Published : 17 Jun 2026, 04:21 PM
একে তো ৩৯ ছুঁইছুঁই বয়স, তার উপর ফিরেছিলেন হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে। আলজেরিয়া ম্যাচের আগে লিওনেল মেসিকে নিয়ে তাই তীর্যক প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়েছিল লিওনেল স্কালোনিকে। মেসি দলের জন্য বোঝা কিনা? এই প্রশ্নে উত্তরে আর্জেন্টিনা কোচ দৃঢ় কণ্ঠে বলেছিলেন, মেসি এখন আগের চেয়ে আরও বেশি অপরিহার্য। দারুণ এক হ্যাটট্রিকে বিশ্বকাপে দলের জয়ে শুরু এনে দিয়ে, এই মহাতারকাও দেখিয়ে দিলেন, বয়সের ভারে, চোটের থাবায়, দ্যুতি তার কমেনি একটুও।
আলজেরিয়াকে ৩-০ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের মুকুট ধরে রাখার অভিযান শুরু করেছে আর্জেন্টিনা। বাংলাদেশ সময় বুধবার সকালে, দলের জয়ে সবগুলো গোলই করেছেন মেসি। এ ম্যাচে ব্যক্তিগতভাবেও তিনি পেয়েছেন মুঠোভরে।
ঠিক ২০ বছর আগে, এই ১৬ জুনেই বিশ্বকাপে প্রথম গোল পেয়েছিলেন মেসি। বৈশ্বিক ফুটবলের সর্বোচ্চ আসরে এদিন পেলেন প্রথম হ্যাটট্রিকের অনির্বচনীয় স্বাদ। তিন গোলের দুরত্ব এক ম্যাচেই ঘুচিয়ে বসলেন বিশ্বকাপে সর্বোচ্চ গোলদাতা মিরোস্লাভ ক্লোসার (১৬টি) পাশে। ২০০তম আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার মাইলফলকেও পা রাখা হলো তার। বনে গেলেন ছয় বিশ্বকাপ খেলা প্রথম ফুটবলারও।
কেবল আক্রমণভাগে নেতৃত্ব দেওয়া নয়, দলের প্রয়োজনে রক্ষণে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়া থেকে শুরু করে মাঠ জুড়েই মেসি ছুটেছেন, ৮০তম মিনিটে মাঠ ছেড়ে যাওয়ার আগ পর্যন্ত। দেখিয়ে দিয়েছেন, উত্তর আমেরিকা বিশ্বকাপের আর্জেন্টিনার ভার তিনি চওড়া কাঁধে বয়ে নিতে প্রস্তুত এখনও।
মেসির সপ্তদশ মিনিটের গোলের সুর বেঁধে দেওয়া মিডফিল্ডার রদ্রিগো দে পলের কথায় উঠে এলো, খেলাটির প্রতি আটবারের রেকর্ড ব্যালন দ’র জয়ীর নিবেদন এখনও অটুট আগের মতোই।
“লিও যেভাবে দলকে পরিচালনা করে এবং সামনে এগিয়ে নিয়ে যায়, এ কারণে তাকে দলে পাওয়াটা একটি বাড়তি সুবিধা। ব্যক্তিগত রেকর্ডের প্রতি তার কোনো মনোযোগ নেই। তিনি অগ্রাধিকার দেন দলকে এবং আমাদের কাছে সেটা অবিশ্বাস্য।”
চোট কাটিয়ে ফেরায়, মেসির ধার নিয়ে অবিশ্বাসের দোলায় দুলেছিলেন অনেকে। ম্যাচ পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ স্কালোনিকেও মুখোমুখি হতে হয়েছিল, প্রশ্নের। আর্জেন্টিনা কোচ, স্পষ্ট উচ্চারণে বলেছিলেন, মেসি আগের চেয়ে আরও বেশি অপরিহার্য।
ইউরোপে সোনালী সময় কাটিয়ে আসার পর, এখনও, এই বয়সেও যে ছন্দ ধরে রেখেছেন মেসি, দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, সমালোচকদের জন্য সে প্রমাণ, কোচের আস্থার প্রতিদানও দিয়ে রাখলেন মেসি। ম্যাচ শেষের প্রতিক্রিয়ায় স্কালোনি তাই এই মহাতারকার প্রশংসার জন্য খুঁজে পেলেন না শব্দ।
“লিও জন্য আমি বাকরুদ্ধ। কী বলতে পারি? সে অবিশ্বাস্য। ২০ বছর ধরে সে এটাই করছে। ফুটবল সংশ্লিষ্ট সবাই তাকে খেলতে দেখতে চায় এবং এটা তারা উপভোগ করে।”
খুব সম্ভবত এটাই মেসির শেষ বিশ্বকাপ। এই সম্ভাবনা দলটির সমর্থকদের মধ্যে প্রিয় তারকাকে নিয়ে তৈরি করেছে বাড়তি আবেগ। ক্যানসাস সিটির স্টেডিয়ামে মেসিকে বারবার দলবদ্ধ হয়ে কুর্ণিশ করেছেন তারা। এমনকি, শেষ দিকে যখন নিকো পাসের বদলি হয়ে তিনি মাঠ ছাড়ছিলেন, তখনও।
অন্য সমর্থকরা আগের দিন জড়ো হয়েছিলেন মিল ক্রিক পার্কে, ‘মেসিয়াহ’ লেখা জার্সি পরে। এই ভেন্যুতে এতদিন সবাই পাদপ্রদীপের আলো থাকতে দেখেছেন ক্যানসাস সিটি চিফস দলের কোয়ার্টারব্যাক প্যাট্রিক ম্যাহোমেসকে, কিন্তু এখন সময় মেসির।
ম্যাহোমেস নিজেও মঙ্গলবার আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভিড়ের মধ্যে ছিলেন। এই এনএফএল তারকা সর্বকালের সেরা ‘গোট’ ইমোজি দিয়ে আর্জেন্টিনার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের একটি ভিডিও শেয়ার করেন, যেখানে মেসিকে নিয়ে বার্তায় লিখেন ‘দি গ্রেটেস্ট অব অল টাইম।’ এই বয়সে দলের জন্য আজও সমান গুরুত্বপূর্ণ, আজও ভীষণ প্রাসঙ্গিক মেসি তো সর্বকালের সেরাই!