২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৩ আশ্বিন ১৪৩৩

অর্থ আত্মসাৎ রোধে ‘ব্যাক অফিস’ শক্তিশালী করা হবে:মাসুদ খান

মশিহর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগাকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ডিএসই।

বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম নিউজ সার্ভিস

Published : 28 Sep 2026, 10:10 PM

Updated : 28 Sep 2026, 10:10 PM

পুঁজিবাজারের ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানে থাকা বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ রোধে ‘ব্যাক অফিস’ ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা প্রয়োজন বলে মন্তব্য করেছেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান।

সোমবার ঢাকার নিকুঞ্জে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান কার্যালয়ে ক্ষতিগ্রস্ত বিনিয়োগকারীদের অর্থ প্রদান অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বিএসইসি চেয়ারম্যান বলেন, “অর্থ আত্মসাতের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ভবিষ্যতে যেন আর না ঘটে, সে জন্য কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।

“প্রতিষ্ঠানগুলোর ‘ব্যাক অফিস ব্যবস্থাপনা’ আরও শক্তিশালী, সুরক্ষিত এবং রিয়েল-টাইম মনিটরিংয়ের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।”

বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ করার ঘটনা শনাক্ত হয় পাঁচ ব্রোকারেজ কোম্পানি— মশিহর সিকিউরিটিজ, তামহা সিকিউরিটিজ, বানকো সিকিউরিটিজ, ক্রেস্ট সিকিউরিটিজ এবং শাহ মোহাম্মদ সগীর অ্যান্ড কো. লিমিটেডে। সবশেষ হয় সালতা সিকিউরিটিজে।

এর মধ্যে সালতা সিকিউরিটিজের তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। বাকি পাঁচটির মধ্যে মশিহর সিকিউরিটিজের বিনিয়োগাকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে ডিএসই।

অর্থ আত্মসাতের ঘটনায় এসব প্রতিষ্ঠানের লেনদেন স্থগিত করে বিনিয়োগকারীদের ইনভেস্টরস প্রটেকশন ফান্ড (আইপিএফ) থেকে অর্থ ফেরত দেওয়া হচ্ছে।

এসব প্রতিষ্ঠানে অর্থ রেখে ক্ষতিগ্রস্ত হন ১৭ হাজার ৯২৫ জন বিনিয়োগকারী। তার মধ্যে থেকে সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ করা বিনিয়োগকারী ১৭ হাজার ৩৩২ জনকে অর্থ ফেরত দেওয়ার কার্যক্রম শুরু হয় সোমবার থেকে।

এদিন প্রথমে মশিহর সিকিউরিটিজ লিমিটেডের ক্ষতিগ্রস্ত ১৫ জন বিনিয়োগকারকে চেক হস্তান্তর করা হয়। অন্যান্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগকারীদের অর্থও পরিশোধ করা হবে বলে আশ্বাস দেন ডিএসইর চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম।

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) চেয়ারম্যান মাসুদ খান বলেন, ‘‘বিনিয়োগকারীদের অর্থ আত্মসাৎ ও অনিয়মের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সব ব্রোকারেজ হাউজের জন্য একটি ইউনিফাইড শক্তিশালী ব্যাক অফিস সফটওয়্যার প্রয়োজন। এটি থাকলে এগুলোর (অর্থ আত্মসাত-অনিয়ম) পুনরাবৃত্তি হবে না।’’

মাসুদ খান বলেন, ‘‘এই ডিজিটাল যুগে আমাদের অবশ্যই এটা করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই।’’

ইনভেস্টর প্রটেকশন ফান্ডের চেয়ারম্যান নাসরিন বেগম বলেন, ‘‘বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা, পুঁজিবাজারের প্রতি আস্থা ও বিশ্বাস বজায় রাখা আমাদের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। আজকের অর্থ বিতরণ কার্যক্রম সেই দায়িত্ব পালনের একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।’’

অনুষ্ঠানে বলা হয়, মশিহর সিকিউরিটিজের ৯ হাজার ৩৮৬ জন বিনিয়োগকারীর দাবিতে মোট ৪২ কোটি ৭৩ লাখ টাকা পরিশোধ করা হবে।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বিএসইসির কমিশনার নাফিজ আল তারিক, হোসাইন সাদাত, ডিএসইর ব্যবস্থাপনা পরিচালক নুজহাত আনোয়ার ও ডিএসইর সাবেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন উপস্থিত ছিলেন।