রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে নরওয়েকে হারাল পর্তুগাল
উয়েফা নেশন্স লিগে দুই ম্যাচ খেলে দুটিতেই জিতল জর্জে জেসুসের দল।
টানা দ্বিতীয় ম্যাচে জালের দেখা পেলেন জোয়াও ফেলিক্স। বেশ কয়েকটি সুযোগ হারানোর পর, নরওয়ের আশা জাগালেন আর্লিং হলান্ড। কিন্তু তাদের গোলরক্ষকের মারাত্মক এক ভুলের সুযোগে ব্যবধান গড়ে দিলেন গসালো রামোস। উয়েফা নেশন্স লিগে জয়ের ধারা ধরে রাখল পর্তুগাল।
প্রতিপক্ষের মাঠে রোববার রাতে ‘এ’ লিগে চার নম্বর গ্রুপের ম্যাচটি ২-১ গোলে জিতেছে জর্জে জেসুসের দল। টানা দুই জয়ে ৬ পয়েন্ট নিয়ে গ্রুপের শীর্ষেও উঠল তারা।
৬০ শতাংশের বেশি সময় পজেশন রেখে গোলের জন্য ২২টি শট নেয় নরওয়ে, এর ছয়টি ছিল লক্ষ্যে। আর পর্তুগালের ১২ শটের চারটি ছিল লক্ষ্যে।
ডেনমার্কের বিপক্ষে ৩-২ গোলে জিতে আসর শুরু করা নরওয়ে এখন ৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে নেমে গেছে।
আগের ম্যাচে একাধিক সুবর্ণ সুযোগ নষ্ট করা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোকে বেঞ্চে রেখে একাদশ সাজান পর্তুগাল কোচ। ৪১ বছর বয়সি তারকার জায়গায় নামেন গন্সালো রামোস। আগের ম্যাচের শুরুর একাদশ থেকে আরও তিনটি পরিবর্তন করেন জেসুস।
ম্যাচের প্রথম উল্লেখযোগ সুযোগটি পায় নরওয়ে। ত্রয়োদশ মিনিটে সতীর্থের পাস ডি-বক্সে ফাঁকায় পেলেও, যথেষ্ট জোরে শট নিতে পারেননি হলান্ড। কোনোমতে বল পা দিয়ে বাইরে পাঠান দিয়োগো কস্তা।
এর চার মিনিট পরই এগিয়ে যায় পর্তুগিজরা। বাঁ থেকে পেদ্রো নেতোর পাস ডি-বক্সের মুখে প্রথম ছোঁয়ায় নিয়ন্ত্রণে নিয়েই, নিচু শটে ঠিকানা খুঁজে নেন ফেলিক্স।
গত সপ্তাহে তার একমাত্র গোলেই ওয়েলসকে হারায় পর্তুগাল। জাতীয় দলের হয়ে আল নাস্র তারকার গোল হলো ১৪টি, ৫৯ ম্যাচে।
২৪তম মিনিটে আরেকটি ভালো সুযোগ পান হলান্ড। ছয় গজ বক্সের বাইরে বল পেয়ে শট নেন তিনি, দারুণ ক্ষিপ্রতায় পা বাড়িয়ে সেটা আটকে দেন ডিফেন্ডার হবেন দিয়াস। ১৫ মিনিট পর নরওয়ের রেকর্ড গোলদাতার হেড কর্নারের বিনিময়ে আটকান কস্তা।
প্রথমার্ধের ব্যর্থতা কাটিয়ে ৫১তম মিনিটে দলকে সমতায় ফেরান হলান্ড। মার্টিন ওদেগোরের ফ্রি কিক ঝাঁপিয়ে আটকালেও, দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি কস্তা। ফিরতি বল ছয় গজ বক্সের মুখে পেয়ে হেডে পাশে বাড়ান পাত্রিক বার্গ, এবং আলতো শটে বাকি কাজ সারেন দলের সবচেয়ে বড় তারকা।
গত ম্যাচে ডেনমার্কের বিপক্ষে জোড়া গোল করেন হলান্ড। জাতীয় দলের হয়ে তার মোট গোল হলো ৬৫টি, ৫৭ ম্যাচে।
নরওয়ের স্বস্তি যদিও তিন মিনিটের বেশি স্থায়ী হয়নি। আরিয়ান হশল নিলাদের অমার্জনীয় এক ভুলের সুযোগে পর্তুগালকে আবার এগিয়ে দেন রামোস।
ডি-বক্সের বাইরে থেকে সতীর্থকে দুর্বল পাস বাড়ান গোলরক্ষক নিলাদ এবং দ্রুত পা বাড়িয়ে বল ধরেই তার মাথার ওপর দিয়ে শট নেন রামোস। পেছন ফিরে প্রাণপনে ছুটে গেলেও বলের নাগাল পাননি নিলাদ।
জাতীয় দলের হয়ে ২৯ ম্যাচে ১২ গোল হলো রামোসের।
চার মিনিট পর আবারও গড়বড় করে ফেলেন নিলাদ, ডি-বক্সের বাইরে গিয়ে বল ক্লিয়ার করতে পারেননি তিনি, বরং বল কেড়ে নিয়ে কোনাকুনি শটে আবার জালে পাঠান রামোস। তবে নিলাদ ও তার দলের ভাগ্য ভালো; ভিএআর সময় নিয়ে যাচাই করে অফসাইডের সিদ্ধান্ত জানায়। অফসাইডে ছিলেন রামোস।
আরেকটি গোলের জন্য শেষ ২০ মিনিটে একের পর এক আক্রমণ করে নরওয়ে, কয়েকটি হাফ চান্সও পায় তারা; কিন্তু কাজের কাজ আর করতে পারেনি গত বিশ্বকাপে কোয়ার্টার-ফাইনালে খেলা দলটি।
এ দিনই এই গ্রুপের আরেক ম্যাচে ওয়েলসকে ২-০ গোলে হারিয়েছে ডেনমার্ক। নরওয়ের সমান ৩ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলে তৃতীয় স্থানে আছে ডেনিশরা।
ওয়েলসের পয়েন্ট শূন্য।
