের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল বাংলাদেশ ব্যাংক।

এগুলোকে অবসায়ন করার পাশাপাশি গত জানুয়ারিতে জিএসপি ফাইন্যান্স, প্রাইম ফাইন্যান্স ও বিআইএফসিকে কার্যকর করতে তিন মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। গত এপ্রিলে সেই সময় শেষ হয়।

এরপর গত ১ জুলাই বাংলাদেশ ব্যাংক অবসায়নের তালিকায় থাকা প্রিমিয়ার লিজিং প্রাইম ফাইন্যান্স অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড, জিএসপি ফাইন্যান্স কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেড ও বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ফাইন্যান্স কোম্পানি লিমিটেডকে (বিআইএফসি) ‘অকার্যকর’ ঘোষণা থেকে বাঁচতে নতুন করে সময় দেয়। পরের মাস অগাস্টে এ চারটিতে প্রশাসক বসায় বাংলাদেশ ব্যাংক।