Published : 17 Jun 2026, 05:22 PM
১৯৬৬ থেকে ২০২৬। মাঝে পেরিয়ে গেছে ৬০টি বছর। ঘরের মাঠে জেতা বিশ্বকাপ আজও ইংল্যান্ডের জন্য প্রথম এবং সর্বশেষ সাফল্যের গল্পই রয়ে গেছে। ছয় দশক ধরে, ঘাড়ে চেপে থাকা ব্যর্থতার ভূত নামানোর লক্ষ্য নিয়ে উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপ শুরুর অপেক্ষায় ইংল্যান্ড। তাদের প্রথম ম্যাচের প্রতিপক্ষ, ২০১৮ সালের রানার্সআপ ক্রোয়েশিয়া।
ডালাসে বাংলাদেশ সময় বুধবার রাত ২টায় ‘এল’ গ্রুপের ম্যাচে ক্রোয়াটদের মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ড। চার বছর আগে, কাতার বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে থেমে যাওয়া ‘থ্রি লায়ন্স’ নামে পরিচিত দলটি এবার কতদূর ছুটবে, সে প্রশ্নের উত্তরের খোঁজও শুরু হবে, এ ম্যাচ দিয়ে।
টমাস টুখেল বিশ্বকাপ দল সাজাতে গিয়ে বিস্ময় উপহার দিয়েছেন যথেষ্টই। ২৬ জনের দলে ম্যানচেস্টার সিটির ফিল ফোডেন, চেলসির কোল পামার, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের হ্যারি ম্যাগুইয়ার, রেয়াল মাদ্রিদের ট্রেন্ট অ্যালেকজ্যান্ডার-আর্নল্ডের মতো চেনা মুখের দেননি ঠাঁই!
বাছাই পর্বে অবশ্য টুখেলের অধীনে দুর্বার ছিল ইংল্যান্ড। ৮ ম্যাচের সবগুলো জিতে, গ্রুপ সেরা হয়ে তারা উঠে আসে বিশ্বকাপের মঞ্চে। চেলসি, পিএসজি ও বরুসিয়া ডর্টমুন্ডের সাবেক কোচ টুখেলের পরিকল্পনা, ছক নিয়ে সন্দেহের সুযোগ কমই।
জর্ডান হেন্ডারসনের জায়গা হয়েছে দলে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের দিন ৩৬ বছর পূরণ করতে যাওয়া এই অভিজ্ঞ ডিফেন্ডারের বিশ্বাস, টুখেলের খেলোয়াড় নির্বাচন প্রক্রিয়া দলের রসায়ন জমিয়ে তুলবে আরও। তবে, তিনিও মনে করেন, বাছাইয়ের মতো মসৃণ হবে না মূল পর্বের পথচলা।
“টুর্নামেন্টে কঠিন মুহূর্ত আসবেই; বিশেষ করে, বিশ্বকাপের মতো আসরে। এখানে সবকিছু কখনই আপনার পক্ষে থাকবে না। কঠিন মুহূর্ত আসবে এবং তখন দৃঢ় থাকতে হবে। একটা দল হিসেবে যত ঐক্যবদ্ধ থাকবেন, কাজগুলো তত সহজ হবে আপনার জন্য।”
“আমার মনে হয়, আমরা একটা ভালো অবস্থানে আছি। এখন অপেক্ষা শুধু, প্রথম ম্যাচটা শুরু করার এবং বিশ্বকে দেখানো যে, কত ভালো করতে পারি আমরা।”
ক্রোয়াটদের বিপক্ষে ভালো-মন্দ দুই গল্পই আছে ইংল্যান্ডের। ২০০৪ সালের পর থেকে এ নিয়ে বড় আসরে চতুর্থবারের মতো দেখা হচ্ছে দুই দলের। ইউরোর দুইবারের দেখায় জয়ী ইংল্যান্ড। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ের গড়ানো সেমি-ফাইনালে ২-১ গোলে জিতেছিল ক্রোয়েশিয়া।
যুগোস্লাভিয়া পর্ব এবং ১৯৯৬ ইউরোতে অভিষেকের পর, নিজেদের ফুটবল ইতিহাসে ২০১৮ সালের ফাইনাল খেলা আজও ক্রোয়েশিয়ার জন্য সর্বোচ্চ প্রাপ্তির গল্প। সেবার ফ্রান্সের বিপক্ষে হেরে স্বপ্ন গুঁড়িয়েছিল তাদের।
লুকা মদ্রিচের নেতৃত্বে ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপের সেমি-ফাইনালে উঠেছিল ক্রোয়েশিয়া। কিন্তু আর্জেন্টিনার কাছে হেরে থেমেছিল পথচলা। ৩৬ বছরের খরা কাটিয়ে লুসাইলের ফাইনালে শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিলেন মেসি-মার্তিনেসরা।
মদ্রিচ এবারও ক্রোয়েশিয়া দলের মাঝমাঠের প্রাণভোমরা। পঞ্চম বিশ্বকাপ খেলার অপেক্ষায় থাকা এই অভিজ্ঞ মিডফিল্ডারের অবশ্য এসি মিলানে গত মৌসুমটা ভালো কাটেনি মোটেও। গত এপ্রিলে গালের হাড় (চিক বোন) ভেঙে যাওয়ায় তার মৌসুম শেষ হয়ে যায় আগেভাগে। দেশের হয়ে ২০০তম ম্যাচ খেলার অপেক্ষায় থাকা মদ্রিচ অবশ্য হুঙ্কার দিয়ে রেখেছেন প্রতিপক্ষদের।
“সাম্প্রতিক সময়ের বিশ্বকাপে, সবসময়ই ক্রোয়েশিয়ার সবচেয়ে শক্তির জায়গা হচ্ছে, দলের ঐক্য এবং অবশ্যই, এবারও তাই-ই থাকতে হবে। আমরা এখানে অংশ হতে আসিনি, বাড়তি বা অতিরিক্ত কেউ নই। একটা দল হিসেবে আমরা যখন একতাবদ্ধ, তখন যে কারো সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারি।”
ইংল্যান্ড কোচ টুখেলও মানছেন, মদ্রিচ, মাতেও কোভাচিচের মতো নির্ভরযোগ্যদের নিয়ে ক্রোয়েশিয়ার মাঝমাঠ এখনও শক্তিশালী। মাঠের লড়াইয়েও তাদের মুখোমুখি হতে হবে শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতার।
“আমি মনে করি, এটা বেশ স্পষ্ট, ক্রোয়েশিয়ার খেলার কেন্দ্রে থাকবে মাতেও কোভাচিচ ও লুকা মদ্রিচকে নিয়ে সাজানো মাঝমাঠ। তাদের খুবই শক্তিশালী রক্ষণভাগ আছে এবং মাঝমাঠে তাদের দলের স্পন্দন মাতেও-মদ্রিচ আছে এখনও।”
“তাদের (ইভান) পেরিসিচ দুই পায়ে বাম দিক থেকে ইন-আউট সুইং শটের মাধ্যমে হুমকি তৈরি করে। তাদের অভিজ্ঞতা আছে, খুবই মেধাবী কোচ আছেন, তারা আবেগপ্রবণ, ঐতিহ্যগতভাবে শক্তিশালী দল এবং আমাদের তাদেরই মুখোমুখি হতে যাচ্ছি।”