হলান্ডের সবটা নিংড়ে নেওয়ার ফল ভালো হবে না, সতর্ক করলেন কোচ
যদিও ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে আবার মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত হতে এবারও খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না হলান্ড।
ক্লাব-জাতীয় দল-ক্লাব, একের পর এক ম্যাচ, নানা টুর্নামেন্ট- সব মিলিয়ে বিশ্রামের যেন কোনো সুযোগই নেই ফুটবলারদের। ঠাসা সূচির ক্লান্তি আর অবসাদ যেন পর্তুগালের বিপক্ষে ম্যাচে আর্লিং হলান্ডের চোখে-মুখে আর শরীরী ভাষায় ফুটে ওঠে।
গত মৌসুমের ব্যস্ততা শেষ করেই জাতীয় দলে যোগ দেন হলান্ড। বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলার পথে দলের একটি বাদে সবগুলো ম্যাচে খেলেন তিনি। এরপর, অল্প কিছুদিনের ছুটি কাটিয়ে যোগ দেন ম্যানচেস্টার সিটিতে এবং সেখানে এক মাসের একটু বেশি সময়ের মধ্যে খেলেন সাতটি ম্যাচ। ক্লাবের ব্যস্ততার মাঝেই আবার জাতীয় দলে যোগ দিয়ে ১০ দিনের মধ্যে চারটি ম্যাচ খেলতে হলো!
সবখানে এমন মহাব্যস্ততার মাঝে রোববার উয়েফা নেশন্স লিগে পর্তুগালের বিপক্ষে লড়াইয়ে যেন হলান্ডের শরীর হাল ছেড়ে দেয়। মানসিক অবসাদও ভর করে প্রবলভাবে। ফলাফল, দ্বিতীয়ার্ধের মাঝামাঝি সময়ে নিজেই ডাগআউটের দিকে ইশারা করেন তাকে তুলে নেওয়ার জন্য। ৬৭তম মিনিটে তাকে তুলে আরেক ফরোয়ার্ড ইয়োর্গেন স্ত্রান্দ লারসেনকে নামান কোচ।
এবারের নেশন্স লিগে প্রথম দুই ম্যাচে তিনটি গোল করেন হলান্ড। গত দুই ম্যাচে সেই ধারা আর ধরে রাখতে পারেননি তিনি, এবং তার পারফরম্যান্সও হয়নি আশানুরূপ। সবশেষ ম্যাচে তো তেমন কিছুই করতে পারেননি তিনি। কোচ স্তলে সুরবাকেনের কথায় সেই কারণ এবার পরিষ্কার হলো।
“ওয়েলসের বিপক্ষেও সে ক্লান্ত ছিল। তাই আমরা (পর্তুগাল ম্যাচের আগে) খোলামেলা আলোচনা করি। সম্ভাব্য বিষয়গুলো নিয়ে কথা বলি।
“সে হয়তো পর্তুগালের বিপক্ষে শেষ ৪৫ মিনিট খেলতে পারতো। এরকম একটা আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু তার খুব খারাপ লাগছিল … আমি খুশি যে সে ৬০ মিনিট খেলতে পেরেছে।”
ম্যাচ শেষ হওয়া মাত্রই দলটির তারকা ফুটবলার স্টেডিয়াম ছেড়ে যান এবং যত দ্রুত সম্ভব ব্যক্তিগত প্লেনে করে নিজ গন্তব্যে রওনা দেন। উদ্দেশ্য স্বল্প সময়ের ছুটি কাটিয়ে আবার ক্লাবের দায়িত্বে ফিরে যাওয়া।
এভাবে চলতে থাকলে সামনে খুব খারাপ কিছু অপেক্ষা করছে, হলান্ডের উদাহরণ টেনে সতর্ক করলেন সুরবাকেন।
“তার সবটুকু শক্তি যেন শুষে নেওয়া হচ্ছে। কয়েকজন খেলোয়াড় কেবল ছয়-সাত দিন ছুটি পেয়েছিল। সাধারণ কোনো পেশায় আপনি এভাবে শারীরিক শক্তির জোরে জীবিকা নির্বাহ করেন না। (বিশ্বকাপ ও ওই অল্প কদিনের ছুটির পর) নতুন মৌসুম শুরু হয়ে গেল এবং এরপর আবার একটা ছোট টুর্নামেন্ট। তাই সবকিছু প্রবল চাপ তৈরি করছে।”
“সে (হলান্ড) এমন খেলোয়াড়দের একজন যাদের ওপর সবচেয়ে বেশি চাপ পড়ে, কারণ তার দল (ম্যানচেস্টার সিটি) সব টুর্নামেন্টেই খেলে এবং সে তার দলের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়।”
এবারের আন্তর্জাতিক বিরতি জয় দিয়ে শুরুর পর টানা তিন ম্যাচ হেরেছে শেষ করেছে নরওয়ে।
ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে আবার মাঠে নামার জন্য প্রস্তুত হতে খুব বেশি সময় পাচ্ছেন না হলান্ড। আগামী রোববার প্রিমিয়ার লিগে লিভারপুলের মুখোমুখি হবে সিটি।
