এতদিনের পরিশ্রমের ফল তুলতে উন্মুখ বাংলাদেশ কোচ

এদিনের প্রস্তুতিতে খেলোয়াড়দের অনেকে খোশ মেজাজে থাকলেও গোলাম রব্বানী ছোটনের সময় কেঁটেছে ভীষণ ব্যস্ততায়।

কাঠমান্ডু থেকে ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 Sept 2022, 03:09 PM
Updated : 14 Sept 2022, 03:09 PM

ভারতের বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়ের পরদিন সাবিনা-আঁখিরা মাঠের চারপাশে ঘুরছেন; হালকা অনুশীলনে সেরে সিঁড়িতে বসে সঙ্গে আনা ব্লুটুথ স্পিকারে গানও শুনছেন। ফটোগ্রাফারের ভূমিকায় দেখা গেল কৃষ্ণা-সানজিদাকে। বাংলাদেশ কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনের অবশ্য বসে থাকার সময় নেই; ভুটান ম্যাচের জন্য বাকিদের প্রস্তুত করতে মাঠে নেমে পড়লেন তিনি।

ভারতকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে সেমি-ফাইনালে ওঠার লক্ষ্য পূরণ হয়েছে বাংলাদেশের। আগামী শুক্রবার প্রথম সেমি-ফাইনালে ভুটানের মুখোমুখি হবে দল। এ ম্যাচ সামনে রেখে বুধবার কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামের পাশে আর্মি হেডকোয়াটার মাঠে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ।

সাফে ভুটানের কাছে কখনও হারেনি বাংলাদেশ। পাঁচ আসরে এ পর্যন্ত তিনবার মুখোমুখি হয়েছে দুই দল। তিন ম্যাচে বাংলাদেশের জয়গুলো যথাক্রমে ৯-০, ১-০ ও ২-০ গোলের। সবশেষ জয়টি ২০১৯ সালে নেপালের বিরাটনগরে পাওয়া।

গ্রুপ পর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে নেপালের কাছে ৪-০ গোলে হারে ভুটান। তিন দলের ‘বি’ গ্রুপে তারা দ্বিতীয় সেরা দল হয় শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৫-০ গোলে জিতে। সেখানে বাংলাদেশ গ্রুপ পর্বে হারায় পাকিস্তান, মালদ্বীপ ও প্রতিযোগিতার পাঁচবারের চ্যাম্পিয়ন ভারতকে।

দল নিয়ে আত্মবিশ্বাসের কমতি না থাকলেও ভুটানকে নিয়ে সতর্ক ছোটন। এই সতর্কতার কারণ অনেকটা পথ পেরিয়ে এসে ‘পচা শামুকে’ পা কাঁটার ভয়! ২০০৯ সালে বাংলাদেশ দলের হাল ধরেন তিনি। বর্তমান দলটির পেছনে ২০১৬ সাল থেকে নিরলস শ্রম দিয়ে যাচ্ছেন। ৫৪ বছর বয়সী এই কোচ এবারের সাফে সেই পরিশ্রমের ফল পেতে মুখিয়ে আছেন।

“গ্রুপ পর্বে আমরা যেটা চেয়েছিলাম, তা পূরণ হয়েছে। কিন্তু যে লক্ষ্য নিয়ে আমরা নেপালে এসেছি, তা এখনও পূরণ হয়নি। ২০১৬ সাল থেকে এই মেয়েদের নিয়ে কাজ করছি। তাদের গড়ে তুলছি। এতদিনের ত্যাগ ও পরিশ্রমের ফল এবার তুলতে হবে।”

২০১৬ সালে শিলিগুঁড়িতে সাফের ফাইনালে ভারতের কাছে হেরে রানার্সআপ হওয়া এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের সর্বোচ্চ প্রাপ্তি। ২০১৯ সালে নেপালের বিরাটনগরের আসরে ভারতের কাছে হেরেই সেমি-ফাইনাল থেকে বিদায় নিয়েছিল দল। কিন্তু এবার ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত অনুভব করছেন ছোটনের সহকারী মাহবুবুর রহমান লিটু।

“শিলিগুঁড়ির প্রতিযোগিতার সময় এই মেয়েদের বয়স ছিল একেবারে কম। অধিকাংশ খেলত অনূর্ধ্ব-১৬ দলে। ওখানে গিয়ে ওরা অথৈ সাগরে পড়েছিল। কিন্তু এখন ওরা পরিণত এবং গত ছয় বছর ধরে যে পরিশ্রম করেছে, তার ফলই এখন আসছে।“

ছয় বছর ধরে ক্যাম্প চালিয়ে যাওয়ায় বাফুফের কর্তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতাও ঝরল ছোটনের কণ্ঠে। বিশেষ করে বাফুফে সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন ও মহিলা উইংয়ের চেয়ারম্যান মাহফুজা আক্তার কিরণের প্রতি।

“একটা ভালো কিছু পাওয়ার আশা নিয়েই বাফুফে সভাপতি ২০১৬ সালে এই ক্যাম্পের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। তিনিও বুঝেছিলেন এটা করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। যখন এএফসির কোনো প্রতিযোগিতায় ফাইনাল রাউন্ড খেলতে যায়, আমরা মুখোমুখি হই উত্তর কোরিয়া, জাপানের মতো দলের বিপক্ষে, যারা বৈশ্বিক পর্যায়ে খেলে, তাদের বিপক্ষে খেলতে হলে আমাদের দীর্ঘমেয়াদী অনুশীলন করতে হবে, এলিট ট্রেনিং দরকার, এসব চাওয়া থেকে ২০১৬ সালে ওই ক্যাম্প ‍শুরু। সেটার ফলই এখন আসছে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক