সেই মোরসালিন, এই মোরসালিন
গত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে আক্রমণভাগে আলো ছড়ানো এই তরুণ ফরোয়ার্ড এবারের উদ্বোধনী ম্যাচে ছিলেন বেঞ্চে।
শেখ মোরসালিনের পাদপ্রদীপের আলোয় উঠে আসা গত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে। বেঙ্গালুরুতে মালদ্বীপের ম্যাচে লক্ষ্যভেদ করে আন্তর্জাতিক গোলের খাতা খোলেন তিনি। এরপর ভুটান ম্যাচেও পান জালের দেখা। তিন বছরের ব্যবধানে, ঢাকায় শুরু হওয়া সাফে অনাকাঙ্ক্ষিত অভিজ্ঞতা হলো তার; ভুটানের বিপক্ষে শুরুর ম্যাচে স্কোয়াডেই জায়গা হয়নি তার!
মোরসালিনের বিমর্ষ হওয়ার আরও অনেক কারণ আছে। মাঝের এই সময়ে জাতীয় দলের খোলনলচে পাল্টে গেছে অনেকটা। হামজা চৌধুরী, ফাহামিদুল ইসলাম, শমিত শোম, শুকি ইতোফুসাসহ আরও অনেক প্রবাসী যোগ দিয়েছেন। জায়গা পাওয়ার লড়াই এখন তীব্র থেকে হয়েছে তীব্রতর।
ভুটান ম্যাচে আক্রমণভাগে বাংলাদেশ কোচ টমাস ডুলি দেন বড় এক চমক। রাইট ব্যাক বিশ্বনাথ ঘোষকে তিনি খেলিয়ে দেন নাম্বার-৯ পজিশনে। গোল না পেলেও প্রতিপক্ষের রক্ষণে ভীতি ছড়ান বিশ্বনাথ। গোলের দাবি মেটান দ্বিতীয়ার্ধে বদলি নামা মোহাম্মদ ইব্রাহিম।
আগামী সোমবার হামজার সাথে ক্যাম্পে যোগ দেবেন ফরোয়ার্ড ফারহান আলী ওয়াহিদ। ফলে, আক্রমণভাগে মোরসালিনের জায়গা পাওয়া আরও কঠিন। গত বছর নভেম্বর এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভারতের বিপক্ষে ১-০ গোলের জয়ের নায়ক এই মোরসালিনও বুঝতে পারছেন সামনের পথটা আরও কঠিন হবে।
বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনায় শনিবার শ্রীলঙ্কা ম্যাচের প্রস্তুতিতে মোরসালিনকে অবশ্য আত্মবিশ্বাসীই দেখা গেল। দলের প্রতিনিধি হয়ে গণমাধ্যমের সাথে কথা বলতে এসে ২১ বছর বয়সী এই তরুণের কণ্ঠ পরিণত শোনাল। প্রবাসীদের তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, সহযোগী মানেন।
“আমরা অবশ্যই এটা নিয়ে খুবই আশাবাদী (হামজা ও ফারহানকে নিয়ে)। হামজা ভাই, তারপর ফারহান- ওরা এলে আমাদের মানে দলের যে স্পিরিট ছিল, আশা করছি, তা আরও বাড়বে ইনশাল্লাহ।
“আমার কাছে যেটা মনে হয় যে, আমাদের দলে যারা আছে, সবাই দেশের হয়ে খেলবে। তাই আমরা আমাদের খেলোয়াড়দের সাথে ওদের আসলে তুলনা করতে চাই না। আমরা মনে করি, ওরা অবশ্যই ভালো আর আমরা তো বিশ্বাস করি, আমাদের দলও খুব ভালো। তো আমরা খুবই আত্মবিশ্বাসী যে, আমরা জিতব (সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ) ইনশাল্লাহ।”
মাঝের সময়ে ব্যক্তিগত নানা বিতর্কে জেরবার হন মোরসালিন। তবে, সবকিছু পেছনে ফেলে এখন সুযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় তিনি। ২০০৩ সালে প্রথম ও সবশেষ সাফের শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। এই হাহাকার তিনি দূর করতে উন্মুখ।
“আমাদের সবশেষ যে সাফ ছিল, ওইটা থেকে আমার ক্যারিয়ার শুরু হয়েছে। তো তারপর থেকে আমরা ট্রফি নিতে পারি নাই। তাই আমি মনেপ্রাণে চেয়েছি যে পরের (এবারেরটা) সাফ... যেভাবে হোক, আমি ট্রফি নিতে চাই। বিশেষ করে এটা আমার ইচ্ছা ছিল। এখনও আছে। আমি আমার জায়গা থেকে সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব... যদি সুযোগ পাই। আর অবশ্যই তো আমাদের এবার ট্রফি নিতেই হবে... আমাদের ঘরের মাঠে খেলা, সো ওইটা আমাদের সবারই লক্ষ্য এখন।”
রাইট-ব্যাক বিশ্বনাথের আক্রমণভাগে খেলাটাও তাই মোরসালিনের ইগোতে আঘাত করছে না মোটেও। তিনি বরং সুযোগের অপেক্ষায়, যেমনটা দলে আসা-যাওয়ার মধ্যে থাকা ইব্রাহিম কাজে লাগিয়েছেন ভুটান ম্যাচে।
“না...ওইরকম কিছু না (বিশ্বনাথ নাম্বার-৯ পজিশনে খেলায় ইগোতে লাগেনি)। কারণ আমাদের তো আসলেই নাম্বার নাইনের সমস্যা অনেক দিনের। এটা সবাই জানে। কিন্তু আমরা যখন যেখানেই সুযোগ পাই... দেখা গেল আমি মিডফিল্ডে, অ্যাটাকিং মিডফিল্ডে অনেক সময় খেলেছি। সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করি।
“একজন খেলোয়াড় হিসেবে আমাকে কোচ যেখানেই সুযোগ দিবে, আমি আমার সেরাটা দেয়ার চেষ্টা করব। বিশ্বনাথ দাদাও সেই চেষ্টা করেছে। যেহেতু সে ডিফেন্ডার, কিন্তু ভালো খেলেছে বা চেষ্টা করেছে। আমিও চেষ্টা করব বা যারা আছে সবারই এরকম মেন্টালিটি থাকা উচিত যে, যেখানেই সুযোগ পাক সে ভালো করবে।”
